বার্ডফ্লু: অর্ধশত কাকের মৃত্যু

প্রকাশ:| বুধবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি , ২০১৬ সময় ১১:৪৯ অপরাহ্ণ

অবশেষে সম্প্রতি এলাকায় প্রায় অর্ধশত কাকের মৃত্যুর কারণ শনাক্ত করা গেছে। এইচ৫এন১ ভাইরাস জনিত অ্যাভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার (বার্ডফ্লু) কারণে এগুলোর মৃত্যু হয়েছে। সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা বিভাগ (আইইডিসিআর) এ বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে।

মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের লাইভস্টক বিভাগের গবেষণা পরিচালক ড, যতীন্দ্রনাথ দাশ যে প্রতিবেদনটি গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন ফর অ্যানিমেল হেল্থে (ওআইই) পাঠিয়েছেন সেখানে বলা হয়েছে :

অর্ধশত কাকের মৃত্যু অর্ধশত কাকের মৃত্যু1রাজশাহী শহর, সদর এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় বার্ডফ্লু সংক্রমণ শুরু হয়েছে গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে। তবে চার তারিখের মধ্যে সংক্রমণ রোধ করা গেছে। এটি H5N1 টাইপ বার্ডফ্লু যা বিশ্বে পাখিপ্রজাতির মধ্যে এক নতুন আতঙ্ক।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, এই বার্ডফ্লু সংক্রমণ হয়েছে শুধু কাকের মধ্যে। ৪০টি কাক এতে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করা গেছে এবং সবক’টিই মৃত। তবে এখন আর এ নিয়ে আর আতঙ্কের কোনো কারণ নেই।

এর আগে বাংলাদেশে সর্বশেষ ২০১৪ সালের জুনে এই ভাইরাসের প্রাদূর্ভাব দেখা গিয়েছিল।

বিস্তারিত তথ্য মোতাবেক, পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকে কাকের মৃত্যু শুরু হয়। এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগরীর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালসহ বিভিন্ন জায়গায় কাকের মৃত্যু শুরু হয়। ৪ ফেব্রুয়ারি কাকের মৃত্যু আরো বিস্তৃত হয়। এরপরে বিভিন্ন সংগঠন ঘটনাস্থল থেকে নমুন সংগ্রহ করে।

১০ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়, কাকের মৃত্যুর কারণ এইচ৫এন১ ভাইরাস। ১৫ ফেব্রুয়ারি এটা নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এভিয়েন ইনফ্লুয়েঞ্জা বা বার্ড ফ্লু প্রথম দিকে শুধু পাখি প্রজাতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও ইদানীং এটিতে মানুষও ব্যাপকভাবে আক্রান্ত হচ্ছে।

এদিকে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানায়, এ ব্যাপারে একটি বিশেষ কমিটিও গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই কমিটি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল ক্যাম্পাস পরিদর্শন করবে।

গঠিত কমিটি রাজশাহী মেডিকেল হাসপাতাল এলাকা পরিদর্শন করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও নিরীক্ষণ করবে। কাক থেকে অন্য কোনো প্রাণি অথবা মানবদেহে এ ভাইরাস যাতে কোনো অবস্থাতেই বিস্তার না ঘটাতে পারে সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হতে পারে। এ ছাড়া কাকের দেহে কীভাবে এই বিপজ্জনক ভাইরাস সংক্রমিত হয়েছে সেটাই কমিটি খতিয়ে দেখবে।

প্রসঙ্গত, ফেব্রুয়ারি মাসের শুরু থেকে রামেক হাসপাতাল এলাকায় বিপুল সংখ্যক কাকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনা নিয়ে নিউজপোর্টাল  কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, কাকগুলো আকস্মিকভাবে গাছ থেকে মাটিতে পড়ে মারা যাচ্ছে। প্রচার ও প্রকাশের পর প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর মৃত কাকের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় গবেষণাগারে পাঠায়।

এর আগে, ২০১৪ সালের জুন মাসে এ ভাইরাসের প্রাদূর্ভাব বাংলাদেশে দেখা দিয়েছিল। এভিয়েন ইনফ্লুয়েঞ্জায় বাংলাদেশে মানুষের মৃত্যুর ঘটনা না ঘটলেও এ পর্যন্ত ৮ জনের দেহে এই ভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে।


আরোও সংবাদ