বলিউড অভিনেত্রী জিয়া খান

প্রকাশ:| বুধবার, ৫ জুন , ২০১৩ সময় ০৫:২৬ অপরাহ্ণ

jia

বলিউড অভিনেত্রী জিয়া খান আত্মহতা্য করেছেন। সোমবার রাত ১১টায় মুমা্বাইয়ের জুহু আবাসিক এলাকায় নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। লন্ডনে বেড়ে ওঠা ‘গজনি’ খ্যাত এ অভিনেত্রী সম্প্রতি তার মায়ের সঙ্গে মুম্বাইতে থাকা শুরু করেছিলেন। কিছু দিন ধরেই ব্যক্তিগত কারণে ডিপ্রেশনে ভুগছিলেন তিনি। কোনো সুইসাইড নোট না পাওয়া গেলেও পুলিশের অনুমান ডিপ্রেশনের কারণেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন জিয়া। তার পরও এ ব্যাপারে মুম্বাই পুলিশ জিয়ার আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও সহকারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তারা জিয়া খানের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুপার হাসপাতালে নিয়ে গেছেন।
এদিকে, জিয়া খানের ঘনিষ্ঠ এক সূত্রের বরাতে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ব্যক্তিগত কিছু সমস্যার কারণে জিয়া মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। তবে খুব শিগগিরই সমস্যা কাটিয়ে বলিউডে ফেরার ব্যাপারে দৃঢ়প্রত্যয়ীও ছিলেন। এ জন্য বেশ কয়েকজন চলচ্চিত্র নির্মাতার সঙ্গে নতুন ছবি নিয়ে আলোচনাও করেছেন তিনি।
বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা অমিতাভ বচ্চনের বিপরীতে ২০০৭ সালে রাম গোপাল ভার্মার ‘নিঃশব্দ’ ছবি দিয়ে জিয়া খানের বলিউডে অভিষেক ঘটে। প্রথম ছবির মাধ্যমেই আলোচনায় চলে আসেন তিনি। শুধু তাই নয়, প্রথম ছবির জন্য ফিল্মফেয়ার পুরস্কারে সেরা নবাগত অভিনেত্রী হিসেবেও মনোনয়ন পেয়ে যান বলিউডের এ উঠতি অভিনেত্রী।
তবে জিয়া খানের জীবনে সবচেয়ে সেরা কাজ বলিউড পারফেকশনিস্ট আমির খানের সঙ্গে ‘গজনি’ ছবিতে। ছবিটি দুর্দান্ত ব্যবসা করে। এর পর পরই জিয়াকে নিয়ে বলিউডে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। ২০১০ সালে সব শেষ সাজিদ খানের ‘হাউসফুল’ ছবিতেও অভিনয় করেন জিয়া। এটিই তার অভিনীত শেষ ছবি। সম্প্রতি জিয়া ইউটিভি মোশন পিকচার্সের সঙ্গে দুটি এবং গজনির প্রযোজক মাধু মন্টেনার সঙ্গে তিনটি চলচ্চিত্রে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
এদিকে, জিয়া খানের হঠাৎ মৃত্যুর খবর অবাক করেছে তার প্রথম ছবির সহশিল্পী অমিতাভ বচ্চন এবং বন্ধুসহ অনেককেই। অমিতাভ বচ্চন তার টুইটার অ্যাকাউন্টে জিয়া খানের মৃত্যুকে ‘অবিশ্বাস্য!’ বলে উল্লেখ করেছেন। আমির খান লিখেছেন, ‘এ মৃত্যু মেনে নেয়ার নয়’। বিপাশা বসু লিখেছেন, ‘শান্তিতে ঘুমাও জিয়া খান! ঈশ্বর তোমার আত্মার সহায় হোন!’
এদিকে, ২৪ মে জিয়া খান তার টুইটারে সর্বশেষ টুইট করেছিলেন। শেষবার তিনি টুইটারে লিখেছিলেন : ‘দুঃখিত, আমি টুইটার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিচ্ছি। টুইটার থেকে কিছু দিনের জন্য বিরতি নিচ্ছি। আসলে অনেক সময় আমাদের পুরনো স্মৃতি মনে করার জন্য সময়ের দরকার হয়।’ এরপর জিয়া খানকে আর টুইটার কিংবা মিডিয়ার সামনে দেখা যায়নি। জিয়া খানের এমন মৃত্যুতে বলিউড অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।