বন্দরে ৮০০ সিসিটিভি, কালো গ্লাসের যানবাহন প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১১ আগস্ট , ২০১৬ সময় ১১:৩১ অপরাহ্ণ

বন্দর অভ্যন্তরে কালো গ্লাস ব্যবহৃত যানবাহন প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ, বন্দর অভ্যন্তরে ।বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া বন্দর অভ্যন্তরে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।

অন্যান্য সময়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারকে বন্দরের বাড়াবাড়ি বললেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা। তারা বলছেন, বর্তমানে দেশের যে অবস্থা তাতে বন্দরের নিরাপত্তা জোরদার সময়োপযোগী প্রদক্ষেপ।

বন্দর সূত্রে জানা গছে, সম্প্রতি ঢাকার গুলশানে ঘটে যাওয়া সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় বন্দর অভ্যন্তরে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে বন্দরে প্রবেশকারী ব্যক্তি ও যানবাহনের পরিচয় নিশ্চিত করতে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

গত সোমবার (৮ আগস্ট) বন্দরের উপ-পরিচালক (নিরাপত্তা) মেজর রেজাউল হক এ নির্দেশনা জারি করেন। এতে নিরাপত্তার স্বার্থে জারি করা নির্দেশনা মেনে চলার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (এডমিন এন্ড প্ল্যানিং) মো.জাফর আলম বাংলানিউজকে বলেন, বন্দর অভ্যন্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আগামীতে যারা বন্দর জেটিতে প্রবেশ করবেন তাদের ফিঙ্গার প্রিন্ট নেওয়া হবে। প্রত্যেকের তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

তিনি বলেন, ৬০ থেকে ৭০ হাজার মানুষের তথ্য সংগ্রহ করা গেলে একটা ফরমেটে চলে আসবে। ফলে বাকিদের এর আওতায় আনা সহজ হবে।

এদিকে বুধবার(১০ আগস্ট) এক মতবিনিময় সভায় বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম খালেদ ইকবাল সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। বাড়ানো হচ্ছে মনিটরিং।

বর্তমানে ১২৮টি সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও নিরাপত্তার স্বার্থে পর্যায়ক্রমে ৮০০ সিসিটিভি ক্যামরা লাগানো হবে বলে জানান তিনি।

নিরাপত্তা বিভাগ থেকে দেওয়া নির্দেশনায় বলা হয়েছে- বন্দর অভ্যন্তরে প্রবেশের সময় নিজের পরিচয়পত্র বহন করতে হবে। নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত সদস্যদের কাছে পরিচয় প্রকাশ ও প্রয়োজনে বৈধ পরিচয়পত্র দেখাতে হবে। নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত সদস্যরা যাতে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে সেজন্য ধৈর্য সহকারে, ইতিবাচক এবং সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সব ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক বৈধ পরিচয়পত্র যুক্তিসংগত কারণে দেখাতে না পারলে বন্দরের অস্থায়ী একদিনের পাশ ব্যবহার করা যাবে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।এক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে থাকতে হবে। সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক বন্দর অভ্যন্তরে কালো গ্লাস ব্যবহৃত কোন যানবাহন প্রবেশ না করার অনুরোধ জানানো হয়।

আমদানি-রফতানি কার্যক্রমের সঙ্গে বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের লোকজন জড়িত থাকলেও বন্দর জেটিতে সবচেয়ে বেশি প্রবেশ করতে হয় সিএন্ডএফ এজেন্টে’র কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। বন্দর ও কাস্টমসে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হলে তাদের পক্ষ থেকেই প্রতিবাদ আসে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতে তারাও বিষয়টি সহজভাবে মেনে নিয়েছেন। বন্দর কর্তৃপক্ষকে আশ্বস্থ করেছেন সর্বাত্মক সহযোগিতার।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিএন্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম কাস্টমস বিষয়ক সম্পাদক আশরাফুল হক খান স্বপন বলেন, আমরা নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো। যাতে বন্দর অভ্যন্তরে ‘আনঅথরাইজড’ কোন লোক প্রবেশ করতে না পারে।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে অনুষ্ঠিত এক সভায় নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, পরিচয়পত্রের জন্য আমরা ফি জমা দিয়েছি। কেউ কেউ কার্ড পেলেও অধিকাংশই পায়নি। এরপরও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছি।

বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক (পোর্ট এন্ড কাস্টমস) খায়রুল আলম সুজন বলেন, বন্দরে নিরাপত্তা জোরদারের মাধ্যমে দুর্ঘটনা ও চুরি ঠেকানো সম্ভব হবে। কারণ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় কোন দুর্ঘটনা ঘটলে বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে।

মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের যে কোন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আমরা প্রস্তুত। তিনি বলেন, আমাদের নিজেদের জন্যই নিরাপত্তা বাড়ানো দরকার।