বাশেঁর সাকো দিয়ে পারাপার: দূর্ভোগের অন্ত নেই

প্রকাশ:| রবিবার, ২৮ আগস্ট , ২০১৬ সময় ১০:৪১ অপরাহ্ণ

বাঁশের সাকো ২কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া প্রতিনিধি:
উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ও রতœাপালং ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থার কিছুটা উন্নত হলেও অন্য ৩ ইউনিয়নে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত হয়ে আসছে যুগযুগ ধরে। বিশেষ করে উপজাতি অধ্যুষিত জনপদ জালিয়াপালং ইউনিয়নের মনখালী, পালংখালী ইউনিয়নের তেলখোলা, মোছারখোলা এলাকার গ্রামীণ জনপদের অসংখ্য খাল, চড়া, নালা, জলাশয় ও ভাঙ্গন পারাপর করছে বাঁেশর সাকো দিয়ে। গ্রামবাসীর অভিযোগ জাতীয় ও ইউপি নির্বাচনে প্রার্থীরা এসব জনপদ উন্নয়নের প্রতিশ্র“তি দিয়ে ভোট আদায় করলেও নির্বাচনের পর আর কারো দেখা মিলেনা।
সরেজমিন পালংখালী ইউনিয়নের তেলখোলা ঘুরে স্থানীয় উপজাতি সম্প্রদায়ের লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, থাইংখালী থেকে তেলখোলা পর্যন্ত মাত্র সাড়ে ৩ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার পূর্বক যানবাহন চলাচলের উপযোগী করে দেওয়ার জন্য এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবী থাকা সত্ত্বেও ওই সড়কের উপর কোন জনপ্রতিনিধির সু-নজর পড়েনি। যার ফলে বর্ষাকালে তেলখোলা মোছারখোলার মাধ্যমিক স্তরের প্রায় শতাধিক ছাত্রছাত্রীকে ৬ কিলোমিটার পথ আসা যাওয়া করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে হয়। স্থানীয় বনবিভাগের হেডম্যান বাউনু চাকমা জানান, একমাত্র অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এখানকার মানুষ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সুপিয় পানি, উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করণসহ সার্বিক বিষয়ে অভাব জনিত কারণে এখানকার মানুষ নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত হয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে। স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মানিক চাকমা জানান, ইউনিয়ন পরিষদের বার্ষিক উন্নয়ন বরাদ্ধে বৈষম্যতার কারণে তিনি তেলখোলা মোছারখোলা এলাকায় বিগত ৫ বছর কোন উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন করতে পারেনি। যে কারণে বিগত ইউপি নির্বাচনে স্থানীয় ভোটারেরা তাকে প্রত্যাখান করেছে।
বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে অত্র এলাকার পাড়া প্রতিবেশী ও সাধারণ জনগণকে সীমাহীন দূর্ভোগের যাতাকলে পড়ে দিনাতিপাত করতে হয় বলে স্থানীয় আ’লীগ নেতা এম এ মনজুর জানান, গত বর্ষা মৌসুমে একমাত্র বোনের বিয়ের দাওয়াত কার্ড করতে গিয়ে আব্বাস উদ্দিন নামের এক মাদ্রাসা ছাত্র বাশেঁর সাকো থেকে পড়ে নিখোঁজ হয়ে যায়। ২৪ ঘন্টা পর স্থানীয় গ্রামবাসী তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। এছাড়াও হলদিয়াপালং ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি সদস্য সরওয়ার আলম বাদশা অভিযোগ করে জানান, গোবিশন ঝোরার উপর নির্মিত সুইচ গেইটটি ধ্বসে পড়ার কারণে অত্র এলাকার ৫ গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়। এমতাবস্থায় বাঁশের সাকো দিয়ে কোন রকম পারাপার হলেও তা ক্ষণস্থায়ী তিনি জানান, উক্ত সুইচ গেইটটি পুণ: নিমার্ণ বা সংস্কারের ব্যাপারে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেও কোন কাজ হয়নি। জালিয়াপালং ইউনিয়নের মাদারবনিয়া গ্রামের থোয়ামং চাকমা জানান, অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে নৃতাত্তিক জনগোষ্ঠির অধিকাংশ ছেলে মেয়ে প্রাথমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। স্থানীয় চেয়ারম্যান নুরুল আমিন চৌধুরী এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, গত ৫ বছরে এলাকার কোন উন্নয়ন হয়নি। যে কারণে গ্রামীণ জনপদের অসংখ্য মানুষ নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে।


আরোও সংবাদ