বান্দরবানে মারমা তরুন-তরুণীরা মেতেছে জলকেলীতে

প্রকাশ:| বুধবার, ১৫ এপ্রিল , ২০১৫ সময় ০৯:৪১ অপরাহ্ণ

বান্দরবান প্রতিনিধি

জলখেলীবান্দরবানে মারমা সম্প্রদায়ের প্রধান সামাজিক উৎসব সাংগ্রাই’কে ঘিরে জলকেলী উৎসবে মেতেছে তরুন-তরুণীরা। জলকেলী উৎসবের আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে- পানি খেলা (মৈত্রী পানি বর্ষণ) খেলায় বিবাহিতরা অংশ নিতে পারে না। মারমা তরুন-তরুণীরা একে অপরের গায়ে পানি ছিটিয়ে ভাবের আদান প্রদান করে। এই উৎসবের মাধ্যমে পাহাড়ীরা তরুন-তরুণীরা সর্ম্পকের সেতু বন্ধন তৈরি করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। আজ বুধবার বিকালে স্থানীয় পুরাতন রাজবাড়ি মাঠ এবং রেইছা থলিপাড়া পাড়া মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে এই জলকেলী উৎসব হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি বলেছন, ধর্ম যার যার, কিন্তু উৎসব সবার। সম্প্রীতির বান্দরবানে উৎসবে পাহাড়ী-বাঙ্গালী সকলের একাকার। সবমিলিয়ে সম্প্রীতির যে একটি সেতু বন্ধন এটিই হচ্ছে পার্বত্যাঞ্চল। অতিতের সকল গ্লানী-দু:খ ভুলে গিয়ে সকলেই একে অপরের মঙ্গল কামনা করি। সকলের মাঝে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় থাকবে। আগামীতে সম্প্রীতির আরো সুদৃঢ় হবে এই কামনা করি। স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়বো এবং আগামী প্রজন্মের জন্য সুন্দর-সম্প্রীতির দেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যাবো।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বান্দরবান ৬৯ সেনা রিজিয়নের বিগ্রেডিয়ার জেনারেল নকিব আহমেদ চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মিজানুল হক চৌধুরী, পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোমিনুর রশীদ আমিন, জেলা পুলিশ সুপার দেবদাস ভট্টাচার্য, রেইছা সদর ইউপি চেয়ারম্যান সাবুখয় মরমা’সহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে জলকেলী উৎসব পানি খেলায় ছোট-বড় কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করে পানি খেলায় অংশ নেয় তরুন-তরুণীরা। আশেপাশের শত শত পাহাড়ী নারী-পুরুষ এবং দেশী-বিদেশী পর্যটকরা ভীড় জমায় জলকেলী উৎসব দেখতে। পুরাতন বর্ষকে বিদায় আর নতুন বর্ষকে বরণ করার এই উৎসবকে মারমা সম্প্রদায় প্রধান সামাজিক উৎসব হিসেবে পালন করে আসছে যুগযুগ ধরে।

এছাড়াও উৎসবের দ্বিতীয়দিনে মঙ্গলবার দুপুরে আড়াইটায় উজানীপাড়াস্থ সাঙ্গু নদীর তীরে বুদ্ধ মূর্তি স্নান উৎসবে ঢল নামে পাহাড়ী-বাঙ্গালী পূর্ণার্থীদের। কেন্দ্রীয় ক্যায়াংকের প্রধান ভিক্ষু উচহ্লা ভান্তে বুদ্ধমূর্তি স্নান অনুষ্ঠানে বিশ্ববাসীর শান্তি ও মঙ্গল কামনায় প্রার্থণা করে। পাহাড়ী পল্লীগুলোতে তরুন-তরুনীরা সাড়িবদ্ধভাবে বসে হরেক রকমের পিঠা তৈরির প্রতিযোগীতায় মেতে উঠে। তৈরিকৃত পিঠাগুলো ঘুরে ঘুরে পাড়া-মহলায় পাহাড়ীদের ঘরে ঘরে বিতরণ করে।