বাঙালিত্বের চেতনায় বিশ্বাসী মানুষদের বিশুদ্ধ স্লোগান জয় বাংলা : মন্ত্রী মহসিন আলী

প্রকাশ:| শুক্রবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি , ২০১৪ সময় ০৭:৫৮ অপরাহ্ণ

ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে কথামালা অনুষ্ঠান

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী এমপি বলেছেন, মাটির টান আর ধর্মের টান এক জিনিস নয়। সময়ের প্রয়োজনে মানুষের জীবনে মাটির টানটিই সবচেয়ে বড় বিষয় হয়ে দাঁড়ায়, একাত্তরের চেতনা আমাদের সেই বিষয়টি বারবার মনে করিয়ে দেয়।
তিনি বলেন, একাত্তরের চেতনা যদি ধরে রাখতে হয় তবে জয় বাংলা বলতে হবে। বাঙালিত্বের চেতনায় বিশ্বাসী মানুষদের বিশুদ্ধ স্লোগান জয় বাংলা। বঙ্গবন্ধুর পরশ না পেলে আজকের রাজনীতিক সৈয়দ মহসিন আলী হতে পারতেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, শহীদ জননী জাহানারা ইমাম অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে আমৃত্যু সংগ্রাম করেছেন। শহীদ জননীর অসমাপ্ত সংগ্রামকে পরিপূর্ণতার দিকে নিয়ে গেছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা।
গতকাল ১৪ ফেব্র“য়ারি, শুক্রবার বিকেল ৪টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তনে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি চট্টগ্রাম জেলা আয়োজিত শহীদ জননী জাহানারা ইমামের আন্দোলনের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কথামালা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
সংগঠনের জেলা আহবায়ক সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডভোকেট সীমান্ত তালুকদারের সভাপতিত্বে প্রধান আলোচক ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী। সূচনা বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়ক লেখক-সাংবাদিক শওকত বাঙালি। জেলা নেতা অলীদ চৌধুরী ও মো. মহিউদ্দিন সোহেলের সঞ্চালনে আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় মহিলা সংস্থা মৌলভীবাজার জেলার চেয়ারম্যান ও মৌলভীবাজার মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী সৈয়দা জোহরা আলাউদ্দিন, স্বাধীনতা সংগ্রামী মানিক চৌধুরীর সুযোগ্য সন্তান সংগঠনের সাবেক সহ-সভাপতি দীপংকর চৌধুরী কাজল, নারীনেত্রী জেসমিন সুলতানা পারু, রাজনীতিক স্বপন সেন প্রমুখ।
শহীদ জননী জাহানারা ইমামকে উৎসর্গকৃত কবিতা আবৃত্তি করেন জেলা নির্মূল কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি শিক্ষকনেতা অঞ্চল চৌধুরী ও আবৃত্তিশিল্পী অ্যাডভোকেট মিলি চৌধুরী।
শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী বলেন, শহীদজননীর কাছে আমাদের ঋনের শেষ নেই। তিনি আমাদের শিখিয়ে গেছেন কিভাবে যুদ্ধাপরাধীদের ঘৃণা করতে হয়। দেশকে মায়ের সাথে তুলনা করে তিনি আরো বলেন, আমার মায়ের সম্ভ্রম রক্ষা করতে, আমার মাটিকে রক্ষা করতে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীদের সর্বশক্তি দিয়ে রুখতে হবে। সামাজিকভাবে, রাজনৈতিকভাবে, অর্থনৈতিকভাবে সর্বপরি সর্বত্র তাদের বয়কট করতে হবে।
সৈয়দা জোহরা আলাউদ্দিন বলেন, যারা রাজাকারদের বিভিন্ন সময়ে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে তাদেরও বিচারের আওতায় আনতে হবে।
সূচনা বক্তব্যে লেখক-সাংবাদিক শওকত বাঙালি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আজ যে নতুন প্রজন্ম সৃষ্টি হয়েছে তার পেছনে নির্মূল কমিটির অবদান অনস্বীকার্য। শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের নেতারা ঘোষণা করেছে তারা জাহানারা ইমামের আন্দোলনের সন্তান। এতে প্রমাণিত হয় জাহানারা ইমাম ও তাঁর সংগঠন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ২২ বছরের নিরবিচ্ছিন্ন আন্দোলন বিফলে যায়নি। আজ শাহবাগ না হলে কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর হতো না। তবে এটাও সত্য কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করার ব্যাপারে জননেত্রী শেখ হাসিনার অবদানও অনস্বীকার্য। কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর না করার জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চাপ এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরী এবং জাতিসংঘের মহাসচিব বানকি মুনের টেলিফোনে অনুরোধকে উপেক্ষা করে তিনি যে সাহস ও দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন তা ইতিহাস হয়ে থাকবে।
সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট সীমান্ত তালুকদার বলেন, নির্মূল কমিটি মনে করে কয়েকজন যুদ্ধাপরাধীকে ফাঁসি দিলেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন হবে না। দীর্ঘ লড়াই সংগ্রামের মাধ্যমেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন করতে হবে। যতদিন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন না হবে ততদিন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সদস্যরা প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম জীবন বাজী রেখে লড়ে যাবে।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা নেতা ফয়সাল চৌধুরী, অরুণ কান্তি দাশ, মো. জোবায়ের, মো. এসকান্দর আলী, অমিতাভ সেন, সাব্বির হোসাইন, মাহিদুল ইসলাম নকীব, মাউসুফ উদ্দিন মাসুম, অভি চৌধুরী, অসিত বরণ বিশ্বাস, মঈদুল ইসলাম, মিথুন নাথ রনি, নূর ইউ নোমান, কামাল উদ্দীন চৌহানী, রাসেল দে, নিখিলেশ সরকার রাজ, শরীফুল ইসলাম, নিউটন দে, প্রকৃতি চৌধুরী ছোটন, মানস দে কাব্য, মো. পারভেজ, অনিমেষ দাশ অনিক, মিথুন ভট্টাচার্য, যুবলীগ নেতা জাহেদুর রহমান সোহেল, সংস্কৃতিকর্মী অধ্যাপিকা সায়রা বানু রুশ্নী, রেহেনা বেগম, মমতাজ বেগম রোজী প্রমুখ।