বাঁশবাড়িয়ার জোড়বটতল এলাকায় চলন্ত ট্রেন থেকে রাজা মিয়াকে ফেলে দেয় দুর্বৃত্তরা

প্রকাশ:| বুধবার, ১৩ নভেম্বর , ২০১৩ সময় ০৭:৩৭ অপরাহ্ণ

সীতাকুণ্ড স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১১ নম্বর বেডে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে ১০ বছরের একটি শিশু। নাম, রাজা মিয়া। তার মাথায় ১২টি সেলাইয়ের যন্ত্রণা, হাতে স্যালাইনের পাইপ। চোখ খুলে শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে চারদিকে। সে শুধু জানে, কেউ তাকে চলন্ত ট্রেন থেকে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে নিচে। আর কিছুই জানে না রাজা।সীতাকুন্ড সীতাকুণ্ড

আজ বুধবার সকাল সাতটার দিকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের জোড়বটতল এলাকায় চলন্ত ট্রেন থেকে রাজা মিয়াকে নিচে ফেলে দেয় দুর্বৃত্তরা। আহত রাজা মিয়া কিশোরগঞ্জ জেলার করমছি গ্রামের হেলাল মিয়ার ছেলে।

হাসপাতালে রাজা মিয়া এই প্রতিবেদককে জানায়, সে গতকাল মঙ্গলবার রাত ১১টায় ঢাকার কমলাপুর স্টেশন থেকে সাদা রঙের একটি ট্রেনে উঠে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়। আজ সকালে সীতাকুণ্ড স্টেশনের কাছে কে যেন তাকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দেয়। এরপর আর কিছু মনে নেই তার। রাজা মিয়া তার মা-বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করার মতো কোনো ফোন নম্বর দিতে পারেনি। এ ছাড়া কীভাবে ও কার সঙ্গে সে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে যাচ্ছিল, তা-ও বলতে পারেনি।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবিকা শুকলা বল প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, তছলিম উদ্দীন নামের স্থানীয় এক যুবক রাজা মিয়াকে উদ্ধার করে সীতাকুণ্ড স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। শিশুটির মাথা, হাঁটু ও পায়ে জখম হয়েছে। তবে সকালের চেয়ে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ৪৮ ঘণ্টা পর পুরো অবস্থা বোঝা যাবে বলে চিকিত্সকরা জানিয়েছেন।

চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াছিন ফারুক বলেন, বিষয়টি তিনি এখনো শোনেননি তবে তিনি রেল পুলিশকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়েছেন।

এর আগে গতকাল সকালে সীতাকুণ্ডের শেখ নগর ও দক্ষিণ শীতলপুর এলাকায় অজ্ঞাত একজন যুবক (৩০) ও একজন বৃদ্ধকে (৬০) চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করা হয়। এ নিয়ে চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দেওয়ার তিনটি ঘটনা ঘটল।


আরোও সংবাদ