বাণিজ্য মেলায় ভ্যাট প্রদানে শীর্ষে ওয়ালটন

প্রকাশ:| শুক্রবার, ২৯ জানুয়ারি , ২০১৬ সময় ০৯:৩৮ অপরাহ্ণ

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় এবার রেকর্ড পরিমাণ ভ্যাট আদায় হয়েছে। মেলার ২৭ তম দিন পর্যন্ত ভ্যাট প্রদানে শীর্ষে রয়েছে ওয়ালটন। এ পর্যন্ত ভ্যাট আদায় হয়েছে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার কাছাকাছি। যা গত বছরের এই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি। মেলার শেষ দিন পর্যন্ত ভ্যাট আদায়ের পরিমাণ ২ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন কাস্টমস ও ভ্যাট কর্মকর্তারা।
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের মেলায় শুরু থেকেই ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের আগমনে মুখর ছিল মেলা চত্বর। বেচাবিক্রিও ছিল জমজমাট। কাস্টমস ও ভ্যাট এক্সাইজের ডেপুটি কমিশনার রাকিবুল হাসান বলেন, এবছর মেলায় শুরু থেকে বিপুল সংখ্যক ক্রেতা-দর্শণার্থী মেলায় আসছে এবং সাধ্যমতো কেনাকাটা করছেন। এতে করে ভ্যাট আদায়ের প্রবৃদ্ধিও ভালো হচ্ছে। ওয়ালটন এবছরও ভ্যাট প্রদানে এগিয়ে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে প্রতিদিন নিয়মতান্ত্রিকভাবে ভ্যাট প্রদান করছেন।
তিনি আরো বলেন, ফার্ণিচার শিল্পে এবছর ১০ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে।

এতে করে, হাতিল, নাদিয়া, আকতার ফার্ণিচার থেকেও ভ্যাট আদায়ের প্রবৃদ্ধি সন্তোষজনক। তিনি বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিরাজ করায় এবার ক্রেতা সমাগম ব্যাপক বেড়েছে। আশা করছি, গতবারের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি ভ্যাট আদায় হবে এবছর।
জানা গেছে, গতবছর মেলার ২৭ তম দিন পর্যন্ত ভ্যাট আদায় হয়েছিল ৬৫ লাখ ৭২ হাজার ৮৯৭ টাকা। এর মধ্যে দেশীয় ইলেক্ট্রোনিক্স ও অটোমোবাইল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন ভ্যাট দিয়েছিল ৫ লাখ ৫৮ হাজার ৯০৫ টাকা।

এবছর, ওয়ালটন এখন পর্যন্ত দশ লাখ টাকারও বেশি ভ্যাট প্রদান করেছে। যা একক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সর্বোচ্চ। মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেছে, বড় প্রতিষ্ঠানগুলো ছাড়া অধিকাংশ ছোট ও মাঝারিমানের স্টলগুলো বিক্রির ওপর ক্রেতাদের কাছ থেকে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ভ্যাট আদায় করছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআর তাগিদ দেয়া সত্বেও ম্যানুয়াল পদ্ধতি অনুসরণ করায় এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কিন্তু বড় প্রতিষ্ঠানগুলো ইসিআর মেশিন ও সফটওয়্যার বা পস পদ্ধতিতে ভ্যাট আদায় করছেন। এতে করে এসব প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভ্যাট আদায় ও প্রদানে স্বচ্ছতা রয়েছে বলে মনে করছেন মেলায় দায়িত্বপ্রাপ্ত রাজস্ব কর্মকর্তারা।
মেলায় ভ্যাট বা মূল্য সংযোজন কর (মূসক) আদায়কারী সোনালী ব্যাংকের প্যাভিলিয়ন ম্যানেজার এ.জেড.এম সাইফুল্লাহ বলেন, এ বছর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পাশপাশি সার্বিক আবহাওয়া ভালো থাকায় মেলার শুরু থেকেই ক্রেতা-দর্শণার্থীর সমাগম চোখে পড়ার মত। সার্বিক বেচাবিক্রিও ভাল হয়েছে। আর তাই ভ্যাট আদায়ের পরিমাণ গতবারের তুলনায় অনেক বেশি। বরাবরের মতো এবারও ভ্যাট প্রদানে এগিয়ে রয়েছে ওয়ালটন। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিদিনই স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভ্যাট প্রদান করছে বলে জানান তিনি।
মেলা ঘুরে দেখা গেছে, এবারের মেলায় দেশীয় পণ্যের প্রতি ক্রেতা-দর্শনার্থীদের আগ্রহ বেশি। ইলেক্ট্রোনিক্স পণের মধ্যে ওয়ালটন প্যাভিলিয়নে প্রচুর ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। বেশির ভাগ ক্রেতা-দর্শনার্থী পছন্দমত পণ্য কিনছেন। স্মাট ফোন, এলইডি টিভি, মোটরসাইকেল, ফ্রিজ ও বিভিন্ন আইটেমের ইলেক্ট্রনিক্স গৃহস্থলী পণ্য বেশি বিক্রি হচ্ছে।
ওয়ালটনর প্যাভিলিয়ন ইনচার্জ আকরামুজ্জামান অপু জানান, পরপর কয়েক বছর মেলাতে সেরা ভ্যাটদাতা হিসেবে ওয়ালটন সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছ থেকে সেরা পুরষ্কারের সম্মান অর্জন করেছে। এটা আমাদের যথাযথভাবে ভ্যাট প্রদানে অনুপ্রানিত করেছে। আশা করছি এবারও সেই খ্যাতি অক্ষুন্ন থাকবে।

তিনি যোগ করেন, এবার মেলায় চার শতাধিক মডেলের পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করছে ওয়ালটন। ওয়ালটন ছাড়াও সনি র‌্যাংগস, মাইওয়ান ও যমুনা ইলেক্ট্রনিক্স বাণিজ্য মেলায় নতুন নতুন পণ্য মেলায় নিয়ে এসেছে।

এছাড়া ব্যাপক পরিমানে ফার্নিচার, ক্রোকারিজ আইটেম, প্লাষ্টিক পণ্য, প্রসাধনী এবং পোশাক পণ্যের সমাহার ঘটেছে এবারের মেলায়। যে কারনে মেলা উদ্বোধনের পর থেকেই ভ্যাট আদায়ের প্রবৃদ্ধিও ইতিবাচক।
উল্লেখ্য, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) আয়োজিত এ মেলা চলবে ৩১শে জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলার কার্যক্রম চলছে।