বাঁশখালীতে ক্ষতিগ্রস্ত ৩৫ কিমি বেড়িবাঁধ দ্রুত নির্মাণ করবো

প্রকাশ:| সোমবার, ২৩ মে , ২০১৬ সময় ০৯:৫৫ অপরাহ্ণ

বাঁশখালীতে ক্ষতিগ্রস্ত ৩৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ দ্রুত নির্মাণ করার প্রতিশ্রুতিবাঁশখালীতে ক্ষতিগ্রস্ত ৩৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ দ্রুত নির্মাণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে  দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেছেন, ‘বাঁশখালী উপকূলের বাঁধটা যে দুর্বল ছিলো এতে কোনো সন্দেহ নেই। বেড়িবাঁধের বিষয়টি একনেকে পাসও হয়েছিলো। কিন্তু যে টাকা বরাদ্দ ছিলো তাতে কেউ টেন্ডারে অ্ংশ নেয়নি। আগামীকাল একনেকের বৈঠক আছে, আশাকরি ওই বৈঠকেই পরিপূর্ণ কোনো সমাধান হয়ে যাবে।’

সোমবার দুপুরে চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও আনোয়ারার কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে ত্রাণমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর আগে এসময় বাঁশখালীর রায়পুর, প্রেমাশিয়া, খানখানাবাদ, গহীরা ও সরঙ্গা ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন ও ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, ‘পূর্তমন্ত্রী ও আমি ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ বিষয়ে রিপোর্ট করতে পারবো। এ মুহুর্তে আমরা সাগরের মাত্র একশ গজ দুরে দাঁড়িয়ে, জোয়ার শুরু হলেই আবারো পানি ঢুকতে শুরু করবে। একটা বিষয় দুরে থেকে দেখা আর, সরাসরি দেখার মধ্যে পার্থক্য আছে।’

 

ক্ষতিগ্রস্ত ৩৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধে ব্লক বসানো হবে জানিয়ে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, ‘পুরো ৩৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধে ব্লক বসাতে হবে। এসব মাটির বাঁধে চলবেনা। এবার ৬-৭ ফুট উঁচু দিয়ে পানি প্রবেশ করেছে, তাই এ অভিজ্ঞতার প্রেক্ষিতে এর চেয়ে ২-৩ ফুট উঁচু করে শক্ত বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে।’

মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, ‘ত্রাণ তৎপরতা একটি চলমান প্রক্রিয়া। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আমরা আজ আপনাদের পাশে। যারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন তারা প্রত্যেকেই নগদ টাকাসহ পর্যাপ্ত পরিমাণ ত্রাণ সামগ্রী পাবেন। যতদিন পর্যন্ত পানি নামবেনা ততদিন পর্যন্ত এ সাহায্যের প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে সব ধরনের সহযোগিতাও করা হবে। এছাড়া, স্থায়ীভাবে দুর্যোগ মোকাবিলায় বেড়িবাঁধগুলো সংস্কার করা প্রয়োজন।’

 

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘যারা ক্যাম্পে থাকবে তাদেরকে অন্তত দু’বেলা খাবার ব্যবস্থা আমরা করব। আমাদের একটি ফরম রয়েছে সেটি তারা পূরণ করে আমাদের দিলে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও মূল্যায়ন করে অতিসত্বর আমরা তাদেরকে অর্থ দেয়ার চেষ্টা করব।’

গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এ এলাকার দাবি যেহেতু খুব শিগগরই বেড়িবাঁধ তৈরি করে দেয়া তাই আগামীকালকেই এ বিষয়ে নিয়ে মন্ত্রী সভায় জোর দাবি জানানো হবে। এই এলাকার মানুষ আগামীকালই একটি সুখবর পাবে। এছাড়াও রাস্তা-ঘাট নির্মাণের জন্য খুব অল্প সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করে দিবে।’

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রিয়াজ আহমেদ, জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন ও বিভাগীয় কমিশনার রুহুল আমীন প্রমুখ।