বারান্দা ছেড়ে কক্ষে ফিরেছেন সেই পুলিশ সদস্যরা

প্রকাশ:| সোমবার, ১৯ ডিসেম্বর , ২০১৬ সময় ১১:৫০ অপরাহ্ণ


নিউজচিটাগাং:চট্টগ্রাম আদালতে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করা চার পুলিশ সদস্য এক মাস ধরে বারান্দায় দায়িত্ব পালন করছিলেন। সোমবার এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর নির্দিষ্ট কক্ষটিতে পুলিশ সদস্যদের থাকার ব্যবস্থা হয়েছে।

এর আগে চট্টগ্রাম মহানগর আদালতের হাজতখানার এক পুলিশ সদস্য জানিয়েছিলেন, আদালতপাড়ায় রাতে থাকার জন্য একটা কক্ষ পেয়েছিলেন তারা। কিন্তু গত নভেম্বরের মাঝামাঝিতে সে আশ্রয়টুকুও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। কক্ষটি বর্তমানে কী কাজে ব্যবহার হচ্ছে- প্রশ্ন রাখতেই ক্ষুব্ধ পুলিশ সদস্যের অভিযোগ, ‘আদালতে হাজিরা দিতে আসা আসামিরা সেখানে বসে ফেনসিডিল ও ইয়াবা সেবন করে।’

আদালত ভবনের বারান্দায় ছিলেন এটিএসআই হাসান, কনস্টেবল রবিউল, বরেন্দ্র, সিদ্দিক ও শাহ আলম। এদের মধ্যে হাসানকে অন্যত্র বদলি করা হলেও অন্যরা হাজতখানার দায়িত্বে রয়েছেন।

আদালতের নিরাপত্তার অংশ হিসেবে কয়েক বছর আগে মহানগর পুলিশের হাজতখানার পুলিশ সদস্যদের থাকার জন্য নতুন আদালত ভবনের নিচতলায় একটি কক্ষ বরাদ্দ দেওয়া হয়। এতে মৌখিকভাবে সম্মতি দেন চট্টগ্রামের তৎকালীন সিএমএম মশিউর রহমান ও নগর পুলিশের তৎকালীন এডিসি (প্রসিকিউশন) মুত্তাকী ইবনু মিনান। মহানগর হাজতখানার পাশের ওই কক্ষে দীর্ঘদিন ধরে রাতে ঘুমাতেন পুলিশ সদস্যরা।

অভিযোগ উঠেছে, গত নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে জোরপূর্বক পুলিশ সদস্যদের ওই কক্ষ থেকে বের করে দেন চট্টগ্রাম মহানগর হাজতখানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআই সাইফুল ইসলাম সাইফ। এরপর থেকে পাঁচ পুলিশ সদস্য রাত কাটাচ্ছেন আদালতের বারান্দায়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (হাজত) পদে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তারা গত পাঁচ বছরে সহকর্মীদের বিরুদ্ধে পাঁচটি রিপোর্ট করেননি। অথচ গত পাঁচ মাস আগে দায়িত্ব নিয়ে এসআই সাইফুল ইসলাম সাইফ সহকর্মীদের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করেছেন ৫০টিরও বেশি। এনিয়ে চাপা ক্ষোভ রয়েছে হাজতখানার পুলিশ সদস্যদের মধ্যে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী এক পুলিশ সদস্য বলেন, ‘আদালত ভবনে থাকার জন্য জেলা পুলিশ ও মহানগর পুলিশ সদস্যদের জন্য দুটি কক্ষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। জেলা পুলিশের জন্য বরাদ্দকৃত কক্ষে তারা থাকলেও মহানগর পুলিশের কক্ষ থেকে আমাদেরকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। আমাদের অনুপস্থিতিতে এমনভাবে উচ্ছেদ করা হয়েছে যে, পরে অনেক জিনিসপত্র আমরা পাইনি। এনিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেও লাভ হয়নি।’

ভুক্তভোগী আরেক পুলিশ সদস্য বলেন, ‘কষ্টের টাকার বেশির ভাগই বাড়িতে পাঠাতে হয়। তাই নতুন করে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকাও সম্ভব হচ্ছে না। রাতের কনকনে হাওয়া যেন কাঁটার মতো বিঁধে শরীরে। বছর দুয়েক আগে শীতের রাতে আদালতের বারান্দায় ঘুমাতে গিয়ে ঠা-ায় জেলা পুলিশের এক সদস্যের মৃত্যু হয়েছিল।’

এদিকে পুলিশ সদস্যদের কক্ষ থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর হাজতখানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআই সাইফুল ইসলাম সাইফ বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।’

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্তী বলেন, ‘বদলি হওয়ার পরও কিছু পুলিশ সদস্য আদালতে অবস্থান করে অপরাধ কর্মকা- করছিল। তাই তাদেরকে কক্ষ থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে, এরপর তারা বারান্দায় গিয়ে থাকছেন। আদালতে দায়িত্ব পালনকারী অন্য পুলিশ সদস্যরা নির্ধারিত কক্ষটিতে থাকতে পারছেন।’

বর্তমানে আদালতের হাজতখানার দায়িত্ব পালন করা কনস্টেবল রবিউল, বরেন্দ্র, সিদ্দিক ও শাহ আলম এখনো বারান্দায় থাকছেন। তাদেরকে বদলি করা হয়েছে কি নাÑজানতে চাইলে নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্তী বলেন, ‘কাগজপত্র দেখে তারপর জানাতে পারব।’

এদিকে প্রায় এক মাস ধরে চার পুলিশ সদস্য চট্টগ্রাম আদালতের বারান্দায় ঘুমানোর সংবাদ প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে। সোমবার থেকে নির্দিষ্ট কক্ষটিতে পুলিশ সদস্যদের থাকার ব্যবস্থা হয়েছে।