বাজার তদারকিতে জেলা প্রশাসক, ৪ জনকে জেল-জরিমানা

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ১ জুলাই , ২০১৪ সময় ১১:৩১ অপরাহ্ণ

ভেজাল আর ঊর্ধ্বমুখী দ্রব্যমূল্য নিয়ে উৎকণ্ঠিত নগরবাসীর উদ্বেগ কমাতে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বাজার তদারকিতে নেমেছেন স্বয়ং জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন।
বাজার তদারকিতে জেলা প্রশাসক, ৪ জনকে জেল-জরিমানা
সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর রেয়াজুদ্দিন বাজারের বিভিন্ন কাঁচামালের আড়ৎ, পাইকারি ও খুচরা দোকান পরিদর্শন করেন তিনি।

বাজার পরিদর্শনকালে আড়ৎদার, পাইকারি-খুচরা বিক্রেতা ও ক্রেতাদের সঙ্গে পণ্যের দরদাম নিয়ে কথা বলেন জেলা প্রশাসক। এ সময় অতিরিক্ত মূল্য আদায় থেকে বিক্রেতাদের বিরত রাখতে ধর্মীয় নির্দেশনা সম্বলিত লিফলেট বিতরণ করেন তিনি।

পরিদর্শকালে মূল্য তালিকা না টাঙানো ও অতিরিক্ত মূল্যে পণ্য বিক্রির অভিযোগে এক আড়ৎদার, দুই খুচরা দোকানদার ও এক দোকান কর্মচারীকে হাতে নাতে ধরেন তিনি। পরে, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সঙ্গে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশনা দেন।

প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বাজার পরিদর্শনে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইলিয়াস হোসেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাবিবুল হাসানসহ চট্টগ্রাম চেম্বার, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই), কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এবং পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বাজার পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক সাংবাদিকদের বলেন, মূল্য তালিকা টাঙানোর সরকারি নির্দেশনা থাকলেও অধিকাংশ দোকানদার তা মানছে না। এ নিয়মকে জোরদার ও বাজারগুলোতে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে নগরীকে পাঁচটি অঞ্চলে ভাগ করে পাঁচজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে প্রতিদিন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে।

রমজানের প্রথম দিনে যে মূল্যে পণ্য বিক্রি হয়েছে অভিযানের কারণে তা অনেক কমে এসেছে দাবি করে তিনি বলেন, পাইকারি ও খুচরা বাজারে পণ্যে মূল্যের অনেক তফাৎ। অতিরিক্ত দামের জন্য খুচরা ব্যবসায়ীরা দায়ী। তাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘বিক্রেতাদের অতিরিক্ত মূল্য আদায় থেকে বিরত রাখতে প্রাথমিকভাবে আমরা ধর্মীয় নির্দেশনামূলক বিভিন্ন প্রচারণা চালাচ্ছি। এরপরও যদি তারা কম মুনাফায় পণ্য বিক্রির বদলে ভোক্তাদের হয়রানি করে মুনাফা বৃদ্ধির চেষ্টা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই।

চারজনকে জেল-জরিমানা:
বাজার পরিদর্শনকালে অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের দায়ে এক আড়ৎদার, দুই খুচরা ব্যবসায়ী ও এক দোকান কর্মচারীকে হাতেনাতে ধরে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন।

এসময় জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাবিবুল হাসান মূল্য তালিকা না টাঙানো ও অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের দায়ে চারজনের প্রত্যেককে একমাসের করে কারাদণ্ড দেন। এছাড়া, একজনকে একইসঙ্গে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, বিছমিল্লাহ বাণিজ্যালয় নামে এক আড়তের মালিক মো. মহসিন, খুচরা দোকান মেসার্স কবির স্টোরের মালিক কবির হোসেন ও দোকান কর্মচারী মো. রাসেল এবং মালেক স্টোরের মো. আবদুল মালেক।

এদের মধ্যে মহসিনকে অতিরিক্ত মূল্যে শসা বিক্রির দায়ে একমাসের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।