‘বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে’ আনা কাগজ আটক

প্রকাশ:| রবিবার, ১ নভেম্বর , ২০১৫ সময় ১০:৩৪ অপরাহ্ণ

বন্দরেশুল্কমুক্ত (বন্ড) সুবিধার অপব্যবহার করে ‘বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে’ আনা ১০০ টন কাগজ (আর্ট পেপার) আটক করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। রোববার বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে (এনসিটি) কায়িক পরীক্ষার সময় জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে।

অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সৈয়দ মোকাদ্দেস হোসেন জানান, নারায়ণগঞ্জের ফেডারেল করপোরেশনের নামে সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দরে ১১ কনটেইনারে ২৭৫ টন কাগজ আসে। গত ২৬ অক্টোবর আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে বিল অব এন্ট্রি দাখিল করা হয়। কিন্তু আমদানিকারকের ঘোষণা ছিল প্রতি বর্গমিটারে ৩০০-৩৫০ গ্রাম আর্ট পেপার হবে। বাস্তবে চারটি কনটেইনারে আমরা প্রতি বর্গমিটার আর্ট পেপারে পেয়েছি ২২৫ গ্রাম। যা মিথ্যা ঘোষণায় বাণিজ্যিক ব্যবহারের উদ্দেশ্যে আনা হয়েছে বলে ধারণা করছি আমরা।

তিনি জানান, ১১টি কনটেইনারের মধ্যে ৪টি কনটেইনারের ইনভেন্ট্রি বা ঘোষণার সঙ্গে প্রাপ্ত পণ্যের তালিকা তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। যাতে ১০০ টন আর্ট পেপার পাওয়া গেছে। বাকি কনটেইনারগুলো পর্যায়ক্রমে ইনভেন্ট্রি করা হবে। সেগুলো ১৭৫ টন কাগজ থাকার কথা। বাণিজ্যিক হিসাবে শুল্ককরাদি ধরলে এ চালানে প্রায় ৩ কোটি টাকার রাজস্ব জড়িত। যা ফাঁকি দিতে চেয়েছিল আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্ট একটি চক্র। তদন্ত সাপেক্ষে আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কাস্টমস আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, দেশের ক্রমবিকাশমান কাগজশিল্পকে হুমকির মুখে ফেলে একটি চক্র নামে-বেনামে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে নিম্নমানের কাগজ আমদানি করে ভোক্তাদের সঙ্গে যেমন প্রতারণা করছে তেমনি কম মূল্যের কাগজ বেশি মূল্য দেখিয়ে অর্থপাচার (মানি লন্ডারিং) এবং শুল্কমুক্ত সুবিধার অপব্যবহার করে সরকারের প্রাপ্য রাজস্বও ফাঁকি দিচ্ছে।