বন্ধু দিবসে বন্ধুর জন্য উপহার

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| রবিবার, ৫ আগস্ট , ২০১৮ সময় ০১:৪২ পূর্বাহ্ণ

কীভাবে এলো বন্ধু দিবস
বন্ধুর প্রতি ভালবাসা চিরকালীন, শেষ হয় না কখনো। সাধারণ খোঁজখবর নেওয়া থেকে বন্ধুর অন্তস্তলের লুকানো খবর যে মানুষটি ধরতে পারে, সেই প্রকৃত বন্ধু। বন্ধু প্রতিমুহূর্তের, প্রতিদিনের, পুরো বছরের। বন্ধু জীবনব্যাপী।

একটু ভিন্নভাবে বন্ধুর প্রতি এই ভালবাসা প্রকাশ করতে পালিত হয় বন্ধু দিবস। আর এ দিবস পালনে আয়োজনের কমতি থাকে না কারোরই। এদিন বন্ধুর পছন্দের জিনিস অথবা চমকে দেওয়ার মতো বিশেষ উপহারে খুশি করতে পারেন প্রিয় মানুষকে। বন্ধু দিবসে কী উপহার দিতে চান, কোথায় গেলে পাবেন, বিস্তারিত লিখেছেন আনিসুর সুমন
দুই অরের ছোট শব্দের মাঝে যেন মিশে আছে বিশ্বস্ততা আর নির্ভরতার মায়া। এ বন্ধন চিরন্তন শাশ্বত, সর্বজনীন। ঠিক কবে থেকে বন্ধু দিবস পালন করা হচ্ছে তার সঠিক ইতিহাস নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। তবে ধারণা করা হয়, ঊনবিংশ শতাব্দীর ত্রিশ থেকে চল্লিশে দশকের মধ্যবর্তী সময়েই বন্ধু দিবস পালন শুরু হয়। বন্ধু দিবস-বিষয়ক ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, দণি আমেরিকার প্যারাগুয়েতে প্রথম বন্ধু দিবস পালন শুরু হয় ১৯৫৮ সালে। প্রথম দিকে বিভিন্ন কার্ড তৈরিকারী প্রতিষ্ঠান ফ্রেন্ডশিপ ডের চল শুরু করে। পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির সঙ্গে এই দিন উদযাপন বিশাল আকার ধারণ করে। কেউ কেউ ধারণা করে বলছেন, এরও আগে থেকে বন্ধু দিবস পালিত হচ্ছে। ১৯৩৫ সাল থেকে বন্ধু দিবস পালনের প্রথা চলে আসছে আমেরিকায়। জানা যায়, ১৯৩৫ সালে আমেরিকার সরকার এক ব্যক্তিকে হত্যা করে। দিনটি ছিল আগস্টের প্রথম শনিবার। তার প্রতিবাদে পরের দিন ওই ব্যক্তির এক বন্ধু আত্মহত্যা করেন। জীবনের নানা েেত্র বন্ধুদের অবদানের প্রতি সম্মান জানানোর ল্েয আমেরিকান কংগ্রেসে ১৯৩৫ সালে আগস্টের প্রথম রোববারকে বন্ধু দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়; ধীরে ধীরে যা আজকের জনপ্রিয় দিবস হয়ে উঠেছে সারা দুনিয়ায়। জীবনের সংকটে বন্ধু ছুটে যান বন্ধুর কাছে। আবার আনন্দ-উল্লাস কিংবা দিনশেষের অবসরেও এরা ভালবাসেন বন্ধুত্বের কলতান শুনতে। বন্ধুত্বের পরিপূরক সম্পর্কের মাঝে এরা খুঁজে পান জীবনযাপনের ভিন্ন রস।

বন্ধুর জন্য উপহার
পরিবারের কাছের মানুষের সঙ্গে যে কথাগুলো সহজে বলা হয়ে ওঠে না, বলা যায় না, এমন বিষয়গুলো শেয়ার করার একমাত্র নির্ভরতার মানুষ বন্ধু। আর এই সম্পর্ক প্রতিদিন সমান গুরুত্বের হলেও বন্ধুকে খানিকটা আলাদা করে মূল্যায়ন
করতেই বন্ধু দিবস। মার্কিন লেখক হেনরি ডেভিড থিওরোর বলেছেন, ‘আমার বন্ধুর জন্য সবচেয়ে
বেশি যা করতে পারি, তা হলো শুধু বন্ধু হয়ে থাকা। তাকে দেওয়ার মতো কোনো সম্পদ আমার নেই। সে যদি জানে যে আমি তাকে ভালবেসেই সুখী, সে আর কোনো পুরস্কারই চাইবে না।’ ভালবাসা, নির্ভরতা, বিশ্বাস ও প্রতিশ্রুতিই হচ্ছে বন্ধুর জন্য একজন বন্ধুর সবচেয়ে বড় উপহার। তবুও ভালবাসার নিদর্শন কে না রাখতে চায়? কে না চায় বন্ধুত্বের স্মৃতি আগলে রাখতে? তাই ভালবাসার নিদর্শন রাখতে বন্ধু দিবসে আপনিও কাছের বন্ধুকে দিতে পারেন এ রকম কিছু বিশেষ উপহার। বন্ধুকে বিভিন্নভাবে খুশি করতে পারেন, বিশেষ উপহার হিসেবে কী দেবেন ভাবছেন! একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে, আপনার প্রিয় বন্ধু কী পছন্দ করেন। বিশেষ উপহার হিসেবে দিতে পারেন এমন কিছু জিনিসের আদ্যোপান্ত উল্লেখ করা হলো।
বন্ধুত্বের বিশেষ কার্ড : বিশেষ দিন বলে বিশেষ কিছু, হতে পারে সেটি কার্ডের মাধ্যমে বন্ধুকে জানিয়ে দেওয়া। এই দিন উপলে পাওয়া যাবে নানা ধরনের, নানা রঙ আর আকর্ষণীয় ডিজাইনের কার্ড। মোবাইল, ফেসবুক, ই-মেইল আর এসএমএসের এ যুগে কার্ডের মধ্যে আজও খুঁজে পাওয়া যায় চিঠির আবেদন। আর্চিস কিংবা হলমার্ক কার্ডের স্বর্গরাজ্য, সাজানো আছে থরে থরে। তাছাড়া নিজেও রঙতুলি দিয়ে মনের মতো করে তৈরি করে ফেলতে পারেন এমন বন্ধুত্বের কার্ড, যা হাতে পেয়ে বন্ধু আবেগে আপ্লুত না হয়ে পারবেন না।
ফুল : বন্ধু দিবসে বন্ধুকে দিতে পারেন হরেক রকম ফুল বা ফুলের তোড়া। যে কোনো ফুলের দোকানেই পেয়ে যাবেন পছন্দসই ফুল ও ফুলের তোড়া। ফুল কিংবা রজনীগন্ধার স্টিক কিনলে দাম পড়বে ২০ থেকে ৫০ টাকা; আকার ও ডিজাইনভেদে ফুলের তোড়ার দাম পড়বে ১৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত। রাজধানীর শাহবাগ, বেইলি রোড, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলসংলগ্ন ফুলের দোকানসহ বেশ কিছু এলাকা থেকে ফুল কেনা যাবে।
ফ্রেন্ডশিপ ব্যান্ড : নিকট সময়ে বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে ফ্রেন্ডশিপ ব্যান্ড খুবই জনপ্রিয়। ফ্রেন্ডশিপ ব্যান্ড কিংবা ব্রেসলেট ছাড়া বন্ধু দিবসের আয়োজন যেন অপূর্ণ থেকে যায়। সুতা, পুঁতি, মেটাল ও পাথরের তৈরি বিভিন্ন রঙ এবং ডিজাইনের ব্রেসলেট ও ফ্রেন্ডশিপ ব্যান্ড বন্ধু দিবসের অনন্য অনুষঙ্গ। মার্কেট, শপিংমল, সুপার শপ ছাড়াও যে কোনো সাজ-সরঞ্জামের দোকানেই পাওয়া যাবে এসব ব্যান্ড ও ব্রেসলেট। দামের মাত্রায়ও বৈচিত্র্য, ২০ থেকে ২০০ টাকা। তবে যেসব ব্যান্ড ও ব্রেসলেটে ঘড়ি যুক্ত থাকে, তার দামটাও বেড়ে যায়। ২৫০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকায় এসব ঘড়িওয়ালা ব্রেসলেট কেনা যাবে।
পুতুল-শোপিজ : নারী বন্ধুদের অনেকের পছন্দের তালিকায় থাকে পুতুল, শোপিস। এবারের বন্ধু দিবস উপলক্ষে কাছের বন্ধুকে সুন্দর একটি টেডি বিয়ার উপহার দিয়ে চমকে দিতে পারেন। ৩০০ থেকে ৩ হাজার টাকার মধ্যেও যে কোনো গিফট শপ থেকে পছন্দের পুতুল কিনতে পারেন। আর শোপিসের ধরনেও রয়েছে বৈচিত্র্যতা, যে কোনো গিফট কর্নার থেকে নান্দনিক শোপিস কিনতে পারেন। সর্বনিম্ন ১০০ টাকা থেকে শুরু হলেও ধরনের উপর নির্ভর করে শোপিসের দাম।
বই : বইকে বলা হয় সবচেয়ে ভালো বন্ধু। বই সবচেয়ে ভালো উপহারও বটে। আপনার বন্ধুর প্রিয় লেখকের নাম আপনি জানেন নিশ্চই? তবে প্রিয় লেখকের কোনো বই কিনে নিন এবং বন্ধু দিবসে তুলে দিন বন্ধুর হাতে। বই কেনার জন্য চলে যেতে পারেন নীলক্ষেত বইয়ের মার্কেট, আজিজ সুপার মার্কেট কিংবা বইয়ের নির্দিষ্ট প্রকাশনীর দোকানে।
মগ : বিভিন্ন ফ্যাশন হাউস, ব্র্যান্ড শপ ও প্রতিষ্ঠিত গিফট শপগুলোয় বন্ধু দিবস উপলে থাকে উপহারে নতুন মাত্রা। ‘মোরা বন্ধু হই কর্মে’, ‘ফ্রেন্ডশিপ ইজ নট আ বিগ থিং, ইটস জাস্ট আ মিলিয়ন লিটল থিং’, ‘বন্ধু তুমি…’ প্রভৃতি বাক্য লেখা বিভিন্ন রঙের মগে খুব সহজেই প্রকাশ করা যায় বন্ধুত্বের গভীরতা। ১০০ থেকে ৩২০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যায় এসব মগ।
অন্যান্য উপহার : গিফট শপগুলোয় বন্ধুকে উপহার দেওয়ার মতো অনেক কিছুই খুঁজে পাবেন, যেমন চাবির রিং, ডায়েরি, ফটোফ্রেম ইত্যাদি। বন্ধুর সঙ্গে আড্ডায় রাঙিয়ে তুলুন বন্ধু দিবস। সেই আড্ডাকে মিষ্টি করে তুলতে পারে বন্ধুর পছন্দের কোনো চকোলেট বক্স। আর্চিসের যে কোনো শোরুম থেকে ফটোফ্রেম কিনতে পারবেন ৮০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায়, গ্লাস কোটেশন ২০০ থেকে ৪০০ টাকা। উপহার ছোট বা বড় হোক, দামি হোক বা সস্তা হোক, সেগুলো হচ্ছে আমাদের অনুভূতি। আর অনুভূতির দাম হচ্ছে অসীম। গান যারা ভালবাসেন এমন বন্ধুকে দিতে পারেন তার পছন্দের শিল্পীর মিউজিক সিডি বা ডিভিডি।
কোথায় পাবেন ভালোমানের গিফট : বন্ধু দিবসের উপহার উপলে ধানম-ির সীমান্ত স্কয়ারের আর্চিসে প্রতিবছরের মতো এবারও মিলবে হরেক রকমের কার্ড, মগ, হাতের ব্যান্ড, ফটোফ্রেম, সফট টয়, গ্লাস কোটেশন ইত্যাদি। কার্ডের দাম পড়বে ৭৫ থেকে ৩৬০ টাকা, মগের দাম ৬০০, হাতের ব্যান্ড ৩০ থেকে ২৫০ ও সফট টয় ৫০০ টাকা। বনানীর রিস্টব্যান্ড হাউসে বন্ধু দিবস উপলে মিলবে হলিউডের ‘ফ্রেন্ডস’ সিরিজের নাম লেখা হাতের ব্যান্ড। এ ছাড়া লালমাটিয়ার আড়ং, হাতিরপুল ও কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউয়ের আর্চিস গ্যালারি, গুলশান শপিং সেন্টারের এশিয়া গিফট কর্নার, হাতিরপুল এলাকার গ্রামীণ সামগ্রী, গুলশান-২-এর ইসলাম হ্যান্ডিক্রাফট রয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে কারওয়ান বাজারের কারুপল্লি, গুলশান এভিনিউয়ের কুমুদিনী হ্যান্ডিক্রাফট, ধানম-ি ১৬ নম্বর রোডের নিডেল ক্রাফট, ধানম-ি ১৫ নম্বর রোডে আছে নিপুণ ক্রাফট লিমিটেড, বনানী ইউএই মৈত্রী কমপ্লেক্সের নকশিকাঁথা কেন্দ্র, গুলশান-২ এলাকায় আছে সোহাগ হ্যান্ডিক্রাফটের শোরুম, যেখান থেকে পছন্দের যে কোনো বিশেষ উপহার কেনা যাবে।
লক্ষ্য রাখতে পারেন : উপহার দেওয়ার বেলায় বন্ধুর শখকে প্রাধান্য দেবেন, নিজের ইচ্ছাকে নয়। বন্ধু গাছপালা পছন্দ করলে, দু-একটি গাছ নিয়ে যেতে পারেন। মোড়ক ছাড়া নেবেন বলে সেটা উপহার হবে না, তা নয়। বন্ধুর যদি লেখার অভ্যাস থাকে, একটা সুন্দর নোটবুক দিতে পারেন। আবার বাইরে টইটই করে ঘুরে বেড়ানো বন্ধুকে দিতে পারেন ব্যাকপ্যাক অথবা একটি রোদচশমা, যদি সে ব্যবহার করে থাকে। দিনণ ভুলে যাওয়া ভোলাবাবুকে আর কিছু দিলেও সঙ্গে একটি টেবিল ক্যালেন্ডার ধরিয়ে দিন। সে জানবে আপনি তার উপকারই করছেন! বন্ধু মেয়ে হলে তাকে গহনা কিনে দিন নিশ্চিন্তে, তবে তার রুচির কথা খেয়াল রেখে। পছন্দের নকশায় একজোড়া কানের দুল বা কয়েক গাছি চুড়ি উপহার হিসেবে তার জন্য দারুণ হবে।