বন উজার করে কাঠ কাটাঁর মহোৎসব চলছে পার্বত্য এলাকায়

প্রকাশ:| রবিবার, ১৪ জুলাই , ২০১৩ সময় ০৬:১০ অপরাহ্ণ

শফিউল আলম,নিউজচিটাগাং২৪.কম ।। বন উজার করে কাঠ কাটাঁর মহোৎসব চলছে পার্বত্য এলাকায়।আর এ কাঠ চট্টগ্রাম rawjan katjpgজেলার রাউজানের সর্তাখালে। প্রতিদিন বাঁশের ভেলায় ভেসে আসছে হাজার হাজার ঘনফুট পাহাড়ী গোল কাঠ। পাহাড় থেকে নিয়ে আসা ওসব কাঠ বাঁশের এখন বড় বাজার রাউজানের গহিরা কালাচান্দহাট। সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা গেছে সর্তায় ভেসে আসা বাঁশের ভেলা থেকে কাঠ উঠিয়ে স্তুপ করে রাখা হচ্ছে খাল পাড়ের করাত কলে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দেয়া তথ্য মতে উজান থেকে নিয়ে আসা কাঠ, বাঁশ এসে জমা হয় গহিরা এলাকার সর্তা ব্রিজের কাছে। সুযোগ মত বাঁশের ভেলা থেকে কাঠ উঠানো হয় খালে পাড়ের স’মিল গুলোতে। এখানে থেকে গোল ও রদ্দা আকারের কাঠের চালান যায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে। সূত্র মতে গত এক বৎসর পুর্বে সর্তা খাল ও আশ পাশের করাত কল থেকে বনবিভাগের লোকজন অভিযান চালিয়ে বপুল পরিমান চোরাই গোলকাঠ উদ্ধার করেছিল। এ ব্যাপারে থানায় মামলাও হয়। অভিযোগ রয়েছে খাল পথে নিয়ে আসা বাঁশ ও কাঠের চালান আসে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে। সংশ্লিষ্ট সরকারি বিভাগের লোকজনকে চাঁদা দিয়ে এখানে কাঠ,বাশের ব্যবসা চলে। খাল পাড়ের বাসিন্দারা বলেছেন, প্রতি বছর বর্ষার এই মৌসুমে পুরো খালটি দখলে থাকে কাঠ বাঁশ ব্যবসায়ীদের হাতে। বিশাল আকৃতির বাঁশের ভেলা বানিয়ে উপড়ে বেঁধে নেয়া হয় বিভিন্ন মাপের গোল কাঠ। উজান থেকে ওসব বাঁশের ভেলা প্রায় ৫০/৬০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ভিড়ে গহিরার কালাচান্দহাটে,চিকদাইর হক বাজার, হলদিয়ার আমির হাট, নোয়াজিশ পুর নয়া হাট, ফটিকছড়ির সমিতির হাট, রমজুর হাট, হলদিয়ার বইজ্যার হাট, হলদিয়ার ফকিরটিলা বাজার, জানিপাথর পৌছতে সময় লাগে দুই থেকে চার দিন পর্যন্ত। এখানে কাঠ,বাঁশ ব্যবসার সাথে এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জড়িত রয়েছে ।তার ব্যবসায়ীরা দুর্গম পাহাড়ী অঞ্চলের সপ্তাহিক বাজার(মঙ্গলবার)থেকে বাঁশ কাঠ কিনে সেখানে মওজুদ করে রাখে। সুযোগ সুবিধা বুঝে ওসব বাঁশ,কাঠের চালান ভাসায় সর্তা খালে। এই অবৈধ কাঠ ব্যবসায়ীরা কাঠ বাঁশ নিয়ে আসতে দিতে হয় আটটি স্থানে অবস্থানে থাকা সরকারি বেসরকারি লোকজনকে চাঁদা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অপর এক কাঠ ব্যবসায়ীর দাবি পাহাড় থেকে তারা কাঠ,বাঁশ কিনে অনেক কষ্ঠে নিয়ে আসে। দুর্গম পাহাড়ের বিভিন্ন বাজার ঘুরে ঝুঁকির মধ্যে কিনতে হয় ওসব কাঠ,বাঁশ। বিভিন্ন অংকে চাঁদা দিয়ে ও পরিশ্রম করে নিয়ে আসা ওসব কাঠ, বাঁশ অবৈধ বলা যায় না। ব্যবসায়ীদের দেয়া তথ্যানুসারে সর্তা খালের উৎপত্তি খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটির দুর্গম পাহাড়ী অঞ্চল থেকে। পাহাড়ী অঞ্চল খিরাম, সাজেক, বার্মাছড়ি এলাকার সপ্তাহিক বাজার থেকে তারা কাঠ সংগ্রহ করে থাকে। কযেকজজন এলাকার বাসিন্দ্বা তাদের নাম প্রকাশ না করার শর্ত্বে বলেন,, ঘাটে ঘাটে চাঁদা দিয়ে ওসব কাঠ নামানো হয়। কিছু লোক এই ব্যবসা করে কোনো রকমে সংসার চালাচ্ছে। তাদের দাবি খালে আসা বেশিরভাগ কাঠ স্থানীয় জাতের। অপর দিকে কর্ণফুলী নদী, হালদা নদী, দিয়ে প্রতিনিয়ত যান্ত্রিক নৌযান করে কাঠ পাচার চলছে অবাধে। চট্টগ্রাম রাঙ্গামাটি মহা সড়ক ও চট্টগ্রাম- কাপ্তাই মহা সড়ক দিয়ে প্রতিনিয়ত সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সদস্যদের পাহাড়ায় কাঠ পাচার চলছে অবাধে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায় চট্টগ্রাম- রাঙ্গামাটি মহা সড়ক দিয়ে রাতে অবৈধ কাঠ পাচার করে রাউজানের এক তালিকাভ্ক্তূ সন্ত্রাসী গাড়ী, বাড়ী, বিপুল পরিমাণ অর্থ সম্পদের মালিক হয়েছেন। সূত্র আরো জানায় রাউজানের একটি বেসরসকারী ব্যাংক একাউন্টে গত দুই বছরে ঐ সন্ত্রাসী কাঠ পাচার ও মাদক পাচার করে দুই কোটি টাকা তার একাউন্টে জমা রেখেছে। সর্তা খালে মাধ্যামে ভেসে আসা কাঠ,বাঁশের ও কর্ণফুলী নদী চট্টগ্রাম রাঙ্গামাটি মহাসড়ক, কাপ্তাই মহা সড়ক দিয়ে অবৈধ কাঠ পাচার করা প্রসঙ্গে ইছমিতি রেজ্ঞ অফিসার আবুল কালাম খোন্দকার বলেন বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে অবৈধ ভাবে নিয়ে আসা বেশ কিছু কাঠ উদ্ধার করেছি। সর্তা খাল আমার রেজ্ঞের আওতার বাইরে সর্তা খাল দিয়ে কাঠ পাচার সম্পর্কে কিছুই বলতে পারবেনা বলে ইছমিতি রেজ্ঞ অফিসার আবুল কালাম খোন্দকার জানান । ফরেষ্টার অমল দে জানান, অবৈধ কাঠ উদ্বারে অভিযাণ চালিয়ে অবৈদ কাঠ উদ্বার করা হয়েছে ।এ ব্যাপারে মামলাও করা হয়েছে। কালাচান্দহাটের করাত কল গুলোর বৈধ কাগজপত্র আছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি ফরেষ্টার অমল দে বলেন রাউজানে ৩৫ টি করাত কল রয়েছে । ৩৫ টি করাত কলের মধ্যে সব কয়টি করাত কলের লাইসেন্স নবায়ন করা হয়েছে, শুধু একটি করাত কলের লাইসেন্স নেই । উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি)কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি রাউজানের করাত কল সমূহের ওপর তারা একটি জরিপ করেছেন। জরিপে দেখা গেছে ৩৪টি করাত কলের মধ্যে মাত্র ১টিতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ আছে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কুল প্রদীপ চাকমার কাছে জানতে চাইলে তিনি এ ব্যাপারে কিছুই জানেনা বলে জানান ।
পুর্বে উদ্ধার করা কাঠে মামলা প্রসঙ্গে বলেন, কাঠ গুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়ায় সুনিষ্টি কোনো ব্যক্তির বিরোদ্বে মামলা করা যায়নি বলে বন বিভাগের রাউজান ঢালার মুখ বন বিভাগীয় পরিক্ষন ফাড়ির ফরেস্টার অমল জানান। স্থানিয় লোকজন জানান, প্রতিদিন গভীর রাতে চট্টগ্রাম রাঙ্গামাটি সড়ক ও চট্টগ্রাম কাপ্তাই সড়ক দিয়ে পার্ব¦ত্য জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বন উজার করা কাঠ ট্রাক ভর্তি করে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সহায়তায় কাঠ পাচার করা হয়। সুের্যাস্তর পর বনজ দ্রব্য পরিবহন নিষ্দ্বি থাকলে ও প্রতিদিন সন্দ্বা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চট্টগ্রাম রাঙ্গামাটি সড়ক ও চট্টগ্রাম কাপ্তাই সড়ক দিয়ে ট্রাকে করে কাঠ ও বাশ, কাঠর তৈয়ারী ফার্নিসার পরিবহন করা হয় ।