বান্দরবান সংবাদ

প্রকাশ:| সোমবার, ২৮ অক্টোবর , ২০১৩ সময় ০৯:২৪ অপরাহ্ণ

বান্দরবানে হরতালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, আহত–৬
বান্দরবানে ঢিলেঢালাভাবে হরতাল পালিত হচ্ছে। সোমবার সকালে লামা উপজেলার ইয়াংছা এলাকায় পিকেটিং করার সময় পুলিশের সাথে সরতাল সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে বিএনপির ছয় নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। লামা চকরিয়া সড়কে গাড়ি চলাচলে বাধা দেয়ার সময় পুলিশ মিছিলে লাঠি চার্জ করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, নেতা কর্মীরা গাড়ি চলাচলে বাধা দিলে লামা থেকে পুলিশ এসে মিছিলে লাঠিচার্জ করে। এ সময় সংঘর্ষ হয়। লাঠিচার্জে আহত হয়েছে বিএনপি নেতা হেলাল উদ্দিন, দিল মোহাম্মদ, যুবদল নেতা আজগর আলী, আবদু শুক্কুর, মহিলা দল নেত্রী শহাজেদা পারভিন। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। নেতা কর্মীরা প্রতিবাদে মিছিল বের করে।
এদিকে বান্দরবানে দুপাল্লার যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। অভ্যন্তরিন সড়কে হালকা যানবাহন চলাচল করছে। ১৮ দল বাজার এলাকায় হরতালের সমর্থনে সমাবেশ করেছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহাজাহান খান জানান, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

বান্দরবানে পাল্টা-পাল্টি মামলায় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও যুবদল সভাপতিসহ ৯জন জেল হাজতে
বান্দরবানে ১৮দলীয় জোটের সমাবেশে জেলা যুবদলের হামলায় ৪জন আহত হওয়ার ঘটনায় পাল্টা-পাল্টি পৃথক তিনটি দায়ে করা মামলায় জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা যুবদল সভাপতিসহ উভয় গ্রুপের ৯জনের জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে আদালত। জানা যায়, গত ২৫অক্টোবর বান্দরবান জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে ১৮দলীয় জোটের সমাবেশ চলাকালে জেলা যুবদলের সভাপতি মশিউর রহমান মিঠুন ও সাধারন সম্পাদক নেজাম উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রায় ৫০/৬০উশৃংখল নেতাকর্মী হকিস্টিক, লোহার রড় ও লাঠিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সমাবেশে যুবদল অপর গ্রুপের উপর হামলা চালায়। এসময় উভয় গ্রুপ সংর্ঘষে জড়িয়ে পড়েলে পুলিশ লাঠি চার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এঘটনায় উভয় গ্রুপের ৪জন গুরত্বর আহত হয়। সংর্ঘষের ঘটনায় রবিবার জেলা যুবদলের সভাপতি মশিউর রহমান মিঠুন ও সাধারন সম্পাদক নেজাম উদ্দিন ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মাবুদকে প্রধান আসামী করে দলীয় কর্মীকে হত্যার চেষ্টা ও অফিস ভাংচুরের অভিযোগ এনে লিটন দাবী হয়ে জিআর-২১৯ (২০১৩)তে ১৫জন এবং জোলহা বেগম বাদী হয়ে জিআর-২২০(২০১৩)তে ১১জনকে আসামী করে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে। অপরদিকে একই ঘটনায় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মাবুদ গ্রুপের পক্ষ থেকে জেলা যুবদলের সভাপতি মশিউর রহমান মিঠুন ও সাধারন সম্পাদক নেজাম উদ্দিনকে প্রধান আসামী করে দলীয় কর্মীকে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে ২৬জনকে আসামী করে বান্দরবান সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করে। উভয় গ্রুপ গতকাল সোমবার বান্দরবান জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ছালামত উল্লাহের আদালতে জামিনের আবেদন করেন। এসময় একটি মামলায় সব আসামীকে জামিন দেয় এবং অপর একটি মামলায় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মাবুদ, পৌর যুবদল সভাপতি আবু বক্কর, যুবদল নেতা সেলিম রেজা, যুবদলের জেলা সাংগঠরিক সম্পাদক সাহাদৎ হোসেন জনি, যুবদল নেতা গোলাম সরওয়ার সোহাগ, আবু ছালেক ও সিরাজের জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে প্ররনের নির্দেশ দেয় আদালত। এই মামলার কার্যক্রম শেষে অপর প্রুপের আইনজীবি জামিনের আবেদন জানালে আদালত ২৬জন আসামীর মধ্যে ২৪জনের জামিন মঞ্জুর করলেও জেলা যুবদলের সভাপতি মশিউর রহমান মিঠুন ও যুবদল নেতা মাছুমের জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরনের নির্দেশ দেয়। এদিকে এই ঘটনায় জেলা জুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইছে।


আরোও সংবাদ