বান্দরবানের নানা খবর

প্রকাশ:| শনিবার, ২ নভেম্বর , ২০১৩ সময় ১১:০৬ অপরাহ্ণ

অপহৃত ২৪জন ব্যবসায়ী মুক্ত
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার কুরুকপাতা এলাকা থেকে অস্ত্রের মুখে অপহৃত ২৪জন ব্যবসায়ীকে মুক্তি দিয়েছে শসস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন ম্রো ন্যাশনাল পার্টি (এমএনপির) সদস্যরা। সেনাবাহিনী সুত্র ও স্থানীয়রা জানায়,শনিবার সকাল ১০টার দিকে চকরিয়ার ২৪জন ব্যবসায়ী ২টি নৌকা যোগে মাতামূহুরী নদী পথে মালামাল ক্রয়ের জন্য আলিকদম উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা পোয়ামুহুরী কুরুপ পাতা বাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। দুপুর ১টার দিকে নৌকা দুটি জানালী পাড়া এলাকার পাইন ছড়া নামক স্থানে পৌছলে প্রায় ৭০/৮০জন শসস্ত্র ম্রো ন্যাশনাল পার্টি(এমএনপির) সদস্য ফাঁকা গুলি বর্ষন করে ২৪জন ব্যবসায়ীকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে গভীর জঙ্গলে নিয়ে যায়। প্রায় ২ঘন্টা পর দুপুর ৩টার দিকে তাদের কাছ থেকে নগদ টাকা, মোবাইল ও ঘড়ি ছিনিয়ে নিয়ে ২২জনকে ছেড়ে দেয়। পরে সেনা বাহিনীর অভিযানের মুখে বিকাল ৪টার দিকে বাকি ২ব্যবসায়ী মুক্তি বাধ্য হয় অপহরণকারীরা। এবিষয়ে আলিকদম সেনা বাহিনী জোনের অধিনায়ক লে: কর্ণেল আলমগীর কবির সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ২৪জন ব্যবসায়ীকে অপহরণের দুই ঘন্টা পর ২২জনকে মুক্তি দিলেও কারাগারে আটক থাকা এমএনপির উপ-অধিনায়ক লং ইয়াং ম্রোকে মুক্তির দাবীতে ২ব্যবসায়ীকে বন্দি করে রাখে অপহরণকারী দল। বিকাল ৪টার দিকে সেনা বাহিনী অভিযানের মূখে দুই ব্যবসায়ীকে ছেড়ে দিয়ে অপহরণকারী দল পালিয়ে যায়। তিনি আরো জানান, সেনা বাহিনীর সদস্যরা মুক্তি পাওয়া ২৪ব্যবসায়ীকে নিয়ে আলীকদম সদর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছে। তারা পৌছালে ঘটনার বিস্তারিত বিষয়ে জানা যাবে

সমবায়ের সামাজিক নিরাপক্তা শ্লোগান নিয়ে যথাযথ মর্যাদায় ও সর্ম্মান প্রদর্শণ রেখে জাতীয় ও সমবায় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে ৪২তম জাতীয় সমবায় দিবস ২০১৩ পালন করেনb2.11
সমবায়ের সামাজিক নিরাপক্তা শ্লোগান নিয়ে যথাযথ মর্যাদায় ও সর্ম্মান প্রদর্শণ রেখে জাতীয় ও সমবায় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে ৪২তম জাতীয় সমবায় দিবস ২০১৩ পালন করেন।উপজেলা সমবায় কার্য়ালয়ের কর্মকর্তাদের আয়োজনের শনিবার দিনব্যাপী কর্মসূচীর মধ্যে সকাল ১০ টায় এক বর্ণাঢ্য র‌্যালী উপজেলা পরিষদ থেকে শুরু করে থানছি বাজারে ঘুরে উপজেলা মিলনায়তনের শেষ হয়।উপজেলা মিলনায়তনের সমবায় অফিসার মোঃ গোলাম মাসুদ কুতুবী সঞ্চালন ও স্বাগত বক্তব্য মধ্য দিয়ে আলোচনা সভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার শহীদ মোহাম্মদ ছাইদুল হক এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বান্দরবান জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ ফয়েজ আহম্মদ প্রধান অতিথি বক্তব্য রাখেন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান খামলাই ম্রো,নতুন যোগদানকৃত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আবরউল হাছান তালুকদার, ভাইস্ চেয়ারম্যান অলসেন ত্রিপুরা,মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হাঁবৈরুং ত্রিপুরা,উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের সহকারী কর্মকর্তা শন্তোজ কুমার ভূমিক, একটি খামার একটি বাড়ীর প্রকল্পের কর্মকর্তা মোঃ আলমগীর হোসেন, মোধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহদাৎ হোসেন,এনজিু সংস্থা সিসিডিবি এর সম্মনয়কারী জ্যোতি ত্রিপুরা,ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমিতি সভাপতি মোঃ মহসিন প্রমুখ ।
বক্তারা বলেন,সমবায় মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচন,সামাজিক নিরাপক্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখার এবং দেশ ও দশের সেবায় অগ্রনী ভূমিকা পালনের আহবান জানান।আলোচনা সভা শেষে বান্দরবান জেলার তথ্য সম্প্রচার অধিদপ্তরে কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের কর্তৃক বাল্য বিবাহ,শিশু শিক্ষা,কোমলমতি শিশুদের পরিস্কার পরিছন্নতা রাখার হাত ধোয়া সহ বিভিন্ন বিষয়ের চলচিত্র প্রদর্শীত করেন।

সমবায় শক্তি,সমবায় মুক্b2.11
বান্দরবান পার্বত্য জেলার নাই্যংছড়ি উপজেলায় শনিবার ০২ নভেম্বর ‘ সমবায় শক্তি,সমবায় মুক্তি । সমবায়ে সামাজিক নিরাপত্তা ’এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে ৪২ তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত হয়েছে । এই উপলে সমবায় কার্যালয় কর্তক আয়োজিত আলোচনা সভায় নাই্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহমেদ জামিল সভাপতির বক্তব্যে বলেন,- নিজেকে নিজের পায়ে দাড়াঁতে হবে । সব সময় মেম্বার-চেয়ারম্যানসহ সরকারের দিকে থাকিয়ে থাকলে চলবে না । সামাজিক পুজি বিনিয়োগ করতে হবে । সরকার ছাড়া ও সমাজের বা এলাকার অনেক কাজ নিজেরা এগিয়ে গিয়ে ,আমরা স¤প্রদান করতে পারি । যেমন এলাকার ছোট-খাটো সেতু,আর্বজনা পরিস্কার ইত্যাদি । এবং নিজেরা সমিতি গঠন করে ওই অর্থ দিয়ে নানান ব্যবসায়িক কাজে বিনিয়োগ করতে পারি । সমবায়ের মূল নীতির একটি হল,-একতা। একতা না থাকলে সমবায় সমিতি দীর্ঘ স্থায়ী হবে না । ফান্সের মত দেশ এগিয়ে গেছে সমবায় সমিতি গঠনের মাধ্যমে । বাংলাদেশে সমবায়ের অগ্রগতিতে কুমিল্লায়সহ বিভিন্ন স্থানে আকতার হামিদ খান গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন । সমবায় চলছে নিজস্ব গতিতে । ৬০ এর দশকের পর ৪৫ বছর ধরে দ জনবল,কর্ম পরিকল্পনা,গঠনতন্ত্র নিয়ে সাফল্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে সমবায় । নাই্যংছড়ি উপজেলায় ৩ হাজার সদস্য নিয়ে ১০৪টি সমবায় সমিতি রয়েছে। বিআরডিবি জুনিয়র অফিসার শাহ আলমের সঞ্চালনায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাই্যংছড়ি উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হামিদা চৌধুরী বলেন,- নেতা হওয়ার প্রবণতায় সমবায় সমিতি গুলো ভেঙ্গে যাচ্ছে । আলোচনা না করে দলা দলি করে গ্র“পিং তৈরির ফলে অধিকাংশ সমিতি ভেঙ্গে যাচ্ছে । সদস্যদের মন-মানষিকতা ও চরিত্রের পরিবর্তন না হলে সমবায়ের সাফল্য পাওয়া যাবে না । নাই্যংছড়ি উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের লোক বলের অভাব । এই জনবলের অভাবে সমবায় এর কার্যক্রমে মূল বাধা ঁ । তড়িৎ গতিতে উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের জনবল সংকট নিরসনের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি জোর দাবী জানান ।
বিশেষ অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন,- উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল মান্নান, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন,উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা জাবেদ মীরজাদা,
নাই্যংছড়ি সর : উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক সালেহ উদ্দিন চৌধুরী, নাই্যংছড়ি প্রেস কাব সভাপতি নুরুল আলম সাঈদ, নাইংছড়ি উপজেলা সমবায় সমিতির কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান মো : ইসলাম, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক মো : ইমরান ।
। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন,-উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা খন্দকার মো : ফিজানুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ছৈয়দ নুর, উপজেলা হর্টিকালচার সেন্টারের কৃষিবিদ ইমরান কবির,উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রকিবুল হোসেনসহ উপজেলার বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ,রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ,জন প্রতিনিধি,শিক কর্মচারী,সাংবাদিক,সুধীজন, শিক ও উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের বিভিন্ন সমিতির সদস্য-সদস্যাবৃন্দসহ বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন । সকালে ১০টায় প্রধান অতিথি,বিশেষ অতিথিবৃন্দ, উপজেলার বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ,রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ,জন প্রতিনিধি,শিক্ষক কর্মচারী,সাংবাদিক,সুধীজন ও উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের বিভিন্ন সমিতির সদস্য-সদস্যাদের অংশ গ্রহনে ৪২ তম জাতীয় সমবায় দিবসের র‌্যালীটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ।


প্রতিবন্ধি এক কিশোর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্নহত্যা করেছে
আত্মহত্যা
প্রতিবন্ধি এক কিশোর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্নহত্যা করেছে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করেছে। থানা সূত্র জানা যায়, শুক্রবার গভীর রাতে বান্দরবান সদর উপজেলার নিউগুলশান এলাকার বাসিন্দা অবসর প্রাপ্ত সেনাবাহিনীর হাবিলদার মোঃ নজরুল ইসলামের বাঁক-প্রতিবন্ধি দ্বিতীয় পুত্র মোঃ সোহরাব হোসেন (২৩) গলায় ফাঁস দিয়ে আতœহত্যা করে। নিহতের পিতা মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, সে জন্ম থেকে বাঁক-প্রতিবন্ধ হলেও প্রায় ৫বছর ধরে আমার একটি মুদির দোকান পরিচালনা করে আসছিল। সে গত ২মাস ধরে তাকে কে বিয়ে করবে, বিয়ে করার পর তার বাচ্চা যদি তার মত বাঁক-প্রতিবন্ধি হয়, সে কেন অন্য সবার মত উচ্চস্বরে কথা বলতে পারেনা এই সব বিষয়ে ভাবতে ভাবতে মানষিক ভাবে ভেঙ্গে পড়ে। সে এক পর্যায়ে দোকানে যাওয়া বন্ধ করে দিয়ে ঘুমিয়ে ও টিভি দেখে সময় কাটায়। গত ১৫ দিন ধরে বাসার সবাইকে বলতে লাগলে সে আর বাছবেনা মরে যাবে। তার এই কথা শুনে বাড়ির সবাই আতংকিত হয়ে তাকে বুঝানোর চেষ্টা চালানো হয়। গত সপ্তাহে তাকে বান্দরবানে ডাক্তার দেখানো হয়। ডাক্তার তাকে ঢাকায় একটি ভাল মানষিক ডাক্তার দেখাতে পরামর্শ দেয়। শনিবার সকালে ডাক্তার দেখানোর জন্য তাকে নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার কথা। তিনি আরো জানান, শুক্রবার রাত প্রায় ১টা পর্যন্ত টিভিতে ক্রিকেট খেলা দেখেছে। পরে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে রাতের যে কোন সময় বাড়ির পেছনে গাছের সাথে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্নহত্যা করে। ভোর ৫ টার সময় দেখি সে রুমে নেই। পওে তাকে অনেক খোজা-খুজির পর দেখি ঘরের পেছনে একটি গাছের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়। এদিকে তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।