বরিশালে কমছে রুপালি ইলিশ

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ , ২০১৫ সময় ১১:৫৬ অপরাহ্ণ

বরিশালে ক্রমেই কমছে রুপালি ইলিশ। ব্যাপক হারে জাটকা ও ডিমওয়ালা ইলিশ নিধনের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। গত অর্থবছরের তুলনায় এবার প্রায় ৬ হাজার মেট্রিক টন ইলিশ কমেছে। অভিযোগ রয়েছে, মেহেন্দীগঞ্জ ও হিজলার প্রভাবশালী কয়েকজন নেতার তত্ত্বাবধানে জেলেরা নির্বিচারে জাটকা ও ডিমওয়ালা ইলিশ ধরছেন। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ওয়াহেদুজ্জামান এ তথ্যের সত্যতা স্বীকার করেন।
বরিশাল জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ইলিশ উৎপাদন হয়েছিল ৩১ হাজার ৫৪৯ মেট্রিক টন। ২০১৪ সালে ইলিশ উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৫ হাজার ৪২৩ মেট্রিক টন। এক্ষেত্রে প্রায় ৬ হাজার মেট্রিক টন ইলিশ উৎপাদন কমেছে।
আড়াই কেজি ওজনের একটি ইলিশ মাছবাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোঃ আনিছুর রহমান জানান, গবেষণায় এবার প্রায় ৩ হাজার কোটি ইলিশ পোনা (জাটকা) উৎপাদন কমার তথ্য পাওয়া গেছে। বছর শেষে ইলিশ উৎপাদন কমায় তা প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বলেন, ইলিশ উৎপাদন কমার প্রধান কারণ ইলিশের ডিম ছাড়ার হার কমা, ঝাটকা নিধন এবং চর-ডুবোচরের কারণে পরিবেশের বাধা। জানা গেছে, জাটকা ও মা ইলিশ নিধনে জেলেদের দাদন ও শেল্টার দিচ্ছে মেহেন্দীগঞ্জের গোবিন্দপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য এর্ব মৎস্য ব্যবসায়ী আলতাফ হোসেন ওরফে আলতু সরদার, ভাষাণচর ইউনিয়নের বাগরজা ইউপি সদস্য কবির বাগ, উলানীয়া ইউনিয়ন বিএনপি নেতা ফয়সাল চৌধুরী, উলানীয়া যুবলীগের সাবেক সভাপতি বশির মৃধা, উপজেলা চেয়ারম্যানের ভাই গোবিন্দপুর ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তান মেম্বার, আওয়ামী লীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন, হিজলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মিলন, বিএনপি নেতা গাফফার চৌধুরী, বিএনপি নেতা মকবুল দফতরি, মোঃ মনির, আওয়ামী লীগ সদস্য ওহাব আলী মেম্বারসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী। জেলেরা জানান, এসব প্রভাবশালীই তাদের লাখ লাখ টাকা দাদন ও শেল্টার দেন। অবশ্য হিজলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মিলন বলেন, শুরু থেকেই অভিযানে দুর্বলতা ছিল। কোস্টগার্ড পুলিশের মতো সহজ হয়ে গেছে। মেহেন্দিগঞ্জের এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বড় বড় নেতা জেলেদের দিয়ে জাটকা ধরান।
ব্যবসা রক্ষায় ব্যবসায়ীরা এমন কিছু করতে বাধ্য হন।
হিজলা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, মৎস্য ব্যবসায়ীরাই জেলেদের শেল্টার দেন। এটি হেরোইন ব্যবসার মতো থামানো যাচ্ছে না। অতি লোভীরা এ সম্পদ ধ্বংস করছেন। সোমবারও কোস্টগার্ড ও ইউএনও’র সঙ্গে বৈঠক করে প্রভাবশালীদের ধরার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
এ ব্যাপারে বরিশাল মৎস্য কর্মকর্তা (ইলিশ) বিমল চন্দ্র দাস বলেন, অবৈধ জাল প্রভাবশালীদের। অর্থও প্রভাবশালীদের। তাদের আশ্রয়েই মেহেন্দীগঞ্জ ও হিজলায় জাটকা নিধন করা হয়। মেরে ফেলা হয় মা ইলিশ। যে কারণে উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটছে।

– See more at: http://www.alokitobangladesh.com/last-page/2015/03/17/128275#sthash.t680mNLr.dpuf