বন্দর‘র কর্মকর্তাসহ ৮জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন

প্রকাশ:| সোমবার, ৩ আগস্ট , ২০১৫ সময় ১১:০৭ অপরাহ্ণ

৩৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ মামলায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সাত কর্মকর্তাসহ আটজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে কমিশন এ চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে। বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য শিগগিরই এ চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হবে বলে জানা গেছে।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন- চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিবহন বিভাগের ২ নম্বর ইউনিটের (জিসিবি ইয়ার্ড) সাবেক উচ্চ বহিঃ সহকারী (বর্তমানে আইসিটি, কমলাপুর) শ্যামল কৃষ্ণ ভৌমিক, ১ নম্বর ইউনিটের সাবেক উচ্চ বহিঃ সহকারী (বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী ট্রাফিক পরিদর্শক) প্রদীপ কুমার মহাজন, ১ নম্বর ইউনিটের সাবেক উচ্চ বহিঃ সহকারী (বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের টিএম দফতরের উচ্চ বহিঃ সহকারী) অধীর কান্তি চক্রবর্তী, বন্দরের সাবেক সহকারী ট্রাফিক পরিদর্শক (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) ছালেহ জহুর, বন্দর কর্তৃপক্ষের এএসআই (বর্তমানে চাকরিচ্যুত) মো. মিজানুর রহমান, সাবেক নিরাপত্তারক্ষী (বর্তমানে বন্দর কর্তৃপক্ষের হাবিলদার) মো. ছগির আহম্মদ, সাবেক বিশেষ নিরাপত্তাকর্মী (বর্তমানে ট্রানজিড ইয়ার্ড) মো. মনির আহম্মদ ও এ্যাবকো এন্টারপ্রাইজের জেটি সরকার বরুণ কান্তি সেন।

দুদক সূত্র জানায়, এ্যাবকো এন্টারপ্রাইজের কিছু পণ্য আমদানি করা হলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের জিসিবি ইয়ার্ড থেকে তা চুরি হয় বলে কর্তৃপক্ষকের কাছে অভিযোগের মাধ্যমে জানানো হয়। পরবর্তী সময়ে আবারো ওই প্রতিষ্ঠানের নামে আমদানিকৃত মামলামাল চুরির ঘোষণা দিয়ে অবৈধভাবে বন্দর থেকে মালামাল ছাড় করে দেয়া হয়। এভাবে এ্যাবকো এন্টারপ্রাইজের নামে আমদানিকৃত বিভিন্ন মালামাল আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে অবৈধভাবে ছাড় করে দিয়ে সরকারের ৩৪ লাখ ৬২ হাজার ৩৪৪ টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়।

সরকারের রাজস্ব আত্মসাতের এ অভিযোগ প্রমাণিত হলে ২০১৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম বন্দর থানায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তে ওই আটজনের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় কমিশন তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে। একইসঙ্গে মামলার এজাহারভুক্ত বাকি ৯ জন আসামির বিরুদ্ধে কোনো তথ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় তাদের এ মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

দণ্ড বিধির ৪২০/৪০৬/৪০৯/৩৮০/৪৬১/১০৯ এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ৫(২) ধারায় চার্জশিটটি দাখিল করা হবে। দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক খন্দকার আখেরুজ্জামান এ মামলার তদন্ত করেছেন।