বাংলাদেশের জিএসপি ‘স্থগিত করছে’ যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন , ২০১৩ সময় ০৪:৪৩ অপরাহ্ণ

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা ‘স্থগিত করছে’ ওবামা প্রশাসন।
যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেস সদস্যদের সহকারীর সূত্র দিয়ে বৃহস্পতিবার এ খবর প্রকাশ করেছে মার্কিন বার্তাসংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস usa(এপি)।
বার্তাসংস্থাটি বলছে, শ্রমিক স্বার্থ ও কারখানার পরিবেশ ইস্যুতেই জেনারেলাইযড সিস্টেমস অব প্রেফারেন্স (জিএসপি) থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেয়া হচ্ছে। গত এপ্রিলে সাভারে রানা প্লাজা ধসে ১১শর বেশি পোশাককর্মীর প্রাণহানির পর কারখানার নিরাপত্তার বিষয়টি বিশ্বজুড়ে আলোচনায় উঠে আসে।
মার্কিন সময় বৃহস্পতিবার এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা আসবে বলে এপির ম্যাথিউ পেনিংটনের লেখা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। যদিও আগের খবর অনুযায়ী, আগামী ৩০ জুন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জিএসপি বহাল রাখা না-রাখার সিদ্ধান্ত জানানোর কথা।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় এপির কাছে কোনো মন্তব্য করতে সম্মত হয়নি।
অবশ্য বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা একেবারে বাতিল হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন জিএসপি ইস্যু নিয়ে ওবামা প্রশাসনের চিন্তাভাবনা বিষয়ে ওয়াকেবহাল কংগ্রেসের এক কর্মকর্তা।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা বাতিল হবে না, তা স্থগিত করা হবে।
শ্রমিক স্বার্থ ও কারখানার পরিবেশ উন্নয়েন একটি রূপরেখা বেঁধে দেয়া হবে জানিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, এসব ক্ষেত্রে উন্নতি এলে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হবে।
জিএসপি তালিকা থেকে বাংলাদেশকে বাদ দিতে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রতি ইতিমধ্যে আহ্বান জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাটদলীয় কয়েকজন সিনেটর। মঙ্গলবার নয়জন সিনেটর এক বিবৃতিতে বলেন, “বাংলাদেশ যতদিন পর্যন্ত কারখানার পরিবেশ উন্নত না করতে পারবে ততদিন পর্যন্ত এই সুবিধা স্থগিত রাখা হোক।”
গত ৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র সিনেটের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির এক শুনানিতেও বাংলাদেশের শুল্কমুক্তি সুবিধা বাতিলে ‘জোরাল’ সুপারিশ করেন কমিটির চেয়ারম্যান রবার্ট মেনেনদেয।
রানা প্লাজা ধসের পর ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা বলেছিলেন, এই ঘটনা জিএসপি শুনানিতে প্রভাব ফেলবে।
জিএসপির আওতায় বাংলাদেশ প্রায় পাঁচ হাজার পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধায় যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি করতে পারে। তবে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে বছরে প্রায় পাঁচশ কোটি ডলারের যে পণ্য রফতানি করে থাকে তার মাত্র এক শতাংশ জিএসপির আওতায় পড়ে। পোশাক খাত যুক্তরাষ্ট্রের জিএসপি সুবিধার আওতায় পড়ে না।


আরোও সংবাদ