বান্দরবানে ক্রাইক্ষ্যং পাড়ার ভূমিতে দীর্ঘ ফাটল

প্রকাশ:| বুধবার, ১ এপ্রিল , ২০১৫ সময় ১০:২০ অপরাহ্ণ

বান্দরবান প্রতিনিধি॥
বান্দরবানের ক্রাইক্ষ্যং পাড়া পাহাড়ী গ্রামে মাটিতে দীর্ঘ ফাটল দেখা দিয়েছে। ভারী বর্ষণে বজ্রপাতের সময় হঠাৎ সোমদার দুপুরে দেখা দেয়া ফাটলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
0স্থানীয়রা জানায়, জেলা সদর থেকে প্রায় ১১/১২ কিলোমিটার দুরে ক্রাইক্ষ্যং পাড়া পাহাড়ী পল্লীতে বিশাল এলাকা জুঁড়ে লম্বা ফাটল দেখা দিয়েছে। গত সোমবার দুপুরে ভারী বৃষ্টিপাতের সময় বজ্রপাতে এই দীর্ঘ ফাটল তৈরি হয়েছে দাবী স্থানীয় বাসিন্দাদের। ফাটলের ঘটনায় স্থানীয় পাহাড়ীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। রাতে ভয়ে পাশ্ববর্তী স্কুল এবং ক্যায়াং ঘরে অবস্থান নেয়। ফাটলে বৃষ্টির পানি প্রবেশ করে ফাটল আরো বড় আকার ধারণ করছে। কোনো কোনো স্থানে ৫-৭ ইঞ্চি পর্যন্ত চওড়া ফাটল তৈরি হয়েছে। কিছু স্থানে ফাটল আরো বেশি দেখা গেছে। ক্রাইক্ষ্যং পাড়া রাস্তা, ঘরের আঙ্গিনা ছাড়াও পাহাড়ীদের ঘরের ভিতরেও ফেটে ঘর দু’ভাগ হয়ে গেছে কারো কারো। ফাটলের খবরে জেলা শহর’সহ আশপাশের গ্রামের লোকজনেরাও ফাটল দেখতে ভীড় জমাচ্ছে ক্রাইক্ষ্যং পাড়াতে। স্থানীয় ইউপি মেম্বার মংচা চিং মারমা ও পাড়া কার্বারী চাইগ্য প্রু মারমা বলেন, বৃষ্টির সময় বজ্রপাতে বিকট শব্দ হয়। পরক্ষণে দেখতে পায় ক্রাইক্ষ্যং পাড়ার বিভিন্ন স্থানে পাড়াবাসীর ঘর’সহ বিশাল এলাকা জুড়ে লম্বা ফাটল তৈরি হয়েছে। পাড়াবাসীর বাড়ির কোথাও কোথাও গভীর গর্তও তৈরী হয়েছে। ফাটলের পর থেকেই পাড়ার লোকেরা খুব ভয়ের মধ্যে রয়েছে। দেবতার অভিশাপে এমনটা হয়েছে বলেও অনেকে ধারণা করছেন।
এদিকে সদর উপজেলার চড়–ই পাড়ায় ১৯৯৭ সালে পাহাড়ের বিশাল একটি অংশ ধসে পড়ে ভূমিতে মিশে যায়। সেখানে সৃষ্টি হয়েছিল বড় একটি জলাশয়ও। ২০০৯ সালে জেলার রুমা উপজেলার গ্যালাইঙ্গা এলাকায় বিকট শব্দে বিশাল পাহাড়ের একটি অংশ ধসে পড়ে সাঙ্গু নদীতে। পাহাড়ের বিরাট একটি অংশ ধসে পড়ায় তাৎক্ষনিক সাঙ্গু নদীর মোহনা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কয়েকদিন বন্ধ ছিল নৌ চলাচলও। ২০১১ সালে লামা উপজেলার টিএন্ডটি পাড়ায় বিকট শব্দে বিশাল পাহাড়ের একটি অংশ প্রায় দেড় একর জায়গা ধসে পড়ে। ২০১২ সালে জেলা সদরের ইসলামপুর এলাকায় ভূমিকম্পে ঝাকুনি দিয়ে ফাটল দেখা দিয়ে পাহাড়ের কয়েকশ ফুট এলাকা ধসে ৫/৬ ফুট নীচের দিকে ঢেবে গেছে।২০১৩ সালে সদর উপজেলার রেইছায় পাহাড়ের প্রায় দুই একর এলাকা প্রায় ৩০ ফুট নিচে ডেবে যায়।
এ বিষয়ে বান্দরবান মৃত্তিকা গবেষণা ও পানি সংরক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মাহাবুবুল ইসলাম জানান, প্রাকৃতিকভাবে ভূমিকম্প, অনাবৃষ্টি এবং অতিবৃষ্টির কারণে মাটির গঠনকে দূর্বল করে দেয়। মাটির গঠনগত কারণে মাটিতে শূন্যতা সৃষ্টি হওয়ায় ভূমিতে ফাটল দেখা দিতে পারে। ভূমি ক্ষয়ের মাধ্যমে পাহাড়ে ফাটল তৈরি হয় এবং ধস নামে। তবে পাহাড় ধস তাৎক্ষনিক ঘটনা মনে হলেও এটি দীর্ঘ মেয়াদী প্রক্রিয়ার ফসল।