বাংলাদেশ-চীন পাঁচটি চুক্তি স্বাক্ষর,শেখ হাসিনা-লি কেছিয়াং শীর্ষ বৈঠক

প্রকাশ:| সোমবার, ৯ জুন , ২০১৪ সময় ১০:১৬ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশ-চীন পাঁচটি চুক্তি স্বাক্ষরপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেছিয়াংয়ের শীর্ষ বৈঠক শেষে গতকাল সোমবার বেইজিংয়ে পাঁচটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশে একটি কয়লা–ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও চীনের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা। তবে সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি৷
গতকাল বেইজিংয়ের গ্রেট হলে আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে দুই দেশের কর্মকর্তারা চুক্তিগুলোতে সই করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফরের চতুর্থ দিনে দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি কেছিয়াংয়ের সঙ্গে তাঁর দপ্তরে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেন।
এদিকে শীর্ষ বৈঠকের আগে চায়না ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিআইআইএস) এক সেমিনারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এ সফরের মধ্য দিয়ে চীনের সঙ্গে সহযোগিতার নতুন পথ উন্মোচিত হবে।
পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হক গতকাল সন্ধ্যায় বেইজিং থেকে মুঠোফোনে জানান, সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের ব্যাপারে দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। দুই পক্ষই এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে মতৈক্যে পৌঁছেছে। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের পাঁচটি প্রকল্পে চীনের আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন৷ চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেছিয়াং এসব প্রকল্পে অর্থায়নে সম্মত হয়েছেন।
পররাষ্ট্রসচিবকে উদ্ধৃত করে বাসস জানায়, যে পাঁচটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে অর্থনীতি ও কারিগরি সহযোগিতাসংক্রান্ত চুক্তি এবং পটুয়াখালীতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন এবং নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেডের মধ্যে যৌথ বিনিয়োগ চুক্তি। বাংলাদেশে চীনের বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য বেপজা ও চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক এবং দুর্যোগকালীন উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত দ্বিতীয় দফায় যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং বাংলাদেশে বন্যা প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে সমীক্ষার আনুষ্ঠানিক পত্র।
চীনের আর্থিক সহায়তার আওতার পাঁচটি প্রকল্প হচ্ছে জাতীয় আইসিটি নেটওয়ার্কের আওতায় ইউনিয়ন পর্যন্ত সরকারি দপ্তরকে নেটওয়ার্কের আওতায় আনা, রাজশাহী ওয়াসার পানি পরিশোধনাগার প্রকল্প, কালুরঘাট পয়েন্টে কর্ণফুলী নদীর ওপর দ্বিতীয় রেল ও সড়কসেতু নির্মাণ, রামু হয়ে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত নতুন মিশ্র গেজ রেললাইন নির্মাণ, ইস্টার্ন রিফাইনারি ইউনিট-২ এবং সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং প্রকল্প প্রতিষ্ঠা।
গভীর সমুদ্রবন্দর প্রসঙ্গে: অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জানান, প্রধানমন্ত্রীর বেইজিং সফরের সময় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে চীনের প্রস্তাবিত রূপরেখা চুক্তি সইয়ের কথা ছিল। গত মাসের শেষ সপ্তাহে দেওয়া খসড়া চুক্তিতে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না হারবারকে বন্দর নির্মাণের কথা বলা হয়েছিল। এটি সইয়ের ব্যাপারে ১ জুন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল৷ তবে প্রধানমন্ত্রীর চীন যাত্রার আগেই চুক্তি সইয়ের সম্ভাবনা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, শুরুতে চীন গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে নমনীয় শর্তে ঋণ দেওয়ার কথা বললেও বাণিজ্যিক ঋণ দেওয়ার কথা জানায়৷ গভীর সমুদ্রবন্দরের নকশা, নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্বও চীন নিজের কাছে রাখতে চায়৷ এ ছাড়া, খসড়া চুক্তিতে সহযোগিতার ক্ষেত্রে চীনের সহায়তার বিষয়টি রাখার ওপর জোর দেয় বেইজিং। এসব বিষয়ে মতপার্থক্য হওয়ায় আপাতত গভীর সমুদ্রবন্দর নিয়ে কোনো চুক্তি সই না করার পক্ষে থেকেছে বাংলাদেশ।
সেমিনার: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন, চীনে তাঁর বর্তমান সফরে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার এবং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সহযোগিতার এক নতুন পথ উন্মোচিত হবে। তিনি বলেন, এখন থেকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও সাংস্কৃতিক বিনিময় অতীতের চেয়ে আরও বেশি গুরুত্ব পাবে।
গতকাল বেইজিংয়ে ‘সাম্প্রতিক বছরে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক সাফল্য এবং চীনের সঙ্গে অংশীদারি’ শীর্ষক সেমিনারে চীনের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। চায়না ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিআইআইএস) বেইজিংয়ে তার নিজস্ব কার্যালয়ে এ সেমিনারের আয়োজন করে৷