বাউবি ছাত্রদের সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসার আহবান

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ২৫ মে , ২০১৭ সময় ১০:৫৮ অপরাহ্ণ

স্টাফ রিপোর্টারঃ বৃহষ্পতিবার (২৫ মে) বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি)’র ২০১৫-১৬ইং এস.এস.সি পরিক্ষায় প্রায় ৩৬০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ফলাফল অনুপস্থিত দেখানোকে নিয়ে ভূক্তভোগী ছাত্ররা সিআরবিস্থ বাউবি’র আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান ফটকে দিনব্যাপী অন্নশন করেন।
অন্নশনকালে শিক্ষর্থীদের মধ্যে এসময় বক্তব্য রাখেন মো. নাজিম উদ্দিন, মো. হাসান মুরাদ, কৌশিক বড়–য়া তূর্য, জয় বিশ্বাস, অসীম দাশ, নয়ন মিন দাশ, মো. শিপন হাওলাদার, মো. রুবেল, রূপা আকতার, মো. রবিন, রিংকু, মৌ, তামান্না, মুনা, শান্তা ও সাগর প্রমূখ।
এই সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংগঠন ‘ডাক দিয়ে যাই’র কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা ওমর ফারুক রণি, সভাপতি জিয়া উদ্দিন বাবলু, সহ-সভাপতি রিপন সিং অপু, সাধারণ সম্পাদক বেলাল উদ্দিন খান, ডাক দিয়ে যাই ছাত্র ফোরামের নেতা কাজী ইব্রাহিম সেলিম ও মো. গিয়াস।
বক্তারা বলেন- “১১টি বিষয়ে স্থলে ১৪ টি বিষয় পরিক্ষা দেখানো হয়, ২০১৫ সালের স্থলে ২০১৪ সালের রেজাল্ট দেখানো হয়েছে ৬মাস পূর্বে। সেই সকল শিক্ষার্থীদের মধে ৩টি শীটের প্রায় ৩৬৬ জনের মথ্যে ১২২ জনের ১টি শীটের শিক্ষার্থী অভিযোগ পাঠিয়ে ছিলো। অভিযোগের উত্তর আসতে বিলম্ব হওয়ার কারণে নিয়েছেন গাজিপুরে বাউবি’র প্রধান কার্যালয়ে। তখন যুগ্ম-পরীক্ষ নিয়স্ত্রক বলেছিলেন-“ তোমরা চট্টগ্রানে যাও আমি রেজাল্ট পাঠাচ্ছি”। সেই অভিযোগের উত্তর রেজাল্ট গুলো পাঠিয়েছেন গত মে মাসে তাও আবার অপরিবর্তিত। সেজন্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালক বলেন “আমার কিছু করার নেই”। পূর্বে এসব সমস্যার কারণে প্রতিবছর পরিক্ষা দিতেই থাকতেন শিক্ষর্থীরা। এভাবে পরীক্ষা দেওয়া মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর পাস না করেই শিক্ষাঙ্গন ছাড়তে হয় অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রীদের।
বক্তারা আরো বলেন- বাউবি’র যুগ্ম- পরিক্ষা নিয়ন্ত্রক এএসএম নোমান ও সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নাজনীন নেগার এই দুজনই শিক্ষার্থীদের এই সব সমস্যা সমাধানের দায়িত্বে আছেন। তাঁরাই শিক্ষার্থীদের সমস্ত সমস্যা সমধান করে দিতে পারেন কিন্তু তাঁরা কোন কথায় শুনছেন না। ব্যাংক ড্রাপ দিয়েছি তারপরও আমরা যখন পরিক্ষা দিতে যাই তখন পরিক্ষার হলে যে তালিকা সিট থাকে সেখাসে আমাদের নাম না থাকায় চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিচালকের কাছে হতে অনুমতিপত্র নিয়ে যাই, উনি সেদিন বলেছিলেন- “সিটে নাম উল্লেখ্য করে দেওয়া জন্য”। পরবর্তিতে পতিষ্টানকে ফি দিয়ে পরিক্ষায় অংশ গ্রহণ করি। পরবর্তীতে এবছর ফেরর্রুয়ারীর প্রথম সপ্তাহে পরিক্ষার রেজাল্ট বের হয়। ফেল পাস কিছুই নাই অন্য কথা নামও নেই। এবিষয়ে আমরা আঞ্চলিক পরিচালক বরাবরে আবেদন করি যে প্রায় সকল শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। উনি বিষয়টি দেখবেন বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু আজ চার মাস গত হয়ে গেল আমাদের কোন রেজাল্ট দেয়া হয়নি। এবিষয়ে ঢাকায় গিয়ে ছাত্ররা বাউবি’র প্রধান কার্যালয়ে লিখিতভাবে অবগত করি। এতেও কোন ফল হয়নি।
শিক্ষাব্যবস্থায় যদি এঅবস্থ হয় তাহলে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতি কি করে হবে। আমরা চাই আমাদের এই সমস্যার সমাধান হউক। আমারা উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণকর কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখি। আর সে কারণেই যেসব শিক্ষার্থী পরিক্ষা দিয়েও কোন ফল ফেল কিংবা পাস কোনটাই জানতে পারবে না তা হয় না। একটা না একটা জানাতে হবে বাউবি কর্তৃপক্ষকে। আমরা আন্দোলন সংগ্রাম চাই না আমরা আমাদের নায্য অধিকার চাই। আমরা কারো দয়া ভিক্ষা চাই না আমরা মানুয়ের মত মানুষ হতে চাই। সে সুযোগ আদায়ে আমাদেরকে আজ রাজপথে নামতে হয়েছে কেন তার জবাব চাই শিক্ষামন্ত্রির কাছে।”
বিকাল ৪টা নাগাদে বৃহত্তর চট্টগ্রাম উন্নয়ন ছাত্র সংগ্রাম কমিটির সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক মাসিক ফটিকছড়ি’র সাহিত্য সম্পাদক কবি তসলিম খাঁ অন্নশরত শিক্ষার্থদের অনুষ্টানস্থলে এসে পৌছেন। তিনি তাদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে অন্নশনরত শিক্ষার্থীদের সরবত পান করিয়ে অন্নশন ভংগ করেন। এর আগে তিনি সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন-“বর্তমান সরকার শিক্ষা ব্যবস্থায় যে পরিবর্তন এনেছে তা অভাবনীয়। শিক্ষা ক্ষেত্রে শিক্ষামন্ত্রানালয় সে বিষয়ে খুবই সজাগ। তোমরা যে লেখা পড়া করতে চাও সেটাও বড় কথা, তাই আমি ছাত্রছাত্রীদের যে সব সমস্যার আছে তার সমাধান করে লেখাপড়ার সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়ার অনুরোধ জানাব বাউবি কতৃপক্ষকে।”


আরোও সংবাদ