বান্দরবানে ৩ জনের রিমান্ডের শুনানী কাল

প্রকাশ:| সোমবার, ১৯ সেপ্টেম্বর , ২০১৬ সময় ০৯:১২ অপরাহ্ণ

তিন জনের রিমান্ড
বান্দরবানে বরখাস্ত নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান তোফাইল আহমদ এবং পার্বত্য গন পরিষদের সভাপতি আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমন আইনের মামলা করা হয়েছে। আজ সোমবার ঐ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে পুলিশ দুজন’কে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট তাহমিনা আফরোজের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন পুলিশ। আদালত কাল মঙ্গলবার রিমান্ডের শুনানীর দিন ধায্য করে আসামীদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে পুলিশ গ্রেফতার দুজনকে বিকালে জেলে পাঠিয়েছে।
পুলিশের দাবী, গতরোববার রাতে জেলা শহরের কাসেম পাড়াস্থ জামায়াতের নেতা আতিকুর রহমানের বসতবাড়িতে রাষ্ট্র ও সরকার বিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে নাশকতার পরিকল্পনার জন্য বৈঠকে বসেছিলেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বরখাস্ত নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান তোফাইল আহমদ (৪৪) এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙ্গালীদের অধিকার আদায়ের সংগঠন পার্বত্য গন পরিষদের সভাপতি আতিকুর রহমান’কে (৪৫) আটক করা হয়। কিন্তু পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অজ্ঞাতনামা আরো ১২/১৫ জন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এসময় বৈঠকের স্থান থেকে ২টি ধারালো দা, ৩টি স্ক্রু ড্রাইভার, ১টি প্লাস, ৩টি মটর, ২টি কার্টার’সহ কিছু ইলেকট্রিক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সদর থানায় ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক শেখ লিয়াকত আলী বাদী হয়ে সন্ত্রাস দমন আইনে একটি মামলা করেছে। সদর থানা মামলা নং ১২,তারিখ ১৮/৯/২০১৬ ইং। মামলায় অন্যান্য আসামীদের মধ্যে রয়েছেন- জাকের আহমদ (৩৯), আমিরুল কবীর (২৮), এহসানুল কবির রাজিব (৩০) এবং সাইফুদ্দিন বাহাদুর (৩৫)। এদিকে মামলার বাদী ডিবি পুলিশের কর্মকর্তা শেখ লিয়াকত আলী বলেন, নাশকতার পরিকল্পনার জন্য গোপন বৈঠকের খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে সরঞ্জাম’সহ দুজন’কে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরো ১২/১৫ জন পালিয়ে যাওয়ায় গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
তবে গ্রেফতার হওয়া তোফাইল ও আতিক বলেন, উদ্ধার হওয়া ইলেকট্রিক সরঞ্জামগুলোর সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ভিন্ন স্থান থেকে কোনো ধরণের অভিযোগ ছাড়াই আমাদের আটক করে মিথ্যা সাজাঁনো মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
জেলা পুলিশ সুপার সঞ্জিব কুমার রায় জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামে পুলিশ এবং সংখ্যালঘু’দের উপর বড় ধরণের নাশকতার পরিকল্পনার তথ্য প্রমাণ রয়েছে পুলিশের কাছে। রাষ্ট্র ও সরকার বিরোধী নাশকতার পরিকল্পনাকারীদের গ্রেফতারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতার দুজনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র বিরোধী কর্মকান্ডের অভিযোগ রয়েছে।