বান্দরবানে পর্যটকের ঢল

প্রকাশ:| সোমবার, ২০ জুলাই , ২০১৫ সময় ০৭:০৪ অপরাহ্ণ

আলাউদ্দিন শাহরিয়ার, বান্দরবান ॥
ঈদের আনন্দে বান্দরবানে পর্যটকের ঢলঈদের আনন্দে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বান্দরবানে ঢল নেমেছে পর্যটকদের। জেলার অন্যতম পর্যটন স্পট নীলাচল, নীলগিরি, মেঘলা, স্বর্ণ মন্দির’সহ দর্শনীয় স্থানগুলোতে এখন পর্যটকের উপচে পড়া ভীড়। গতকাল সোমবার ঘুরে দেখাগেছে কোথাও তীল ধারণের ঠাই নেই। পর্যটকদের পদচারণায় এখন মুখরিত শহরের আবাসিক হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট এবং গেস্টহাউসগুলো। কোথাও কোনো সীট খালি না থাকায় ঈদের আনন্দে বান্দরবানে পর্যটকের ঢল1ভ্রমনপিপাসু মানুষেরা এখন দূর্গমাঞ্চলে পাহাড়ীদের মাচাংঘরগুলোকে থাকার বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে বেছে নিচ্ছে। অনেকে আবার ভ্রমনে এসেও কোথাও থাকার ব্যবস্থা করতে না পেরে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছে।
প্রতিবছর ঈদের আনন্দে মেতে উঠতে বান্দরবানে আগমন ঘটে ভ্রমনপিপাসু পর্যটকদের। পর্যটনের অফুরন্ত সম্ভাবনাময় বান্দরবানে প্রকৃতির নির্মল ছোয়া পেতে প্রতিদিনই ছুটে আসছে এখন পর্যটকরা। মেঘলা লেকের উপর নির্মিত ঝুলন্ত সেতু, স্বর্ণ মন্দির এবং শৈল প্রপাত ঝর্ণার স্বচ্ছ পানিতে গা ভাসাচ্ছে হাজার হাজার পর্যটক। নীলাচল এবং নীলগিরি পর্যটন স্পটে মেঘ এসে ভিজিয়ে দিয়ে যাচ্ছে পর্যটকদের। পাহাড়ের সঙ্গে মেঘের লুকোচুরি খেলা এবং মেঘ উড়ে যাবার দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হচ্ছে পর্যটকরা। পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত নীলাচল এবং নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্রগুলো যেন মেঘে ভাসছে। সদ্য বিবাহিত পর্যটক দম্পতি রোমেল খান ও সুজানা হক বলেন, বর্ষায় পাহাড়ের সৌন্দর্য ফুটে উঠে। বৃষ্টি যেন নীলাচলের সৌন্দর্য আরো অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। সত্যিই অসাধারণ। ইচ্ছে বান্দরবানের পাহাড়েই থেকে যায়। ঢাকায় বাড়ি ফিরে যেতে মন চাইছে না।
প্রকৃতি নিজেকে মেলে ধরেছে পর্যটন নগরী বান্দরবানে। শুধু বর্ষা এবং শীত নয়, সারাবছরই বৈচিত্রময় রুপের রানী বান্দরবানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের খ্যাতি ছড়িয়েছে ইতিমধ্যে দেশের বাইরেও। পর্যটকরা এখানকার সৌন্দর্য উপভোগে ঘুরে বেড়াচ্ছেন পাহাড়ী জনপদে। কি নেই এখানে প্রাকৃতিক লেক, ঝর্ণা, বাদুরগুহা, আলীর সুরঙ্গপথ, ঝুলন্ত সেতু, স্বর্ণ মন্দির, পর্বতচূড়া এবং ভিন্ন ভাষার এগারোটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বৈচিত্রময় সংস্কৃতি এজেলার সৌন্দর্য বাড়িয়েছে আরো বহুগুনে। তবে অপার সৌন্দর্যে পর্যটকরা মুগ্ধ হলেও যোগাযোগ ব্যবস্থা, আবাসন, নিরাপত্তা এবং পর্যটন স্পগুলোর আরো উন্নয়নের দাবী পর্যটকদের। সরকার এবং স্থানীয় পর্যটন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সদিচ্ছার অভাবে পাহাড়ে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটছে না অভিযোগ স্থানীয়দের। বান্দরবান হোটেল রেসিডেনশিয়াল অনার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঈদের আনন্দে মেতে উঠতে বান্দরবানে ভীড় জমিয়েছে পর্যটকরা। শহরের আবাসিক হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট এবং গেস্টহাউসগুলো কোথাও কোনো সীট খালি নেই। আরো কদিন আগামী ২২ জুলাই পর্যন্ত পর্যটকের বাড়তি চাপ থাকবে। পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমনে প্রয়োজনীয় সব ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, পর্যটকরা হচ্ছে বান্দরবানের জন্য অতিথি। অতিথিদের নিরাপদ এবং স্বাচ্ছন্দে ভ্রমনে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কোনো ধরণের পর্যটক হয়রানীর খবর পাওয়া গেলেই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।