বাহারছড়া ও সাবরাং ইউনিয়নে ভুমি দস্যু চক্র বেপরোয়া

প্রকাশ:| সোমবার, ২৭ নভেম্বর , ২০১৭ সময় ১০:২৭ অপরাহ্ণ

অসহায় ভুমি মালিকদের জমি দখলে নিতে মরিয়া
শামসু উদ্দীন, টেকনাফ ॥
টেকনাফ-কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সড়ক চালু হওয়ার পর থেকে সৈকত এলাকার আশপাশে জায়গা জমি উচ্চ দরে বেচা বিক্রি হওয়ায় দিন দিন ভুমি দস্যুর অপতৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে সাধারণ গরীব ভুমি মালিকরা পড়েছে বিপাকে। ফলে স্থানীয় আইনশৃংখলা অবনতির আশংকা করছেন সচেতনমহল।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জায়গা জমির মালিকানা দাবী এবং বিরোধ নিয়ে গ্রাম্য আদালত ও থানায় প্রতিনিয়ত বিচার প্রার্থীরা জড়ো হচ্ছে। এ নিয়ে পক্ষ বিপক্ষের মধ্যে হামলা মামলা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে , সাবরাং, বাহারছড়া ও টেকনাফ সদর ইউনিয়নের সৈকত এলাকায় এধরনের ঘটনা বেড়েই চলেছে। টেকনাফ বাহারছড়া একটি পর্যটন ও প্রত্যন্ত অঞ্চল। অধিকাংশ মানুষ অশিক্ষিত ও গরীব। যার কারনে থানা বা আদালতে যাওয়ার সামর্থ্য নেই। একে পুঁজি করে এক শ্রেণীর ভুমি দস্যু দালাল চক্র অসহায় মানুষের ভুমি দখল করতে ছলেবলে কৌশলে মেতে উঠেছে। একপর্যায়ে তাদের কাছে সাধারণ ভুমি মালিক জিম্মি হয়ে পড়েছে। এমনকি জমির প্রকৃত মালিকরাও এসব ভুমি দস্যূ চক্রদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ছে। এছাড়াও ভুমি দস্যু দালালরা প্রতিপক্ষদের কাছ থেকে জমি ক্রয় করে অপর পক্ষের জমির মাতাখিলা জবর দখলের চেষ্টা চালায়। এনিয়ে অহরহ ঘটনা অতীতেও ঘটেছে। এদিকে বড় ডেইল মৌজার মৃত নাছির উদ্দিনের পুত্র জহির উদ্দিনের মালিকানাধীন বি, এস ৭০ নং খতিয়ানের বি, এস ৩৪৬২, ৩৪৬১ দাগদ্বয়ের আন্দরে ৮০ শতক দখলীয় জমি নবী হোছন ও আলী আকবর মুন্সি গত রবিবার জোর পূর্বক জবর দখলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ৪৯ বছর ধরে মালিকানাধীন জোত স্বত্ত্বীয় জমি জোর করে খুঁটি পুঁতে দখলে নিয়েছে তারা। এতে জহির উদ্দীনের পুত্র সালাহ উদ্দীন বাধা দেওয়ায় জনবল নিয়ে তার উপর হামলার চেষ্টা করে ওই ভুমি দস্যূ চক্র। এব্যাপারে সালাহ উদ্দীন টেকনাফ মডেল থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি আরো জানান, ১৯৬৮ সালে তোরাব আলী হইতে ৬৫৯ নং, ৬৬০ নং, ৬৬১ নং ও ৬৬২ নং দলিলাদীমুলে ইসলাম খাতুন, নাছির উদ্দিন ও তার পিতা জহির উদ্দীন জমি ক্রয় করে এবং পরবর্তীতে আর, এস ও বি,এস তাদের নামে চুড়ান্ত হই। সে মতে বিগত ৪৯ বছর ধরে উক্ত জমি ভোগ দখল করে আসছে। হঠাৎ করে সন্ত্রাসী কায়দায় সম্প্রতি উক্ত খতিয়ানের ৮০ শতক জমি জবর দখলে নেয়। বিষয়টি প্রশাসনের তড়িৎ হস্থক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
এব্যাপারে অভিযুক্ত আলী আকবর মুন্সির কাছে (০১৮১৪৭২৬৯৪৮) মুঠো ফোনে জানতে চাইলে রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এদিকে জমি বিরোধ কে কেন্দ্র করে যে কোন মুহুর্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করছেন সচেতন মহল।
জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও জবরদখল ব্যাপারে জানতে চাইলে টেকনাফ সহকারি কমিশনার (ভুমি) প্রনয় চাকমা জানান, প্রতিদিন জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ বিষয়ে একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সংক্রান্ত বিষয়ে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।