বরিশালের বৃষ্টিভেজা জয়

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ৩ ডিসেম্বর , ২০১৫ সময় ১০:৪৯ অপরাহ্ণ

jk৬ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে রংপুর রাইডার্সকে হারিয়েছে বরিশাল বুলস। ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১০৪ রান করে রংপুর। পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকা বরিশালের এটি ছয় ম্যাচে পঞ্চম জয়। অন্যদিকে সপ্তম ম্যাচে তৃতীয় পরাজয় রংপুর রাইডার্সের।

চট্টগ্রাম পর্বের চতুর্থ দিনের প্রথম ম্যাচে বৃহস্পতিবার টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামে রংপুর রাইডার্স। প্রথম ওভারে স্কুপ করে উইকেটকিপার-স্লিপের ওপর দিয়ে ছক্কা মারেন জহুরুল ইসলাম। মোহাম্মদ সামির এ ওভারে ৮ রান নিয়ে দারুণ শুরুর আভাস দিয়েছিলেন দুই ওপেনার। কিন্তু দ্বিতীয় ওভারের প্রথম ও শেষ বলে দৃষ্টিকটু শটে দলের দুই সেরা তারকাকে হারায় রংপুর। আল আমিন হোসেনের স্টাম্পের বাইরের লেংথ বলে আলসে শটে কাভারে ক্যাচ দেন সৌম্য সরকার (০)। একই ওভারের শেষ বলে ডাউন দ্য উইকেটে এসে পজিশনে না গিয়েই শট খেলে ক্যাচ দেন সাকিব আল হাসান (১)। ম্যাচ সেরা বরিশাল বুলসের আল আমিন বলেন, ‘ সাকিব ও সৌম্যকে এক ওভারে আউট করা বিশাল ব্যাপার। দুইজনই বাংলাদেশ টিমের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটসম্যান। এক্ষেত্রে উইকেটটা হেল্প ছিল।’

পঞ্চম ওভারের তৃতীয় বলে তাইজুল ইসলামকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে আউট হন মোহাম্মদ মিঠুন (২)। ৯ ওভার পর্যন্ত থেকেও ইনিংস বড় করতে পারেননি জহুরুল। এমরিটের স্লোয়ারে উড়িয়ে মারতে গিয়ে মাহমুদউল্লাহকে ক্যাচ দিলেন রংপুরের এ ওপেনার (৩২ বলে ২৪)। ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে মেহেদি মারুফকে ক্যাচ দিয়ে আউট হন থিসারা পেরেরাও (৯)।

১৪ ওভারের প্রথম বলে সামির হঠাৎ লাফিয়ে ওঠা এক বাউন্সার মিসবাহ’র গ্লাভসে লেগে সরাসরি চলে যায় কিপারের গ্লাভসে (২৭ বলে ২২)। বিপিএলে প্রথমবার ব্যাটিংয়ে নামা মোহাম্মদ নবিকে ওই ওভারের ৪র্থ বলে ফেরান সামি (৫)। ১৫ ওভার শেষে দলীয় সংগ্রহ তখন ৭ উইকেটে ৬৫। শেষ দিকে আল আমিন (১৩ বলে ১৭) ও ওয়াহাব রিয়াজের (১০ বলে ১২) ব্যাটে ভর করে ১০৪ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় রংপুর রাইডার্স।

জবাব দিতে নেমে মোহাম্মদ নবীর করা ২য় ওভারে তিনটি বাউন্ডারী হাঁকান রনি তালুকদার। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান এভিন লুইস ওয়াহাব রিয়াজের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরে যান (৪)। সাকিবের বলে স্টাম্পড হন মেহেদি মারুফ (৩)। তৃতীয় ওভারের তৃতীয় বল পর বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ থাকে এক ঘণ্টা। ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে নতুন লক্ষ্য নির্ধারিত হয় ১৩ ওভারে ৭৫ রান। বৃষ্টির পর আরাফাত সানিকে ছক্কা মেরে পরের বলেই ক্যাচ দেন রনি তালুকদার (২৩)। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ’র হার না মানা ইনিংসে (১৮ বলে ২৩) ৩ বল বাকি থাকতে ৬ উইকেটের জয় তুলে নেয় বরিশাল বুলস।

ম্যাচ সেরা আল আমিন হোসেন খেলার শেষে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রথম ছয় ওভারে ব্যাটসম্যানদের ভুল করার প্রবণতা বেশী, তারা এ সময়ে রান করার চেষ্ঠা করে। এ সময়ে যে ভালো করবে, সে উইকেট পাবে। মনন করি প্রথম ছয় ওভারে টপ আপ লেংথ ও টপ আপ হিট করা যায়, সেক্ষেত্রে উইকেট পাওয়ার সম্ভাবনা বেশী। সে কাজটাই করার চেষ্ঠা করেছি। উইকেটা হেল্প ছিল। মাঠ ভেজা থাকায় উইকেট নেয়া সহজ ছিল। আমরা ভাল বল করেছি।

এদিকে রংপুর রাইডার্সের কোচ শেন জার্গেনসেন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বাংলাদেশের ক্রিকেট অনেক উন্নতি হয়েছে । বিপিএল ও আর্ন্তজাতিক দু’টা তে অনেক দুর এগুচ্ছে । আমার ছেলেরা সেরাটা দেওয়ার জন্য আজ মাঠে নেমেছে কিন্ত মন্দ ভাগ্য দিনটা আজ তাদের ছিলনা । বৃষ্টি হওয়াতে মাঠ ভেজার কারণে তারা ভাল খেলা উপহার দিতে পারেননি ।


আরোও সংবাদ