বাংলাদেশের ভূ-খন্ড সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করতে দেয়া হবে না

প্রকাশ:| রবিবার, ১ অক্টোবর , ২০১৭ সময় ০৯:৫০ অপরাহ্ণ

কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া, (কক্সবাজার) :
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, কোনো সন্ত্রাসীকে বাংলাদেশের ভূ-খন্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। সরকার রোহিঙ্গাদের মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে আশ্রয় দিয়েছে।
তাদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সবকিছু করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তজার্তিকভাবে চাপ প্রয়োগের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে, যাতে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গারা দ্রুত মিয়ানমারের ফিরে যেতে পারেন।
রবিবার বেলা ১২টার দিকে সীমান্তের তুমব্রু জিরো পয়েন্ট এলাকায় রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন করে তিনি সাংবাদিকদের একথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, জাতিসংঘ মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এ অভিযানকে জাতিগত নিধন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। এ সংকট নিরসনে জাতিসংঘ ও ক্ষমতাধর দেশগুলোর ওপরও চাপ বাড়ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের বার্ষিক অধিবেশনে যোগ দিয়ে রোহিঙ্গা সমস্যা দ্রুত সমাধানে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়নোর আহ্বান জানান। এরপর থেকে মিয়ানমানের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে। মিয়ানমার প্রতিনিধিদল রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশে সফরে আসছেন। দু’দেশের কূটনৈতিক পর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সমস্যা ও সংকট সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মন্ত্রী এ সময় ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া ১৮শ’ রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন। পরে তিনি উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বায়োমেট্রিক নিবন্ধন সেন্টার পরিদর্শনসহ সার্বিক বিষয় ও কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেন।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাথে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন, কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার ড. এ কে এম ইকবাল হোসেন, কক্সবাজার ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক মঞ্জুরুল হাসান খান, ব্যার-৭ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন, ব্যার-৭ এর কক্সবাজারস্থ কোম্পানি কমান্ডার মেজর রুহুল আমিন, উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উখিয়া সার্কেল) চাইলাউ মার্মা, নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউপি চেয়ারম্যান তসলিম ইকবাল চৌধুরী, ঘুমধুম ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী, ইমরান মেম্বারসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে দেশটির সেনাবাহিনীর তথাকথিত ক্লিয়ারেন্স অপারেশন শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত ৪ লাখ ৮০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। নিহত হয়েছে আরও কয়েক হাজার রোহিঙ্গা। জীবন বাচাঁতে রোহিঙ্গারা ঝুঁকি নিয়ে সাগর পথে পাড়ি দিতে গিয়ে ১২৩ জন রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ, শিশুর সলিল সমাধি হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছে অনেকেই।