বালুবাহি যান্ত্রিক নৌযানে প্রবেশে হালদায় বাঁধাগ্রস্থ হবে মা মাছ

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| শনিবার, ১৭ মার্চ , ২০১৮ সময় ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ

নদীর মুখে  উৎপাত
আসছে প্রজনন মৌসুম

শফিউল আলম, রাউজান ঃহালদা-কর্ণফুলী নদীর সংযোগে বালুবাহি যান্ত্রিক নৌযান চলাচল আর বালু উঠানোর কাজে ড্রেজারে ব্যবহার বন্ধ হচ্ছে না। এলাকার জনসাধারণের মতে এই দুই নদির সংযোগে থাকা রাউজান নোয়াপাড়া মৌজার ৪০ একরের বালু মহলটি বছরের পর বছর হুমকির মধ্যে রেখেছে প্রকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীর মৎস্য সম্পদকে। নতুন বাংলা বর্ষে এই বালু মহলটি জেলা প্রশাসন আবারও ইজারার তালিকায় রাখায় হালদার মা মাছের উপর এই হুমকি আগের মতই থেকেই যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নোয়াপাড়া মৌজার যে বালু মহলটি ইজারা দেয়ার তালিকায় রাখা হয়েছে, সেই বালু মহল থেকে প্রতিনিয়ত বালু উঠানো হয় ড্রেজারের মাধ্যমে। এখান থেকে উঠানো বালু পরিবহন করা হয় বড় বড় যান্ত্রিক বোটে। এসব বালুবাহী নৌযানের গন্তব্য থাকে হালদার মুখ পাড় হয়ে কালুঘাটসহ নদীর বিভিন্ন পয়ন্টে। হালদা নদী ও প্রাণি সম্পদ নিয়ে গবেষনায় থাকা বিশেষজ্ঞদের মতে প্রজনন মৌসুমে সংযুক্ত নদ- নদী থেকে ডিম সম্ভবা মা মাছ হালদায় আসে নিরাপদ ডিম প্রসবের লক্ষ্য নিয়ে। নদীর প্রবেশ মুখে যান্ত্রিক নৌযানের উৎপাত থাকলে এই নদীতে মা মাছের প্রবেশ বাঁধাগ্রস্থ হবে। আবার যান্ত্রিক নৌযানের ডুবন্ত পাখার আঘাতে মাছ মারা পড়ারও আশংকা থাকছে। উল্লেখ্য যে, গত কয়েক মাসে হালদা নদীতে ১৭টি ডলফিনসহ মা মাছ মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিশেষজ্ঞরা এসব জলজ প্রাণি মারা যাওয়ার কারণ হিসাবে নৌযান ও ড্রেজারের ডুবন্ত পাখার আঘাতসহ পানি দুষণকে দায়ি করে আসছেন। হালদায় জলজ প্রাণি মারা যাওয়ার ঘটনায় প্রধান মন্ত্রীর দপ্তর থেকেও উদ্বেগ প্রকাশ করে কারণ অনুসন্ধানের নিদ্দেশনা জারি করা হয়। প্রশাসনের বৈঠকে হালদা নদীর বালু মহল ইজারা না দেয়ারও সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে জানা যায়। তবে হালদা ও কর্ণফুলীর সংযোগে থাকা নোয়াপাড়া মৌজার বালু মহলটি ইজারার তালিকায় দেখে হালদার মৎস্য সম্পদ সুরক্ষায় আন্দোলনকারীরা হতাশা প্রকাশ করেছেন। তারা বলেছেন নদীর মুখে মাছের প্রতিবন্ধক রেখে হালদার জলজ প্রাণি সুরক্ষা করা সম্ভব নয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হালদা নদী ও মৎস্য সম্পদ বিশেষজ্ঞ ড.মঞ্জুরুল কিবরিয়ার মতে বালু মহল ইজারা দেয়া যেতে পারে। তবে বালু উঠানো আর পরিবহন কাজে যান্ত্রিক ব্যবহার নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন। তিনি হালদার মুখে যান্ত্রিক নৌযানের তৎপরতা মাছের জন্য হুমকির সৃষ্টি করছে বলে জানান।
এলাকার বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, নোয়াপাড়া মৌজার আলোচিত বালু মহলের ইজারা পেতে এখন একাধিক প্রভাবশালী তৎপর রয়েছে। বিশাল ওই বালু মহলটির নিয়ন্ত্রন নিয়ে গত কয়েক বছরে পক্ষ বিপক্ষে অনেকবার সংঘাত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সূত্র মতে গত ১৬ সালে বালু মহলটি ইজারা নিয়েছিল মাওয়া এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। অভিযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি সরকারের শর্ত মেনে ইজারা নিলেও ওই সময় তারা বালু উঠানোর সুযোগ পাননি প্রতিপক্ষ একটি প্রভাবশালী মহলের বাঁধার কারণে। বালু বঞ্চিত এই প্রতিষ্ঠানটি এই নিয়ে উচ্চ আদালতে একটি মামলা করে। যেটি এখন বিচারাধীন আছে। জানা যায়, প্রশাসনের পক্ষে পত্রিকায় বালু মহল ইজারার প্রকাশিত বিজ্ঞাপনের উল্লেখ রয়েছে যে সমস্ত বালু মহলের বিষয়ে মামলা চলমান রয়েছে সেসব বালু মহলে ইজারা বহির্ভূত থাকবে। ওই বালু মহলের বিষয়ে মামলা থাকার পরও ইজারা তালিকায় দেখে বিষ্ময় প্রকাশ করেছেন
১৬ সালে ইজারা নিয়ে বালু বঞ্চিত ইজারাদার প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মফিজুল ইসলাম। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন ১৪২৩ বাংলা সনে জেলা প্রশাসনের সব শর্ত পূরণ করে ও সরকারি কোষাগারে টাকা জমা দিয়ে আমরা বালু মহলটি ইজারা নিয়েছিলাম। ওয়ার্ড অডার নিয়ে ওই বালু মহলে গেলে আগে থেকে দখলে থাকা লোকজন তাদের সেখানে দাঁড়াতে দেয়নি। তাদের দাবি ছিল প্রশাসন যে জায়গা ইজারা দিয়েছে সেটি সেখানে নয়। বাঁধা পাওয়ার পর ইজারাকৃত বালু মহল চিহ্নিত করে দিতে মাওয়া এন্টারপ্রাইজ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে বার বার অনুরোধ করেছিলাম। সারা পেতে ব্যর্থ হয়ে আমরা এখন আদালতে স্মরণাপন্ন হয়েছি। তার দাবি কোনো বিচারাধীন মামলার জায়গা ইজারা দেয়ার বিধান নেই।
কর্ণফুলী নোয়াপাড়া মৌজার বালু মহলের ইজারা নিয়ে চট্টগ্রামের এডিসি রেভিনিউ দেলোয়ার হোসেন এর সাথে ইজারা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে কথা বললে তিনি জানিয়েছিলেন রাউজানের কর্ণফুলী ও হালদার বালু মহল ইজারার বিষয়ে দেখেন রাউজান উপজেলা প্রশাসন ।


আরোও সংবাদ