বাঙালির মুক্তির জন্যই আওয়ামীলীগের জন্ম হয়েছিল

প্রকাশ:| শুক্রবার, ২৩ জুন , ২০১৭ সময় ১০:২৩ অপরাহ্ণ

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় ড. অনুপম সেন

বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য প্রফেসর ড. অনুপম সেন বলেছেন, ৪৭ সালে বাঙালিদের একচেটিয়া ভোটে পাকিস্তান সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু অল্প কয়েকদিনের মাথায় তৎকালীন বাঙালির রাজনৈতিক নেতৃত্ব উপলব্ধি করেন যে, পাকিস্তান নামক অবৈজ্ঞানিক রাষ্ট্র কাঠামোয় বাঙালির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তি সম্ভব নয় এবং এ লক্ষ্য অর্জনে বাঙালিদের শক্তিশালী একটি রাজনৈতিক মঞ্চ গড়ে তোলার তাগিদ থেকেই ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার রোজগার্ডেনে আওয়ামীলীগের জন্ম হয়। তিনি আরো বলেন, ঐ সময়ে মাওলানা ভাসানী সভাপতি, শামসুল হক সাধারণ সম্পাদক ও কারাবন্দী শেখ মুজিবুর রহমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হন। ১৯৬৩ সালে এক কঠিন সময়ে শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামীলীগের নেতৃত্বের হাল ধরেন এবং তিনি সভাপতি তাজ উদ্দিন আহমেদকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ধাপে ধাপে নানান ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগকে উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক সংগঠনে পরিণত করেন। আসলেই আওয়ামীলীগের জন্মের ঠিকুজীর মধ্যেই বাঙালির স্বাধীন সত্তা অভূদয়ের ইঙ্গিত মেলে। আজ বিকেলে নগরীর জেলা পরিষদ মিলনায়তনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ৬৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর শাখা আয়োজিত আলোচনা সভায় মুখ্য আলোচকের বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, ৬৫ সালের পাক্-ভারত যুদ্ধের পর তাসখন্দ চুক্তিতে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান স্বাক্ষর করলে পাকিস্থান ফুঁসে উঠে। ১৯৬৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে বিরোধী দল একটি রাজনৈতিক কনভেনশন আহ্বান করলে শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার সম্বলিত ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবী উত্থাপন করেন। এই ৬ দফায় প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র ও যোগাযোগ এই তিনটি খাত ছাড়া অন্যান্যগুলি প্রাদেশিক সরকারের হাতে ন্যাস্ত করার প্রস্তাব দেয়া হয়। এসময় সাথে সাথেই পাকিস্তানী রাজনৈতিক দলের নেতা এমন কি বেশ কয়েকজন বাঙালিও ৬ দফার বিরোধিতা করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, পরবর্তীতে নানান ঘটনা প্রবাহ ও রাজনৈতিক ধারাবাহিকতায় এই ৬ দফা বাঙালির মুক্তির সনদ হিসেবে জাতিকে পথ দেখায়। এই ৬ দফার বিরুদ্ধে নানান ষড়যন্ত্র হয়। বঙ্গবন্ধু ও তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক নির্যাতন, নিপীড়ন নেমে আসে। বঙ্গবন্ধুকে বিচ্ছিন্নতাবাদী, দেশবিরোধী, রাষ্ট্রদ্রোহী আখ্যায়িত করে তিনি সহ বেশ ক’জন সামরিক বেসরকারি আমলা এবং রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতিকে উদীপ্ত করে ৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয়ের মধ্য দিয়ে আওয়ামীলীগের বিজয় এবং এই বিজয়কে বানচাল করার চেষ্টা করা হলে ৬দফা ১দফায় রূপান্তরিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়। আজকের বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের ফসল। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু এই বাংলাদেশের জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তির স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু ৭৫-এর ১৫ আগস্ট কালো রাতে তাঁকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে এদেশের ইতিহাসের উল্টোযাত্রা ঘটানো হয়। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ও সরকারের নেতৃত্ব দিয়ে এই বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক মুক্তির দিকে ধাবিত করছেন। আজ আমাদের প্রত্যেককে এই সত্যটি উপলব্ধি করতে হবে যে শেখ হাসিনাকে আগামী নির্বাচনে আবার ক্ষমতায় আনতে পারলে আমাদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব অক্ষুন্ন থাকবে এবং অর্থনৈতিক মুক্তি তরান্বিত হবে। সভাপতির ভাষণে আলহাজ্ব এ.বি.এম. মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, একটি কঠিন সময়ে আজ থেকে ৬৮ বছর আগে আওয়ামীলীগের জন্ম হয়েছিল। এরপর থেকে আওয়ামীলীগ অনেক অনেক কঠিন ও দুর্গম পথ অতিক্রম করে সামনে দিকের দিকে এগিয়েছে। আওয়ামীলীগ কঠিনেরে ভালোবাসে এবং তাকে জয় করতে জানে। তিনি আরো বলেন, ২০১৯ সালের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের জন্য আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। ভালো প্রার্থী যাতে নৌকা প্রতীক পেতে পারেন এবং নৌকা প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত করতে খুঁটিনাটি জরিপ আমরা শুরু করেছি। তাই দলের পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের আওয়ামীলীগের যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন সাপেক্ষে দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার বিজয় ছিনিয়ে আনতে কৌশল অবলম্বন করতে হবে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও নির্বাহী সদস্য যারা মন্ত্রী-এম.পি হয়েছেন তারা দলের সভায় আসেন না, দলের কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করেন না। দলের সাধারণ স্তরের নেতাকর্মীদের সাথে তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন এবংœ তারা নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত। তারা যদি পদ-পদবী ছেড়ে না দেন তাহলে মহানগর আওয়ামীলীগ তাদেরকে অব্যাহতি দেয়ার জন্য কেন্দ্রের কাছে সুপারিশ করবে। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দিন বলেছেন, আওয়ামীলীগ অতীতে অনেক কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছে। আমরা এখনো কঠিন সময় অতিক্রান্ত করছি। তাই আত্মতৃপ্তির সুযোগ নেই। মনে রাখতে হবে ঐক্যই আওয়ামীলীগের অস্তিত্বের সুদৃঢ় শক্তি। আমাদের মধ্যে মত ভিন্নতা ও মত পার্থক্য থাকতে পারে। কিন্তু আমাদের নীতি ও আদর্শ এক এবং নেত্রী একজনই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর নেতৃত্বে আগামী ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে দলের নিরঙ্কুশ বিজয় ছিনিয়ে আনতে হবে। যদি কোনো ধরণের বিপর্যয় ঘটে তাহলে দল, দেশ ও জাতির জন্য ভয়াবহ বিপদ নেমে আসবে এবং তখন আমরা কেউ নিরাপদ থাকবো না। তাই সব ধরণের হীন সংকীর্ণতা পরিহার করে দল ও দেশের বৃহত্তর স্বার্থে আমাদের নিজেদের মধ্যে ঐক্যকে অটুট রাখতে হবে। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক আদনানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন মহানগর আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব নঈমুদ্দিন চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক চন্দন ধর, বন পরিবেশ সম্পাদক মশিউর রহমান চৌধুরী, উপ-প্রচার সম্পাদক শহিদুল আলম, কার্যনির্বাহী সদস্য নুরুল আলম, সদরঘাট থানা আওয়ামীলীগেরক সভাপতি জাহাঙ্গীর চৌধুরী সিইনসি স্পেশাল, ১৫নং বাগমনিরাম ওয়ার্ডের সভাপতি কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন। উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব বদিউল আলম, সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য এড. শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, আবদুল আহাদ, দেবাশীষ গুহ বুলবুল, ইঞ্জি: মানস রক্ষিত, কার্যনির্বাহী সদস্য হাজী মো: ইয়াকুব, এড. কামাল উদ্দিন আহমদ, বখতিয়ার উদ্দিন খান, মোহব্বত আলী খান, গৌরাঙ্গ চন্দ্র ঘোষ, অমল মিত্র, রোটারিয়ান মো: ইলিয়াছ, কেন্দ্রীয় আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মাহমুদুল হক, থানা আওয়ামীলীগের আলহাজ্ব সাহাব উদ্দিন আহমদ, সিদ্দিক আলম, টিংকু বড়–য়া, হাজী মো: ইলিয়াছ, মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকা, ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের এস.কে পাল, কায়সার মালিক, আবদুল মান্নান, সালাউদ্দিন ইবনে আহমেদ, শেখ সরওয়ার্দী, আইয়ুব খান, নিজাম উদ্দিন নিঝু, আবদুল মান্নান, ইসকান্দর মিয়া, হাবিবুর রহমান, মো: জসিম উদ্দিন, প্রমুখ। এর আগে সকালে দারুল ফজল মার্কেটস্থ দলীয় কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান ও জাতীয় এবং দলীয় পতাকা উত্তলন করা হয়।


আরোও সংবাদ