বান্দরবানে পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের ২৯ লক্ষ টাকার উন্নয়ন কাজ ভাগবাটোয়ারা

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর , ২০১৪ সময় ১১:৪৩ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান ॥
বান্দরবানে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন প্রকল্পের ২৯ লক্ষ টাকার উন্নয়ন কাজ ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছে ঠিকাদার’সহ প্রকল্প কর্মকর্তারা। অফিস ও ঠিকাদাররা জানায়, গতকাল মঙ্গলবার দাতা সংস্থা এডিবি অর্থায়নে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন প্রকল্পের (২য় পর্যায়ে) বান্দরবান সদর উপজেলার টংকাবর্তী ইউনিয়নের পুর্ণবাসন ত্রিপুরা পাড়া থেকে বান্দরবান-লামা অভ্যন্তরিন সড়ক পর্যন্ত ১.৬৪ কিলোমিটার সংযোগ সড়কের দরপত্র জমা দেয়ার শেষদিন ছিল। অত্যন্ত গোপনীয়তায় কোনো নোটিশ ছাড়াই দরপত্র বিক্রি এবং জমা দেয়ার সময় পরিবর্তণ করে ফরম জমা নেয়ায় স্থানীয় ঠিকাদাররা অংশ নিতে পারেনি। অফিস ম্যানেজ করে ঠিকাদার আব্দুল মান্নান ভূইয়া তিনটি লাইসেন্সে দরপত্র ক্রয় করে এবং জমা দেন। মঙ্গলবার দুপুরে দরপত্র জমা দেয়ার নির্ধারিত সময় দুপুর বারেটার মেনবে ম্রো লাইসেন্সে পে-অর্ডার জমা দিতে দেখা গেছে। দরপত্র জমা দেয়া লাইসেন্সগুলা হচ্ছে-চিম্বুক ট্রেডার্স, ক্লিন এন্টারপ্রাইজ এবং মেনবে ম্রো। জেলা প্রকল্প ব্যবস্থাপনা সহকারী প্রকৌশলী মংমুই অং জানান, দরপত্রের সময় পরিবর্তে কোনো নোটিশ জারী করা হয়নি। তবে দরপত্র ক্রয়কারী ঠিকাদারদের ফোন করে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। স্থানীয় ঠিকাদার মোস্তাক আহম্মেদ, আশরাফ সওদার’সহ ঠিকাদাররা জানায়, অফিস ম্যানেজ করে সমঝোতার মাধ্যমে দুই লক্ষ টাকার বিনিময়ে ২৯ লক্ষ টাকার উন্নয়ন কাজটি মেনবে ম্রো লাইসেন্সে ভাগিয়ে নিয়েছেন ঠিকাদার আব্দুল মান্নান ভূইয়া। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদার আব্দুল মান্নান ভূইয়া সাংবাদিকদের জানান, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন প্রকল্পের পুর্ণবাসন ত্রিপুরা পাড়া সড়ক নির্মাণ উন্নয়ন কাজের কোনো দরপত্র আমি ক্রয় করিনি। এই কাজটি ভাগবাটোয়ারার (নিকোজেশন) বিষয়েও আমি কিছুই জানিনা। পার্বত্য চট্টগ্রাম পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের জেলা প্রকল্প ব্যবস্থাপ যোগেশ চন্দ্র তঞ্চঙ্গ্যা জানান, স্বচ্ছতা রেখে নিয়ম তান্ত্রিকভাবেই দরপত্র দেয়া এবং গ্রহণ করা হয়েছে। উন্নয়ন কাজের কোনো অনিয়মের সঙ্গে অফিসের কেউ জড়িত নয়। তবে অফিসের বাইরে ঠিকাদাররা সমঝোতার মাধ্যমে ভাগবাটোয়ারা করলে তাতে আমার কিছুই করার নেই।