বান্দরবানে শিশু’সহ একই পরিবারের ৪ জনকে গলা কেটে হত্যা

প্রকাশ:| শুক্রবার, ২৯ মে , ২০১৫ সময় ১১:৪৩ অপরাহ্ণ

বান্দরবান প্রতিনিধি

বান্দরবানে ক্যায়ামলং এলাকায় শিশু’সহ একই পরিবারের ৪ জনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। নিহতরা সকলেই মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিক দাবী পুলিশের। বৃহস্পতিবাররাতে জেলার সদর উপজেলার কুহালং ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও আত্মীয় স্বজনেরা জানায়, সদর উপজেলার কুহালং ইউনিয়ের ডলুপাড়াস্থ ক্যায়ামলং এলাকায় আব্দল মোতালেব নামের ব্যক্তির বাগান বাড়িতে কেয়ারটেকার হিসেবে আত্মীয় পরিজন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছিল আমীন। বৃহস্পতিবাররাতে বাগান বাড়িতে হানা দিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেয়ারটোকারের শিশু সন্তান’সহ একই পরিবারের ৪ জনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। নিহতরা হলেন- বাগানের কেয়ারটেকার মোহাম্মদ আমীন (৪০), তার শিশুপুত্র জুনায়েদ (১২), বড়বোন বেগম বাহার (৪৫), তার শিশুপুত্র ইলিয়াছ (৫)। হত্যাকান্ডের সময় কেয়ারটেকার ঘরের বাইরে লাকড়ি কাটছেন। বড়বোন রান্না ঘরে এবং শিশুরা ঘরের ভিতরের ছিলেন। জেগে থাকা অবস্থায় পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকান্ড ঘটানো হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী’সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের ভিতরে পড়ে থাকা শিশুসহ ৩ জনের মৃতদেহ এবং ঘরের বাইরে বাগানের লাকড়ি মওজুদ করে রাখাস্থল থেকে কেয়ারটেকারের গলাকাটা মৃতদেহ উদ্ধার করে। লাশগুলো ময়না তদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দার বাথোয়াইচিং মারমা’সহ কয়েকজন বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ঘটনাস্থলের আশপাশে কেয়ারটেকারের তৃতীয় স্ত্রী নূর নাহার এবং আব্দুল মোনাফ’সহ কয়েকজনকে ঘোরাফেরা করতে দেখাগেছে। ঘটনার পর থেকেই তারা পলাতক রয়েছে। পারিবারিক কলহের জের ধরে এই হত্যাকান্ড ঘটে থাকতে পারে। নিহত বাহার বেগমের ছেলে শফি আলম ও হামিদ জানান, আমার মামা’র (নিহত আমীন) তৃতীয় স্ত্রী নূর নাহার, তার ভাই আব্দুল মোনাফ, নূরুল আমীন এবং আব্দুর শুক্কুর পরিকল্পিতভাবে চারজনকে গলা কেটে হত্যা করেছে। কয়েকমাস আগে মামার সঙ্গে জগরা করে মামী বাপের বাড়িতে চলে যায়। তারই সূত্রধরে এই হত্যাকান্ড। এ ঘটনা নিহত বেগম বাহারের বড় ছেলে শফি আলম বাদী হয়ে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, বৃহস্পতিবার রাতের কোনো একসময় এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। কারণ রান্না করা ভাত পাতিলের মধ্যে রয়েগেছে। হত্যাকারীরা মামলার তদন্ত ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য ভূয়া দুজন ব্যক্তির ভোটার আইডি কার্ড লাশের পাশে রক্তের উপর ফেলে যায়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ১টি মোবাইল, ২টি ধারালো দা জব্দ করেছে। তবে কেয়ারটেকারের মোবাইলটি পাওয়া যায়নি। সেটি পাওয়া গেলে হত্যাকারীদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যেত। নিহতের আত্মীয় স্বজনেরা থানায় আসায় নিহতদের সঠিক পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।

স্থানীয় কুহালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সানুপ্রু মারমা জানান, কয়েকমাস আগে আমিনের সঙ্গে স্ত্রীর বিরোধের ঘটনা ঘটে। সালিশ বৈঠকে বিষয়টি মিমাংসা করা হলেও তৃতীয় স্ত্রী হয়ত বৈঠকের সিদ্ধান্ত মানতে পারেনি। বিচারে সন্তুষ্ট না হওয়ায় তৃতীয় স্ত্রী’সহ আত্মীয় স্বজনেরা মিলে এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে।


আরোও সংবাদ