বান্দরবানে পর্যটকের ঢল, ৩ পর্যটক আহত

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর , ২০১৬ সময় ০৭:০২ অপরাহ্ণ

আলাউদ্দিন শাহরিয়ার, বান্দরবান ॥
বান্দরবান২বান্দরবানে ঈদের ছুটিতে পর্যটকের ঢল নেমেছে দর্শণীয় পর্যটন স্পটগুলো। প্রকৃতির নির্মল ছোয়া পেতে প্রতিদিনই দেশী-বিদেশী পর্যটকেরা ভীড় জমাচ্ছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি খ্যাত বান্দরবানে। পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে নীলাচল, মেঘলা, নীলগিরি, শৈলপ্রপাত, চিম্বুক, প্রান্তিকলেক, রিজুক ঝর্ণা’সহ দর্শণীয় ট্যুরিস্ট স্পটগুলো। কোথাও তীল ধারণের ঠাই নেই। জেলা শহর’সহ আশপাশের আবাসিক হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট এবং গেস্টহাউস কোথাও সীট খালি নেই। তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার পরও যেন থামছেনা পর্যটকদের হয়রানী আর ভোগান্তি। পরিবহন শ্রমিকদের হামলার শিকার হয়ে আহত হয়েছেন ৩ জন পর্যটক।
চট্টগ্রাম থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক রায়হান, জিসান’সহ কয়েকজন বলেন, চট্টগ্রামের বহাদ্দারহাট থেকে টিকেট কেটে পূরবী গাড়ীতে বান্দরবান বেড়াতে আসছিলাম। কিন্তু চেয়ারকোচ গাড়ীটি চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে কেরানিহাট পর্যন্ত প্রায় চৌদ্দটি পয়েন্টে দাড়িয়ে যাত্রী উঠানামা করিয়েছেন। বিরতিহীন সার্ভিসের কথা বলে যেখানে সেখানে দাড়ানোর প্রতিবাদ করায় বান্দরবান বাসষ্ট্রেন্ডে পৌছানোর পর গাড়ীর চালক-হেলপাড়’সহ শ্রমিকেরা তাদের নারী-পুরুষ ছয়জন’কে মারধর করেন। স্থানীয় পরিচিত বন্ধু-আত্মীয় স্বজনদের ফোন করলে তারা এসে আমাদের উদ্ধার করে। আগেরদিন নেপালের কয়েকজন বিদেশী পর্যটকের সঙ্গেও দূর ব্যবহার করেছেন পূরবী-পূর্বাণীর বাস সার্ভিসের শ্রমিকেরা। নেপালী পর্যটক ললিথ ভান্ডারী ও সিবানী বলেন, বান্দরবানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে তারা মুগ্ধ। ভ্রমনে কোনো সমস্যা হয়নি তাদের। কিন্তু যাবার বেলায় পূরবী বাস সার্ভিসের শ্রমিকরা টিকেটের বাহিরে প্রতিটি লেগেজের জন্য একশ টাকা করে দাবী করে। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তারা আমাদের সঙ্গে দূর ব্যবহার করেন এবং লেগেজ নিয়ে টানাটানি করে। আমরা বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের অনেকগুলো দেশ ভ্রমনে গেছি। কিন্তু এমন ঘটনা কোথাও দেখিনি। স্থানীয় প্রশাসন-আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এ বিষয়ে আরো সতর্ক হওয়ার অনুরোধ করেন তারা।
বান্দরবান৩ঈদের লম্বা ছুটিতে বিনোদনের জন্য পর্যটনের অফুরন্ত সম্ভাবনাময় বান্দরবানে ঢল নেমেছে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের। পর্যটকের মন ভোলানোর সমস্ত আয়োজন রয়েছে রুপের রানী খ্যাত বান্দরবানে। পাহাড় থেকে ঝড়ে পড়া ঝর্ণা, প্রাকৃতিক লেক, ঝুলন্ত সেতু, ক্যাবল কার, স্প্রীড বোটে ভ্রমন’সহ অসংখ্য দর্শণীয় স্থান। জেলার দর্শণীয় স্থান নীলাচল, মেঘলা, শৈলপ্রপাত, চিম্বুক পাহাড়, রিজুক ঝর্ণা, প্রান্তিকলেক, ঝুরঝুড়ি ঝর্ণা এবং নীলগিরি পর্যটন স্পটে পর্যটকের উপচে পড়া ভীড় দেখা গেছে। প্রকৃতির নির্মল ছোয়া পেতে বান্দরবানে প্রতিদিনই দেশী-বিদেশী পর্যটকেরা ভীড় জমাচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যটক হয়রানী বন্ধে পর্যটকদের সবধরণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছেন প্রশাসন।
জেলা হোটেল মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, গুলশান ও শালুকিয়ায় জঙ্গী হামলার ঘটনায় পর্যটকের আগমন অনেক কমে গেছে বান্দরবান। রমজানের ঈদেও পর্যটকের আশানুরুপ আগমন ঘটেনি। তবে কোরবানি ঈদের লম্বা ছুটিতে ব্যবসায়ীরা সে ক্ষতি অনেকটা পুষিয়ে নিতে পারবে বলে আশা করছি।
জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক বলেন, নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ভরপুর বান্দরবানে পর্যটকের আগমন প্রতিনিয়ত বাড়ছে। বেড়াতে আসা পর্যটকদের নিরাপদে এবং স্বাচ্ছন্দে আরামদায়ক ভ্রমন নিশ্চিত করতে সবধরণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও কাজ করছে। পর্যটকেরা হচ্ছে আমাদের অতিথি। বেড়াতে আসা পর্যটকদের সঙ্গে শ্রমিকদের বিচ্ছিন্ন যে কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।