বাঁধ ভাঙা মানুষের নৌকাই ভরসা

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ৯ জুন , ২০১৬ সময় ১১:৪৫ অপরাহ্ণ

বাঁধ ভাঙ্গা
লিটন কুতুবী, কুতুবদিয়া।
কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপকূলের বেড়িবাঁধ ভাঙা থাকায় অমাবষ্যার জোয়ারে নোনা জল লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় নৌকায় যোগাযোগ করতে হচ্ছে গ্রামাঞ্চলের মানুষের। (৯জুন) বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টায় চোখে পড়ে, কুতুবদিয়া দ্বীপের উত্তর ধুরুং ইউনিয়ন নয়াকাটা গ্রামের লোকজন যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে নৌকা ব্যবহার করে বাঁকখালী গ্রামে যাওয়ার দৃশ্য। অমাবষ্যার জোয়ারের নোনাজল লোকালয়ে ঢুকে পড়লে এসব এলাকার লবণ মাঠ,ফসলি জমি তলিয়ে যায়। উত্তর ধুরুং এলাকার শত শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের সড়ক আর গ্রামীন সড়কের রাস্তার ওপর এক থেকে দুই ফুট উচ্চতা পানিতে ডুবে গেলে রাস্তা দিয়ে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় । যার ফলে এক গ্রামের মানুষ সাথে অন্য গ্রামের মানুষের যোগাযোগ রক্ষার্থে নৌকাই একমাত্র ভরশা। গত ৭ জুন মঙ্গলবার থেকে গতকাল বৃহষ্পতিবার পর্যন্ত অমাবষ্যার জোয়ারের পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পায়। ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু’র আঘাতে কুতুবদিয়া দ্বীপে ৪০ কিলোমিটার বেড়িবাধঁ ভেঙ্গে যাওয়ায় এসব ভাঙ্গন এলাকা দিয়ে জোয়ারের নোনাজল লোকালয়ে ডুকে পড়ে। উত্তর ধুরুং কায়ছার পাড়া এলাকার রমিজ আহমদের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর আঘাতে বেড়িবাধঁ ভেঙ্গে সাগরের জোয়ারের পানি গ্রামাঞ্চলে ডুকে পড়লে ঘর-বাড়ী ভেসে যায়। সে সময় থেকে এখনো পর্যন্ত আশ্রয় কেন্দ্রে আছি। পানিতে ঘর-বাড়ী ভেসে যাওয়া ওমর গণি,শওকত আলী ও নুরুল ইসলামসহ শতশত মানুষের একমাত্র দাবী “রিলিফ নয়, টেকসই বেড়িবাধঁ চাই”। রিলিফ দিয়ে ভিক্ষুক করার চেয়ে স্থায়ী,মজবুত ও টেকসই বেড়িবাধঁ তৈরিপূর্বক এলাকার মানুষের মনোবলকে শক্ত করে ঘুরে দাঁড়ানোর দাবী তুলেন রোয়ানু’র আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের লোকজন। ক্ষতিগ্রস্ত আলীআকবর ডেইল কাহার পাড়ার শফি আলম আক্ষেপের সাথে বলেন, রোয়ানুতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাথা বিক্রি করে বিভিন্ন এনজিও সংস্থা রিলিফ দেয়ার নাম ভাঙ্গিয়ে বিভিন্ন দাতা সংস্থা থেকে ত্রাণের কথা বলে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ নিয়ে কেবলমাত্র চার-পাঁচ কেজি চাল দিয়ে বাকি টাকা আত্মসাৎ করে যাচ্ছে। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার লোকজন রিলিফের বদলে স্থায়ী বেড়িবাধঁ দেয়ার দাবী তুললে এসব এনজিও মুখ ফিরিয়ে নেয় বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।


আরোও সংবাদ