বামফ্রন্ট সরকারের ৯৯৭ একর জমি অধিগ্রহণ বৈধ নয়

প্রকাশ:| বুধবার, ৩১ আগস্ট , ২০১৬ সময় ১১:২৯ অপরাহ্ণ

সিঙ্গুরের টাটার ন্যানো গাড়ির কারখানা গড়তে বামফ্রন্ট সরকারের ৯৯৭ একর জমি অধিগ্রহণ বৈধ নয় বলে এক রায়ে জানিয়েছে দিয়েছেন ভারতের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট। আজ বুধবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি গোপাল গৌড়া এবং বিচারপতি অরুণ মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চ এ ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে।

সুপ্রিম কোর্ট রায়ে বলেছেন, ১২ সপ্তাহের মধ্যে কৃষকদের ওই জমি ফিরিয়ে দিতে হবে। পাশাপাশি যেসব কৃষক সেদিন ক্ষতিপূরণের টাকা নিয়েছিলেন, তাঁদের সেই টাকা আর ফেরত দিতে হবে না। বরং যাঁরা টাকা নেননি, তাঁদেরও সেই সমমূল্যের টাকা দিতে হবে। তবে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কোনো নির্দেশ দেননি সুপ্রিম কোর্ট।

টাটার একলাখি মূল্যের ন্যানো গাড়ি তৈরির জন্য ২০০৬ সালে বামফ্রন্ট সরকার ৯৯৭ একর জমি অধিগ্রহণ করে তা টাটা গোষ্ঠীকে লিজ দিয়েছিল। তখন এই জমির মধ্যে অন্তত ৪০০ একর জমির মালিকেরা এই জমি দিতে আপত্তি তোলে। এরপর ওই অনিচ্ছুক জমিদাতাদের নিয়ে রাজ্যব্যাপী আন্দোলন গড়ে তোলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই দাবির আদায়ের লক্ষ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হুগলির সিঙ্গুরে একটানা ২৬ দিন অনশন আন্দোলনও করে। মমতার এই আন্দোলনের প্রথম ফসল তোলে তৃণমূল ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে। মমতা বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হন।

এরপরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনিচ্ছুক কৃষকদের জমি ফিরিয়ে দিতে উদ্যোগ নিলে টাটা গোষ্ঠী আদালতের দ্বারস্থ হয়। হাইকোর্ট হয়ে জমি অধিগ্রহণ মামলা সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। মমতা বারবার দাবি করে ওই জমি অধিগ্রহণ অবৈধভাবে হয়েছে। সেই দাবিকেই মেনে নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট আজ জানিয়ে দিয়েছেন, বামফ্রন্ট সরকারের আমলে জমির অধিগ্রহণ বৈধ হয়নি। অবৈধভাবে সেদিন জমির অধিগ্রহণ করা হয়েছিল।
এদিকে এই রায় ঘোষণার পর সিঙ্গুরজুড়ে আনন্দের বন্যা বইছে। মেতে উঠেছে উৎসবে। খুশি সিঙ্গুরের কৃষকেরা। খুশির হাওয়া বইছে তৃণমূল কংগ্রেসে।

সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, এ জয় সিঙ্গুরবাসীর, সিঙ্গুরবাসীর আন্দোলনের। এ জয় সত্যের। মা মাটি মানুষের জয়। এদিকে এই রায় ঘোষণার পর পশ্চিমবঙ্গজুড়ে অকাল হোলিতে মেতে উঠেছেন তৃণমূলের নেতা-কর্মী–সমর্থকেরা। এ জন্য আগামী ২ সেপ্টেম্বর রাজ্যজুড়ে সিঙ্গুর উত্সব পালনের ডাক দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, প্রতিটি জেলা, মহকুমা, থানা এবং পঞ্চায়েত এলাকায় সারা দিনব্যাপী পালিত হবে এই সিঙ্গুর উৎসব।