বাংলাদেশ জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্রের রোল মডেল

প্রকাশ:| শুক্রবার, ২৩ ডিসেম্বর , ২০১৬ সময় ১১:৩৫ অপরাহ্ণ

ডিসি হিলে বঙ্গবন্ধু বইমেলা ও মুক্তিযুদ্ধের বিজয় উৎসবের আলোচনা সভায় ড. হাছান মাহমুদ

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের মুখপাত্র ও প্রচার প্রকাশনা সম্পাদক, সাবেক মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এম.পি বলেছেন, বাংলাদেশ গরীব নয়, জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র। এদেশ বিশ্বে শান্তি, সম্প্রীতি ও মুক্তিযুদ্ধের রোল মডেল যে কোনো প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি গতকাল বিকেলে নজরুল স্কোয়ার মঞ্চ ( ডিসি হিল প্রাঙ্গণে) বঙ্গবন্ধু বইমেলা ও মুক্তিযুদ্ধের বিজয় উৎসবের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৯৭৫ সালে নৃশংসভাবে স্বপরিবারে হত্যার পর দীর্ঘ ২১ বছর বাংলাদেশকে অন্ধকার যুগে ঠেলে দেওয়া হয়। ৯৬ সালে শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে অন্ধকার থেকে উত্তরণ ঘটান। ২০০১ সালে খালেদা জিয়া রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসে যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানান এবং জঙ্গিবাদের ভিত্তি স্থাপন করেন। এর ভয়াবহ পরিণতি আমরা দেখেছি, এর পুনরাবৃত্তি হতে দেব না। তিনি আরো বলেন, ক্ষমতার পালাবদল হবে এটাই গণতন্ত্র, তবে যারা স্বাধীনতা বিশ্বাসী নয়, জামাত-শিবিরের ছায়ায় তারা কিছুতেই ক্ষমতায় আসতে পারবে না। তাদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠভাবে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। মুখ্য আলোচকের ভাষণে সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নাট্য ব্যক্তিত্ব ম.হামিদ বলেছেন, বেগম জিয়া মানুষকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করে প্রমাণ করেছেন, তিনি বিশ্বের শীর্ষ সন্ত্রাসী গডমাদার। তিনি অসুন্দরের ছায়া এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাঠের খলনায়িকা। তার সাথে কোনো ধরণের সমঝোতা হতে পারে না। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের উন্নয়নের চালিকা শক্তি। তিনি আজ বিশ্ব নেত্রী, পৃথিবীর শান্তিকামী জনগণ তাঁর পক্ষে। সভাপতির ভাষণে বঙ্গবন্ধুর বইমেলা ও মুক্তিযুদ্ধের বিজয় উৎসবের কো-চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব বলেন, বঙ্গবন্ধু শোষিত জনগণের মুক্তির স্বপ্ন দেখতেন। শোষিতের স্বরাজ প্রতিষ্ঠায় তাঁরই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অব্যাহত প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন। আবৃত্তি শিল্পী দিলরুবা খানমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাংস্কৃতিক সংগঠক এবং বঙ্গবন্ধু বইমেলা ও মুক্তিযুদ্ধের বিজয় উৎসব উদ্যাপন পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী খোরশেদ আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য বখতিয়ার উদ্দিন খান, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, সাদার্ন ইউনিভার্সিটি ফার্মেসী বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর এম. মহিউদ্দিন চৌধুরী, নাট্যজন সাইফুল ইসলাম বাবু, সূচরিত দাশ খোকন, মেলার কার্যকরী মহাসচিব সুমন দেবনাথ। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন আকবর শাহ্ থানা আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক আবু সুফিয়ান, নগর ছাত্রলীগের সদস্য আল মামুন জুয়েল, চট্টগ্রাম আইন কলেজের ভিপি ওয়ায়েস কাদের। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক ইয়াছির আরাফাত, নগর যুবলীগের সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, এড. কামরুল আজম টিপু, আরিফ মঈনুদ্দিন, এড. টিপুশীল জয়দেব, শিক্ষক আবদুর রহিম চৌধুরী। অনুষ্ঠানের শুরুতেই দলীয় সংগীত, আবৃত্তি, মুখাভিনয়, একক সংগীত, দলীয় নৃত্য পরিবেশন করেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমী, চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীবৃন্দ। একক সংগীতানুষ্ঠান পরিবেশন করেন বেতার ও টেলিভিশন শিল্পীবৃন্দ। আলোচনা সভা শেষে দলীয় নৃত্য পরিবেশন করেন চারুতা নৃত্যকলা একাডেমী, বৃন্দ আবৃত্তি পরিবেশন করেন প্রমা আবৃত্তি সংসদ, বিশেষ সংগীতানুষ্ঠানে একক সংগীত পরিবেশন করেন বাংলাদেশ টেলিভিশন বেতার এবং নব প্রজন্মের শিল্পীবৃন্দ। আজ বিকেল ৫ টায় বিজয় মঞ্চে স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন সাবেক মন্ত্রী ডাঃ আফসারুল আমিন এম.পি, এম.এ. লতিফ এম.পি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি গোলাম কুদ্দুস, নগর পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী আলী আশরাফ, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আহকাম উল্লাহ।