বাইসেকেলের পাইপে বিস্ফোরক দ্রব্য ভরে কুরিয়ারে ঢাকায় চালান

প্রকাশ:| রবিবার, ৮ মার্চ , ২০১৫ সময় ০৮:৫৪ অপরাহ্ণ

রাজধানীতে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাইসেকেলের পাইপে বিস্ফোরক দ্রব্য কুরিয়ারে করে ঢাকায় নিয়ে আসতো একদল নাশকতাকারী। ওই দলের তিনজনকে র‌্যাব আটক করার পর জিজ্ঞাসাবাদে তারা এই তথ্য জানিয়েছে। নাশকতার মূল পরিকল্পনাকারী বলে দাবি করা হচ্ছে ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুর রহমান খোকনকে। অবশ্য তাকে এখনো আটক করা যায়নি।

বাইসেকেলের পাইপে বিস্ফোরকঅন্য আটক ব্যক্তিরা হলেন- রাকীবুল ইসলাম মন্ডল (২৫), মো. আমিনুল ইসলাম রানা (৩০) ও রিয়াজুল ইসলাম (২২)।

শনিবার রাতে রাজধানীর পল্টন এলাকার কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি ও সূত্রাপুরের কলতা বাজার এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, রাজধানীতে তারা বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করে। এজন্য তারা খুলনা থেকে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন বিস্ফোরক দ্রব্য সংগ্রহ করে। এরপর বাই-সাইকেলের পাইপ খুলে বিস্ফোরক ভরে আবার অ্যাসেম্বল করা হয়। আবার পাইপের বিস্ফোরক দ্রব্য এমনভাবে স্থাপন করা হয় যাতে ফিউজে আগুন দেয়ার অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরক ভর্তি এসব সাইকেল কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ঢাকায় আসে।

র‌্যব-২ এর অপারেশন অফিসার মারুফ আহমেদ জানান, র‌্যাবের গোয়েন্দা দল জানতে পারে একদল নাশকতাকারী খুলনা থেকে ঢাকায় আনার জন্য বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক দ্রব্য সংগ্রহ করছে। ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ক্ষতিসাধন করার পরিকল্পনাও করে তারা। এরপর র‌্যাবের একটি দল শনিবার দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে পল্টনের কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি এলাকা থেকে রাকীবুল ইসলাম মন্ডলকে আটক করে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সূত্রাপুরের কলতা বাজার এলাকা থেকে আমিনুল ইসলাম ও রিয়াজুল ইসলামকে আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে ৫৮টি ককটেল, ১টি পাইপ বোমা, ৪৮টি পেট্রোলবোমা, ৫০০ গ্রাম সালফার পাউডার এবং নাশকতার কাজে ব্যবহৃত অন্যান্য সরঞ্জামাও উদ্ধার করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, চলমান অবরোধ এবং হরতালে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুর রহমান খোকনের নির্দেশে রাজধানীর গুলশান, বাড্ডা, মতিঝিল, কাওরান বাজার এবং ধানমণ্ডি এলাকায় বিভিন্ন সময় ককটেল বিস্ফোরণ, অগ্নিসংযোগ করে নাশকতা করছে।

র‌্যাব কর্মকর্তা মারুফ আহমেদ বলেন, ‘নাশকতার কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য খোকন তার আস্থাভাজন ছাত্রদল নেতা মো. আমিনুল ইসলাম রানা এবং রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ জনবল সরবরাহের নির্দেশ দেন। খোকনের নির্দেশে রানা এবং রিয়াজ টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন সময়ে তিতুমীর কলেজ শাখার ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের খোকনের কাছে পাঠাতেন। খোকন তার গাড়িতে হাতবোমা ও বিস্ফোরক বহন করে ছাত্রদল ক্যাডারদের কাছে সরবরাহ করতেন। তার নির্দেশিত স্থানগুলোতে তারা হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটাতো।’

খোকনের পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা ছিল খোকনের। তাকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।’