বাংলাদেশের প্রথম ন্যানো স্যাটেলাইট অন্বেষা বি-৩

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১৬ জুন , ২০১৬ সময় ১০:২০ অপরাহ্ণ

মহাকাশ গবেষণায় উন্নত দেশগুলো থেকে বাংলাদেশ খুব একটা পিছিয়ে আছে বললে ভুল বলা হবে। কারণ ২০১৭ সালের মে মাসে মহাকাশে বাংলাদেশের প্রথম ন্যানো স্যাটেলাইট অন্বেষা বি-৩ উৎক্ষেপণ করা হবে।

বাংলাদেশের প্রথম ন্যানো স্যাটেলাইট অন্বেষা বি-৩আর এ লক্ষ্যে বুধবার জাপানের কিউসু ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (কেআইটি) এবং বাংলাদেশের ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির মধ্যে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের প্রথম ন্যানো স্যাটেলাইট প্রকল্পের চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়।
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির জিডিএলএন সেন্টারে অনুষ্ঠিত কনফারেন্সে উপাচার্য প্রফেসর সৈয়দ সাদ আন্দালিব এবং কেআইটির প্রফেসর মেংগু চো নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির তিন শিক্ষার্থী কাফি, মাইসুন ও অন্তরার জাপানে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি স্যাটেলাইট তৈরি এবং তা উৎক্ষেপণের লক্ষ্যে নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আশা করা হচ্ছে আগামী বছর মে মাসে এটা মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা যাবে।
বার্ডস নামক প্রজেক্টের মাধ্যমে এ ন্যানো স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হবে। এজন্য এর নাম দেওয়া হয়েছে অন্বেষা বি-৩ (৩ বি-বাংলাদেশ, ব্র্যাক ও বার্ডস প্রজেক্ট)।
সভা শুরু করেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্ট অব ম্যাথমেটিকস অ্যান্ড ন্যাচারাল সায়েন্সেসের চেয়ারপারসন ও বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন কেন্দ্র (স্পারসো)-এর সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবু আবদুল্লাহ জিয়াউদ্দিন আহমাদ। যুক্তরাষ্ট্র, চীন বা ফ্রান্সের মতো উন্নত দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও প্রযুক্তির অগ্রগতি সম্ভব বলে বিশ্বাস করেন তিনি।
ন্যানো স্যাটেলাইটে বাংলাদেশও হবে একটি উজ্জ্বল নাম এমন মন্তব্য করেন জাপানের কিউসু ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (কেআইটি)-এর ল্যাবরেটরি অব স্পেসক্র্যাফট এনভায়রনমেন্ট ইন্টের্যাকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সাবেক সহকারী অধ্যাপক ড. আরিফুর রহমান খান। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস ইউনিভার্সিটিতে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। বাংলাদেশের জন্য ন্যানো-স্যাটেলাইট খুবই লাভজনক হবে বলে মনে করেন ড. আরিফুর। এর মাধ্যমে দেশের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ, কৃষি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাসহ আরও বিভিন্ন খাতে-এর ব্যবহার ব্যাপক অগ্রগতি আনবে বলে মনে করেন তিনি। এজন্য বাংলাদেশকে বেশ সম্ভাবনাময় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রকৃত অর্থে ন্যানো-স্যাটেলাইটের সংজ্ঞা কী তা এখনো ঠিক হয়নি, তবে আন্তর্জাতিকভাবে একটি সংজ্ঞা দাঁড় করানোর কাজ চলছে। এখন তারা ন্যানো-স্যাটেলাইটের ক্ষেত্রে যে নীতিমালার ওপর নির্ভর করেন তা হলো, ন্যানো স্যাটেলাইটের আকার ৫০ ঘন সেন্টিমিটারের মধ্যে হতে হবে, এই স্যাটেলাইট ৫০ কেজির বেশি হবে না, এটি বানাতে ৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ করা যাবে না। আর বাজারে কিনতে পাওয়া যায় এমন উপাদান ব্যবহার করতে হবে। কেউ যদি নিজের উদ্ভাবন করা কোনো উপাদান ব্যবহার করেন তবে সেটি ন্যানো-স্যাটেলাইট হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে না।