বাংলাদেশকে নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র করেন না ইউনূস

প্রকাশ:| শনিবার, ৫ মার্চ , ২০১৬ সময় ১১:৪৩ অপরাহ্ণ

মনের ভেতর ৫০ বছরের দুঃখ জমে আছে, এ দুঃখ কীভাবে ভুলি। আমার কান্না পায় যখন জগত বিখ্যাত একজন মেধাবী ড. মুহম্মদ ইউনূসকে কেউ গালি দেয়। তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে। আপনারা ষড়যন্ত্র করিয়েন না। তিনি বাংলাদেশকে নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র করেন না। বিষয়টি সমাধান করুন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক শিক্ষক ও গ্রামীন ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা নোবেল বিজয়ী ড. মুহম্মদ ইউনূসের প্রতি অবিচার না করার জন্য এভাবেই দরদি কণ্ঠে আহ্বান জানালেন এক সময়ের তাঁরই সহকর্মী ও ইউজিসি অধ্যাপক ড. মঈনুল ইসলাম।

শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সূবর্ণ জয়ন্তী উৎসবে তিনি এসব কথা বলেন।

যদিও বিভিন্ন সময় প্রধানমন্ত্রীসহ বর্তমান সরকারের এমপি-মন্ত্রীরা ড. মুহম্মদ ইউনূস দেশের বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্র’ করছেন বলে অভিযোগ করে আসছেন।
এসময় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত ইচ্ছার কারণে ড. মুহম্মদ ইউনূস সূবর্ণ জয়ন্তী উৎসবে উপস্থিত থাকতে পারেননি অভিযোগ করে ড. মঈনুল ইসলাম বলেন, ‘ড. মুহম্মদ ইউনূসের যে সমস্যা, সেটা একান্তই প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত। এ সমস্যা সমাধানে আমাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। কিন্তু বিষয়টি সমাধান করার আগেই প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যর কারণে তাকে নিয়ে সমালোচনার শুরু হয়। তাই আজ অর্থনীতি বিভাগকে বিতর্ক থেকে বাচাতে ড. মুহম্মদ ইউনূস চট্টগ্রামে থেকেও সূবর্ণ জয়ন্তী উৎসবে আসেননি। যা অনেক দুঃখের, অনেক আবেগের।’
রেহমান সোবহান

প্রফেসর ড. মঈনুল ইসলাম বলেন, ‘১৯৭৩ সালে যখন শিক্ষাকতায় যোগদান করি তখন থেকে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মুহম্মদ ইউনূস ছায়ার মতন পাশে থাকতেন। আজকে আমারাসহ যেসব বড় বড় অর্থনীতিবিদ বাংলাদেশে বিভিন্ন জায়গায় রয়েছেন তাদের উপরও এ ইউনুসের ছায়া রয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা যারা অর্থনীতি পড়ি তারা অনেক কিছু বুঝতে পারি। তাই বাংলাদেশের শ্রমজীবী মানুষের কথা যেন বলতে পারি সেটাই আমি সারাজীবন করে এসেছি। আপনাদের উপর অনেক দায়িত্ব। আপনারা শ্রমজীবী মানুষের পক্ষে থাকবেন। তাদের কথা বলবেন। আমার ছাত্রদের আমি সেটাই সবসময় প্রতিজ্ঞা করাই।’

সূবর্ণ জয়ন্তী বক্তা বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান ড. রেহমান সোবহান বলেন, ‘আমরা দারিদ্রের হারকে নামিয়ে এনেছি। এখন বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থিতিশিল, বাংলাদেশে সম্প্রতি অনেক উন্নয়ন হয়েছে। মানবসম্পদ উন্নয়নে অগ্রসর হয়েছি। কিন্তু এখনো কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। বঙ্গবন্ধুর লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে বাহাত্তরের সংবিধানের চার মূলনীতি নিশ্চিত করতে হবে। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সব মানুষের সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। এতে দেশের অর্থনৈতিক মুক্তি আসবে এবং গড়ে উঠবে সামাজিক সমৃদ্ধি।’

চবি উপাচার্য ড. অধ্যাপক ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘১৯৬৬ সালে যে চারটি বিভাগ নিয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরু করেছিল তার মধ্যে অর্থনীতি বিভাগ অন্যতম। তাই এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল গর্বের ও গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস-ঐতিহ্যের অংশীদার এ বিভাগ। এরকম উৎসবের মাধ্যমে নতুন এবং পুরাতনের ভাববিনিময় ও মেলবন্ধনের মাধ্যমে আমাদের তরুণ শিক্ষার্থীরা জ্ঞান-বিজ্ঞানে সমৃদ্ধ হয়ে আলোকিত মানুষ হয়ে ওঠবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও অর্থনীতি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান ফজলে কবির, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আলী আশরাফ, ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য মো. সিকান্দার খান, চিটাগং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির প্রো ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ইশরাত কামাল খান, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক নিতাই ভট্টাচার্য, অধ্যাপক জ্যোতি প্রকাশ দত্ত, অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলী, জনতা ব্যাংক লিমিটেড বিভাগীয় কার্যালয় চট্টগ্রামের জেনারেল ম্যানেজার আবু নাসের চৌধুরী, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হকসহ প্রমুখ।

এর আগে অর্থনীতি বিভাগের তিন হাজার প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি বিশাল বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান শেষে বিভাগের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় কন্ঠশিল্পীদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিকেলে ব্যান্ড দল ‘সোলস’ সংগীত পরিবেশন করে।