বরিশাল’কে কাঁদিয়ে শিরোপা জিতে নিল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ১৫ ডিসেম্বর , ২০১৫ সময় ১০:৫৬ অপরাহ্ণ

সবার আগে ফাইনালে মাশরাফির কুমিল্লাশেষ বলে বরিশাল বুলসকে হারিয়ে বিআরবি কেবলস বিপিএল সিজন থ্রি’র শিরোপা জিতে নিয়েছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। চরম উত্তেজনায় ঠাসা ফাইনালে মাহমুদুল্লাহর বরিশালকে ৩ উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় মাশরাফির কুমিল্লা। এটি তাদের প্রথম বিপিএল শিরোপা। আগের দুই আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলো তখনকার ‘ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস’।

চ্যালেঞ্জিং টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ২৩ রানেই উইকেট হারায় কুমিল্লা। মাত্র তিন রান করে সাজঘরে ফেরেন লিটন দাস। নিজের বলে নিজেই ক্যাচ ধরেন পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ সামি।

ইনিংসের শুরুতে উইকেট হারালেও দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৫৪ রান তুলে দলকে কক্ষপথে রাখেন ইমরুল কায়েস ও আহমেদ শেহজাদ। ক্রমেই বিপজ্জনক হয়ে ওঠা কুমিল্লার এই জুটি ভাঙেন বরিশাল অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ২৪ বলে ৩০ রান করে ইমরিতের হাতে ক্যাচ দেন শেহজাদ।

শেহজাদ ফিরলেও উরুর টান নিয়ে দলকে টানতে থাকেন কায়েস। পেশিতে টান লাগার পরও খুড়িয়ে খুড়িয়ে তুলে নেন হাফসেঞ্চুরি। ৩৭ বলে ৬টি চার ও তিন ছক্কায় ৩৫ রান করে মাহমুদুল্লাহর দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন কায়েস।

দলীয় ১১৬ রানের মাথায় রানআউটের শিকার হন আসকার জাইদি। মাহমুদুল্লাহর জোড়ালো থ্রো থেকে দারুণভাবে স্ট্যাম্প ভেঙে দেন কেভিন কুপার। জাইদির আউটে বেশ চাপে পড়ে কুমিল্লা। বিপদ আরো গভীর হয় ১৮ ওভারে পর পর দুই উইকেট হারিয়ে। এই ওভারের প্রথম দুই বলে ফিরে যান ড্যারেন স্টিভেন (৮)। আর হিসেবে খাতা খোলার আগে মাহমুদুল্লাহর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মাশরাফি।

কুপারের ওভারের শেষ দুই বলে বাউন্ডারি হাকিয়ে আবার কুমিল্লাকে খেলায় ফেরান অলক কাপালি। শেষ ওভারে ১৩ রান দরকার ছিলো কুমিল্লার। প্রথম বলে দুই রান নিতে গিয়ে শুভাগত হোম। তিনি করেন মাত্র ১ রান। তবে তখনো ক্রিজে ছিলেন কাপালি। সামির ওভারে শেষ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় রান তুলে নেন তিনি। ২৩ বলে ৩৯ রানের লড়াকু ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন বিপিএল অকশনে প্রথম দিকে উপেক্ষিত কাপালি।

এর আগে মাহমুদুল্লাহর দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ভর করে নির্ধারিত ওভারে উইকেটে ১৫৬ রান করে বরিশাল।

টস জিতে প্রথম ফিল্ডিং করার সিন্ধান্ত নেন কুমিল্লা অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। অধিনায়কের সিন্ধান্ত সঠিক প্রমাণ করে বরিশালের দলীয় স্কোর ১৯ রানেই দলকে প্রথম সাফল্য এনে দেন আসকার জাইদি। ১৩ বলে ১১ রান করা মেহেদি মারুফকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন এই পাকিস্তানি স্পিনার।

শুরুতে সঙ্গীকে হারালেও ঝড়ের বেগে ব্যাট চালাতে থাকেন বরিশালের আরেক ওপেনার সেকেজু প্রসন্ন। ১৯ বলে ৩৩ রান করা প্রসন্ন ফিরিয়ে কুমিল্লাকে ট্র্যাকে ফেরান ড্যারেন স্টিভেন্স। দলীয় ৫৪ রানে পরিস্কার বোল্ড হন প্রসন্ন।

ফাইনালে দলের জন্য ভালো কিছু করতে পারেননি বরিশালের অন্যতম ব্যাটিং ভরসা সাব্বির রহমান। ১৯ বল মোকাবেলা করে মাত্র ৯ রান করেন এই মারকুটে ব্যাটসম্যান। দলীয় ৬৮ রানে তাকে সরাসরি বোল্ড করেন কুমিল্লা অধিনায়ক মাশরাফি।

সাব্বির ফিরে গেলেও ক্রিজে দাঁড়িয়ে যান বরিশালের দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও শাহারিয়ার নাফিস। পঞ্চম উইকেট জুটিতে দুজনে মিলে তোলেন ৮১ রান। তবে দুই রানের আক্ষেপ নিয়ে ফিরতে হয় বরিশাল অধিনায়কে। ৩৬ বলে ৬ টি চার ও একটি ছয়ে মাহমুল্লাহ ৪৮ রান করে নুয়ান কুলাসেকারার বলে বোন্ড হন। আর ৩১ বলে নাফিসের ব্যাট থেকে আসে ৪৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস।

লিগ পর্বে দু’বারের দেখায়ও জয় পেয়েছিলো কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।