বান্দরবানে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত ২ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত শতাধিক

প্রকাশ:| সোমবার, ১৩ জুন , ২০১৬ সময় ০৫:৫২ অপরাহ্ণ

মৃত্যু
বান্দরবান প্রতিনিধি ॥
বান্দরবানের থানছি উপজেলায় ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও শিশু-কিশোর, বয়স্ক আরো শতাধিক ব্যক্তি ম্যালেরিয়া এবং নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গতরোববার এ ঘটনা ঘটে। থানছি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোনো চিকিৎসক না থাকায় পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যাবার শঙ্কা প্রকাশ করেছে স্থানীয়রা।
জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়রা জানায়, টানা বৃষ্টিপাতের কারণে বান্দরবানে ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। জেলার থানছি উপজেলায় ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে রোববার রেমাক্রী এবং ছোটমদক পাহাড়ী গ্রামে ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এরা হলেন- রেমাক্রী ইউনিয়নের গ্রুপিং পাড়ায় মপুশে মারমা (৭) এবং ছোটমদক পাড়ায় অংথুই মারমা (৬)। অপরদিকে সদর হাসপাতালে থানছি উপজেলার ম্যালেরিয়া আক্রান্ত আরেক শিশুর মৃত্যুর খবর শোনা গেলেও সত্যতা পাওয়া যায়নি। থানছি উপজেলার রেমাক্রী, তিন্দু ইউনিয়ন ও থানছি সদরের অংহ্লা খুমি পাড়া, মালিরাম পাড়া, পেনেদং পাড়া, গ্রুপিং পাড়া, অংসু খুমি পাড়া, রেমাক্রী বাজার পাড়া, তিন্দু বাজারপাড়া’সহ বিভিন্ন পাহাড়ী গ্রামে ব্যাপকভাবে ম্যালেরিয়া রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। পাহাড়ী গ্রামগুলোতে শিশু-কিশোর, বয়স্ক আরো শতাধিক লোকজন ম্যালেরিয়া এবং নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অপরদিকে জেলা সদরেও ম্যালেরিয়া রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গতরোববার ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত দুই শিশু তাহমিনা আক্তার (৯) এবং ছোটভাই সায়েম হোসেন (৬) দুজনকে গুরুতর অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও বর্তমানে সদর হাসপাতালে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত আরো ৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। থানছি উপজেলা চেয়ারম্যান ক্যাহ্লাচিং মারমা বলেন, থানছি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোনো চিকিৎসক নেই। বৃষ্টিতে রেমাক্রী, তীন্দু ইউনিয়নের পাহাড়ী গ্রামগুলোতে ম্যালেরিয়া এবং নিউমোনিয়া রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে ব্যাপকভাবে। গতরোববার রেমাক্রী ইউনিয়নে ম্যালেরিয়া রোগে আক্রান্ত ২ শিশু মারাগেছে। দূর দূরান্ত থেকে বৃষ্টির মধ্যে আক্রান্ত রোগীরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসেও চিকিৎসা পাচ্ছেনা। কোনো ডাক্তার নেই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
বান্দরবান সদর হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) প্রবীর চন্দ্র বণিক জানান, ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত ৫ জন রোগী বর্তমানে সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত দুজন শিশু’কে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছিল। অনেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। তবে এক সপ্তাহের মধ্যে হাসপাতালে ম্যালেরিয়া আক্রান্ত হয়ে কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি।
জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ উদয় শংকর চাকমা গনমাধ্যমকর্মীদের জানান, বৃষ্টিপাত বেড়ে যাওয়ায় এ সময়ে ম্যালেরিয়া রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। রোগ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বিভাগ ও বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। একজন শিশুর মৃত্যুর খবর পেয়েছি। তবে ম্যালেরিয়ায় আরো দুই শিশু মৃত্যুর বিষয়টি জানা নেই।