১০ জনকে খুঁজছে পুলিশ চালকের ছদ্মবেশে মলম পার্টি!

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল , ২০১৪ সময় ১০:১৩ অপরাহ্ণ

গাজী ফিরোজ,প্রথম আলো>>চট্টগ্রাম নগরে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকের ছদ্মবেশে থাকা মলম পার্টির দলনেতাসহ ১০ সদস্যকে হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিশ। তাঁরা যাত্রী নিয়ে গন্তব্যস্থলে যাওয়ার পথে নষ্ট হওয়ার অজুহাতে নির্জন স্থানে গাড়ি থামান। এরপর আগে থেকে ওত পেতে থাকা দলের অন্য সদস্যরা গাড়িতে উঠে পড়েন। কখনো অস্ত্র, আবার কখনো ছুরির ভয় দেখিয়ে যাত্রীর সর্বস্ব কেড়ে নেন। পরে চোখে মলম লাগিয়ে যাত্রীকে নামিয়ে দেন নির্জন স্থানে। সঙ্গে থাকা জিনিসপত্র দিতে দেরি করলে কখনো যাত্রীকে তাঁরা খুনও করেন।
নগর পুলিশ প্রথমবারের মতো চালকের বেশে থাকা মলম পার্টির সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য। তাঁদের উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশ জানায়, এ কাজে তাঁরা নিজেদের লোকজনকে চালক হিসেবে ব্যবহার করেন। এতে ধরা পড়ার আশঙ্কা থাকে না। এই দলের ১০ জন চালককে দিয়ে নগরের যাত্রীদের মালামাল ও টাকাপয়সা ছিনতাই করছেন তাঁরা। দলের অন্য সদস্যরা ধরা পড়লেও চালকেরা থেকে যান ধরা-ছোঁয়ার বাইরে।
চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. বাবুল আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, নিজস্ব সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক ছাড়া মলম পার্টির সদস্যরা কাজে নামেন না। এ জন্য ১০ জন চালককে চিহ্নিত করে তাঁদের ধরতে মাঠে নেমেছে পুলিশ।
নগরের কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কামরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, মলম পার্টির সদস্যরা চালকের বেশে অটোরিকশায় যাত্রী ওঠান। ভাড়াও কম হাঁকেন যাত্রীর কাছ থেকে। পরে সুবিধামতো স্থানে গাড়ি নষ্ট হওয়ার অজুহাত তুলে দাঁড় করিয়ে রাখেন। ইতিমধ্যে ওই স্থানে দলের বাকি সদস্যরা অবস্থান নেন। তাঁরা নষ্ট হওয়া গাড়িতে উঠে পড়েন। যাত্রীকে ভয় দেখিয়ে সঙ্গে থাকা টাকাপয়সা ছিনিয়ে নেন। দিতে দেরি হলে কখনো খুন করতেও দ্বিধা করেন না।
একই থানার এসআই জহির উদ্দিন বলেন, ‘প্রথমবারের মতো নগর পুলিশ মলম পার্টির সদস্য একসঙ্গে তিন চালককে গ্রেপ্তার করেছে। তিন চালক হলেন সেলিম হোসেন ওরফে ফেরদৌস, মো. ইউসুফ ওরফে নাতি ও বাবুল হোসেন। তাঁদের বিরুদ্ধে এ কে খান গ্রুপের প্রকল্প প্রকৌশলী নেজাম উদ্দিন হত্যাসহ কয়েকটি মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তার তিন চালক পুলিশকে জানান, তাঁদের দলে ১০ জন সিএনজি অটোরিকশা চালক রয়েছেন। এঁরা হলেন জয়নাল আবেদীন, মানিক, ইসমাঈল হোসেন, মাসুম, আনোয়ার হোসেন ও রনি প্রমুখ। নিজেদের চালক ছাড়া তাঁরা কোনো অভিযানে নামেন না।
সম্প্রতি মলম পার্টির খপ্পরে পড়া পটিয়ার খলিল মীর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ সুভাষ চন্দ্র ধর প্রথম আলোকে বলেন, ‘নগরের কোতোয়ালি আমতলা থেকে হালিশহর যাওয়ার জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশাতে উঠি। নুর আহমদ সড়কের নেভাল এভিনিউ দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ গাড়ি থামান চালক ইউসুফ। জিজ্ঞেস করলে বলেন, নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি গাড়ি ঠিক করতে থাকেন। ইতিমধ্যে সেখানে মলম পার্টির দুজন সদস্য এসে গাড়িতে উঠে যান। তাঁরা আমার সঙ্গে থাকা মুঠোফোন, তিন হাজার টাকা ও হাতের আংটি নিয়ে নেন। পরে আমার চোখে মলম লাগিয়ে দামপাড়া এলাকায় নামিয়ে দেন। নেমে ধর ধর চিৎকার করলেও দ্রুত গতিতে চট্টমেট্রো গ-১১-৫৯৬৮ সিএনজিটি নিয়ে পালিয়ে যান মলম পার্টির সদস্যরা।’ তিনি আরও জানান, পরে বিষয়টি কোতোয়ালি থানার পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ অভিযান চালিয়ে চালকের বেশে থাকা মলম পার্টির তিন সদস্যসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁদের কাছ থেকে অধ্যক্ষ সুভাষ চন্দ্র ধরের মুঠোফোন উদ্ধার করে পুলিশ।


আরোও সংবাদ