বাগেরহাটে জামায়াতের হাতে পুলিশ অবরুদ্ধ, ওসিসহ পাঁচ পুলিশ আহত

প্রকাশ:| রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর , ২০১৩ সময় ১০:৫৭ অপরাহ্ণ

বাগেরহাট শহরতলীতে ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক জেলা সভাপতি মঞ্জুরুল হক রাহাতের বাড়িতে অভিযান চালাতে যেয়ে জামায়াত-শিবির কর্মীদের হামলার মুখে পড়ে বাগেরহাট সদর থানার ওসিসহ পুলিশের অন্তত পাঁচ সদস্য আহত হয়েছেন। প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর অতিরিক্ত পুলিশ যেয়ে ৫৩ রাউন্ড গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আজ রবিবার রাত সাতটার দিকে সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের দেওয়ানবাটি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

জামায়াতে ইসলামী পুলিশের উপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং পুলিশের গুলিতে তাদের দুই কর্মী গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ২০ কর্মী সমর্থক আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে। তবে তাত্ক্ষণিকভাবে তারা আহতদের নাম পরিচয় জানাতে পারেনি।

হামলাকারীদের ধারালো অস্ত্র ও ইটের আঘাতে আহতরা হলেন বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: লিয়াকত হোসেন, কনস্টেবল আব্দুল হামিদ (৪৭), ভিক্টর (২২) ও তানজির (২০), ওজিয়র (৩৭)। আহত চার পুলিশ কনস্টেবলকে রাত পৌনে নয়টার দিকে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মোল্লা নিজামুল হক রাতে এই প্রতিবেদককে জানান, মঞ্জুরুল হক রাহাতের বাড়িতে জামায়াতে ইসলামীর নেতারা গোপন বৈঠক করে নাশকতার পরিকল্পনা করছেন এমন সংবাদের ভিত্তিতে রাত সাতটার দিকে একদল পুলিশ ঐ বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় বাড়ির পার্শ্ববর্তী খান জাহান আরী ট্রাস্ট পরিচালিত খান জাহান আলী আদর্শ আলিম মাদ্রাসা থেকে ‘গ্রামে ডাকাত পড়েছে’ বলে মাইকিং করা হলে আশেপাশের বাড়ি থেকে জামায়াত-শিবির কর্মীরা পুলিশের উপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় তারা বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। খবর পেয়ে বাগেরহাট পুলিশ লাইন থেকে অতিরিক্ত পুলিশ যেয়ে ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ঘটনাস্থল থেকে কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।

তিনি জানান, হামলাকারীদের প্রতিহত করতে পুলিশ ৪০ রাউন্ড শর্টগানের গুলি, ৯ রাউন্ড চাইনিজ রাইফেলের এবং ৪ রাউন্ড পিস্তলের গুলি ছোড়ে।

খান জাহান আলী আদর্শ আলিম মাদ্রাসার সভাপতি মুহিতুল ইসলাম দাবি করেছেন যে, মাদ্রাসার পাশের খান জাহান আলী ট্রাস্ট পরিচালিত মসজিদ থেকে মাইকিং করে জামায়াত শিবিরের নেতা-কর্মীদের জড়ো করা হয়। পরে তারা পুলিশের উপর হামলা চালায়।

বাগেরহাট জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অ্যাড. আব্দুল ওয়াদুদ রাতে মুঠোফোনে এই প্রতিবেদককে বলেন, পুলিশ কোন কারণ ছাড়াই মঞ্জুরুল হক রাহাতের বাড়িতে ঢুকে তান্ডব চালিয়ে আসবাবপত্র, ফ্রিজ, মটর সাইকেল ভাংচুর করে। এ সময় রাহাত বাড়িতে ছিলেন না। পুলিশের হামলায় দলের দুই কর্মী গুলিবিদ্ধসহ অন্তত কুড়ি জন আহত হয়েছেন। পরে গ্রামবাসীর প্রতিরোধের মুখে পুলিশ পিছু হটে যায়।