বাংলাদেশ সফর কঠিন হয়ে যাচ্ছে: লেহম্যান

প্রকাশ:| বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর , ২০১৫ সময় ০৯:২৪ অপরাহ্ণ

লেহম্যানঅস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফর নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি। তবে অসি কোচ ড্যারেন লেহম্যান চাচ্ছেন এ সফরটি হোক। লেহম্যান বলেন, প্রস্তাবিত বাংলাদেশ সফরটি না হলে তিনি হতাশ হবেন। পাশাপাশি নিজ দলের খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার বিষয়টিই তার কাছে প্রথম বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

২৮ সেপ্টেম্বরই অস্ট্রেলিয়া দলের কিছু সদস্যের বাংলাদেশে এসে পৌছানোর কথা ছিল। কিন্তু সময় দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি স্বীকার করে লেহম্যান বলেন, সময় যেভাবে দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে তাতে অস্ট্রেলিয়া দলের বাংলাদেশ সফরটা কিছুটা কঠিন হয়ে গেছে। অস্ট্রেলিয়া টেস্ট দলে থাকা ক্রিকেটারদের ইতোমধ্যেই প্রাদেশিক দলগুলোতে অনুশীলন শুরু করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। লেহম্যান বলেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যেই একটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে বলে আশা করছেন তিনি।

স্থানীয় ৫এএ রেডিওকে অস্ট্রেলিয়ার প্রধান কোচ বলেন, ‘সত্যি বলতে বিষয়টা এখন অনেক কঠিন হয়ে গেছে।’ ‘বোর্ডের সিদ্ধান্তের জন্য শেষ পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে এবং নিরাপত্তার বিষয়টি দেখতে হবে। তবে খেলোয়াড় এবং সাপোর্টিং স্টাফদের নিরাপত্তার বিষয়ে আমাদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ‘আমরা এখনো সিরিজের অপেক্ষায় আছি। নিরাপত্তা দলের সদস্যরা আজ বাংলাদেশ থেকে ফিরেছেন। অতএব আমাদের মত তারাও বোর্ডের সঙ্গে অবশ্যই লোচনা করবেন। সুতরাং আশা করছি ২৪ ঘন্টার মধ্যেই আমরা একটা উত্তর পাব।’
বাংরাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ডিপার্টমেন্ট অব এ্যাফেয়ার্স এন্ড ট্রেড (ডিএফএটি)এবং অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার্স এসোসিয়েশন ইউনিয়ন ও নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে নিজেদের আলোচনা অব্যাহত রেখেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)।

বাংরাদেশ সরকার এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনায় পূর্ণ নিরাপত্তার আশ্বাস নিয়ে সিএ’র নিরাপত্তা প্রতিনিধি ঢাকা থেকে আজ দেশে ফিরেছেন।
লেহম্যান বার বার বলেন সফরটি না হলে তিনি খুবই হতাশ হবেন। তবে খেলোয়াড়দের মঙ্গলের বিষয়টি সবার আগে।
তিনি বলেন, ‘তারুণ্য নির্ভর দলটি দারুণ উত্তেজনার মধ্যে আছে।’
‘আমরা সেখানে যেতে পারলে এবং খেলা হলে সময়টা দারুণ কাটবে। তবে দুঃখজনকভাবে সফরটি না হলে আমাদের প্লান বি নিয়ে ভাবতে হবে।’ এর আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপাতি নাজমুল হাসান পাপন প্রস্তাবিত সফরটি হওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। সূচি অনুযায়ী ৯ অক্টোবর চট্টগ্রামে প্রথম টেস্ট শুরু হওয়ার কথা ।

বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘আমরা তাদেরকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তা দেয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছি। কোন দলকে এর এ পর্যায়ের নিরাপত্তা দেয়া হয়েছে বলে আমি মনে করিনা। এরপরও যদি তারা না আসে তবে সেটা হবে দু:খজনক।’ ‘মাত্র কয়েক মাস আগে তিনটি দল এখানে আসার পর অস্ট্রেলিয়া না এলে সেটা মেনে নেয়াটা কঠিন হবে। এমনকি সম্প্রতি ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও বাংলাদেশ সফর করেছেন।’ গত কয়েকমাসে দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত এবং পাকিস্তান ক্রিকেট দল বাংলাদেশ সফর করেছে এবং কোন ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেনি। জঙ্গীরা তাদের নাগরিকদের উপড় হামলা করতে পারে- অস্ট্রেলিয়া সরকার ‘বিশ্বস্ত তথ্য’ পাওয়ার পর শুক্রবার সতর্ক বার্তা জারির পরই সব কিছু বদলে যায়। সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকাতে ইতালির এক নাগরিক সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হওয়ার পর অবস্থা আরো ঘোলাটে হয়ে যায়।

ইসলামিক স্টেট এ হামলার দায় স্বীকার করেছে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারিত হয়। ইসলামিক স্টেটের এমন দাবি সম্পর্কে তারা অবগত বলে জানিয়েছেন পিএফএটি’র এক মুখপাত্র। তবে বিষয়টি এখনো ভেরিফাই করা হয়নি বলেও উল্লেখ করেন ঐ মুখপাত্র।