বাংলাদেশে ফোরজি সেবা চালু হচ্ছে

প্রকাশ:| রবিবার, ১৬ মার্চ , ২০১৪ সময় ১০:৫৮ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশে দ্রুত গতির ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করতে চলতি বছরেই লং টার্ম ইভ্যুলুশন এলটিই বা ফোরজি সেবা চালু হচ্ছে। প্রাথমিক অবস্থায় বাংলালায়ন, কিউবি, বাংলাদেশ ইন্টারনেট এক্সচেঞ্জ লিমিটেড (বিআইইএল), ম্যাংগো এবং রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিযোগাযোগ কোম্পানি বিটিসিএল এই সেবা চালুর লাইসেন্স পাচ্ছে। তবে আপাতত চলতি বছরে পর্যাপ্ত ডিভাইসের অভাবে মোবাইল ফোন অপারেটররা ফোরজি সেবা চালু করার ব্যাপারে অনাগ্রহ দেখিয়েছে। ফোরজি চালু প্রসঙ্গে বিটিআরসির চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস বলেন, তথ্য-প্রযুক্তি এবং ইন্টারনেট ব্যবহার আরো সহজ করার জন্য ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ফোরজি সেবা আসছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে ফোরজি সেবা চালু করার জন্য ২০০৮ সালের নিলামে ৯টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছিল। তার মধ্যে ৫টি (বাংলালায়ন, কিউবি, বাংলাদেশ ইন্টারনেট এক্সচেঞ্জ লিমিটেড (বিআইইএল), ম্যাংগো এবং রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিযোগাযোগ কোম্পানি বিটিসিএল) প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেয়া হচ্ছে। লাইসেন্স বাবদ এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে গুনতে হচ্ছে ২৪৬ কোটি টাকা। এদের মধ্যে বাংলালায়ন ও কিউবি লাইসেন্স নেয় এবং ম্যাংগো ছাড়া বাকি সবাই আর্নেস্ট মানি তুলে নেয়। আগের নিলামের ওপর ভিত্তি করেই ম্যাংগোকে এলটিই লাইসেন্স দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিটিআরসি। গত অক্টোবর মাসে বিডবিস্নউএ গাইডলাইন সংশোধনের বিষয়টি প্রকাশ করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি।

সূত্র আরো জানায়, ইতোমধ্যেই রাশিয়ান প্রতিষ্ঠান মাল্টিনেটের মালিকানাধীন বিআইইএলকে ২৪৬ কোটি টাকা দিয়ে এলটিই লাইসেন্স ও ২ হাজার ৬০০ ব্যান্ডে তরঙ্গ বরাদ্দ চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে নীতিমালা অনুযায়ী এই অপারেটর কেবল ডেটা সার্ভিস দিতে পারবে, কোনোভাবেই ভয়েস সার্ভিস দিতে পারবে না। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রকল্পের মাধ্যমে বিটিসিএল এলটিই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইন্টারনেট সেবা দেবে। আর লাইসেন্স বা তরঙ্গ ফি ওই প্রকল্প থেকেই দেয়ার কথা রয়েছে বলে জানা যায়।

এ বিষয়ে বিটিআরসির চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোষ বলেন, উন্নত দেশে এখন মোবাইল কথা বলার চেয়ে তথ্য-উপাত্তের জন্যই বেশি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। থ্রিজি সেবা ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। তথ্য-প্রযুক্তি এবং ইন্টারনেট ব্যবহার আরো সহজ করার জন্য আগামী অর্থবছরে (২০১৪-১৫) ফোরজি সেবা আসছে। বর্তমানে দেশের শতভাগ জনগণ মোবাইল কাভারেজের আওতায় রয়েছে। তাই ফোরজি সেবা সবার কাছে খুব সহজে পৌঁছে দেয়া সম্ভব। বর্তমানে দেশে টেলিফোন খাত বেশ ভূমিকা রাখছে বিশেষ করে বিটিসিএল। চলতি অর্থবছরে ১০ হাজার কোটি টাকার রেভিনিউ আসে এ খাত থেকে। যা আগামী বছর ১২তে ঠেকবে। এভাবে প্রতি বছরই এ খাত থেকে রেভিনিউ বৃদ্ধি পেতে থাকবে।

প্রসঙ্গত, বতর্মানে দেশে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১১ কোটি ৪৮ লাখ ৮ হাজার। একই সময়ে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ৩ কোটি ৫৫ লাখ ২২ হাজার। এর মধ্যে ৩ কোটি ৩৯ লাখ ৮৫ জন মোবাইলে এবং ১২ লাখ ২৫ হাজার জন ফিক্সড ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। ওয়াইম্যাক্স প্রযুক্তি পুরনো হয়ে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন প্রযুক্তিতে নিয়ে আসার জন্যই এ ফোরজির আগমন।

উল্লেখ্য, গত বছরের অক্টোবরে থ্রিজি (থার্ড জেনারেশন) মোবাইল ফোন সেবা চালু করা হয়। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটকের মাধ্যমে এ সেবা চালু করা হয়। এতে প্রযুক্তিগত সহায়তা করেছে চীন। পরবর্তীতে ৮ সেপ্টেম্বর নিলামের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে থ্রিজি অপারেশনের সুযোগ পায় ৪ বেসরকারি মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক ও এয়ারটেল। থ্রিজির নীতিমালা অনুযায়ী অপারেটররা ১৫ বছরের জন্য লাইসেন্স পায়। লাইসেন্স পাওয়ার পরের মাস অক্টোবর থেকেই (বাংলালিংক বাদে) অপারেটররা ঢাকা ও ঢাকার বাইরে থ্রিজি সেবা চালু করে। চলতি বছরের মধ্যেই সারা দেশে থ্রিজি সেবা পৌঁছে যাওয়ার কথা রয়েছে। তবে ডিভাইস স্বল্পতার কারণে মোবাইল অপারেটররা ফোরজি সেবা চলতি বছরে চালু করছে না। একই সাথে ওয়াইম্যাক্স অপারেটরদের ফোরজি সেবা চালু করা এবং কম টাকাই লাইসেন্স দেয়াকে পক্ষপাত বলে মনে করছেন তারা। ইতোমধ্যে এই নিয়ে অনেক বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে। মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটব থেকে এই নিয়ে প্রতিবাদ জানানো হলেও কোন ফলাফল হয়নি।