বন্দরে ১০ হাজার কার্টন সিগারেট আটক

প্রকাশ:| বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি , ২০১৫ সময় ০৮:০৭ অপরাহ্ণ

কসমেটিকস পণ্য ঘোষণা দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আনা আমদানি নিষিদ্ধ এক কন্টেইনার বিদেশি সিগারেট আটক করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। আটক সিগারেটের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২কোটি টাকা।

৪০ ফুটের ওই কন্টেইনারে বেনসন এন্ড হেজেস, ইজি ও পাইন ব্রান্ডের ১০হাজার কার্টন সিগারেট রয়েছে। এতে পাঁচ কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা করা হয়েছে।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৮ ফেব্রুয়ারি চালানটির আইজিএম ব্লক করে চট্টগ্রাম কাস্টমসের অডিট, ইনভেস্টিগেশন এন্ড রিচার্স শাখা। বুধবার ৪০ফুটের কন্টেইনার চালানটির কায়িক পরীক্ষা শেষে জালিয়াতির বিষয়ে নিশ্চিত হয় কাস্টমস কর্মকর্তারা।

সিঙ্গাপুর থেকে ৭ হাজার ৯২২ ডলার মূল্যের বিভিন্ন ধরণের কসমেটিকস আমদানির ঘোষণা দেয় ঢাকার পশ্চিম মীরপুরের ১৫৫ ওয়াপদা সড়কের এসকে ট্রেড করপোরেশন।

সূত্র জানায়, চালানটি বন্দরে আসার পর আমদানিকারকের পক্ষে পণ্য খালাস নিতে গত ৭ জানুয়ারি বিল অফ এন্ট্রি (সি-২৫৮৮৫) দাখিল করে সিএন্ডএফ এজেন্ট সোহেল ট্রের্ডিং কো.। এরপর গত ৮ ফেব্রুয়ারি চালালনটি অ্যাসেসম্যান্ট করে যাবতীয় শুল্ককর পরিশোধ করা হয়। গোপন সংবাদরে ভিত্তিতে ওইদিন রাতেই খালাস প্রক্রিয়া স্থগিত করে কাস্টমসের এআইআর শাখা।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের সহকারী কমিশনার (এআইআর) আমীমুল ইহসান খান বাংলানিউজকে বলেন, বিভিন্ন প্রকার কসমেটিকস পণ্য আমদানির ঘোষণা দিয়ে সিঙ্গাপুর থেকে ৪০ ফুটের একটি কন্টেইনার আনে এসকে ট্রেড করপোরেশন।

সিএন্ডএফ এজেন্ট পণ্য চালান খালাস নিতে ৭ জানুয়ারি বিল অফ এন্ট্রি দাখিল করে। ৮ ফেব্রুয়ারি চালানের অ্যাসেসম্যান্টের পর শুল্ককর আদায় করে। ওইদিন রাতেই চালানটির খালাস প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়। বুধবার চট্টগ্রাম বন্দরের জেআর ইয়ার্ডে কায়িক পরীক্ষায় জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে।

কসমেটিকস ঘোষণা দিলেও কন্টইনারে আমদানি নিষিদ্ধ বিদেশি সিগারেট রয়েছে। বেনসন এন্ড হেজেস, ইজি ও পাইন ব্রান্ডের সিগারেট পাওয়া গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, তিনটি ব্রান্ডের মোট ১০ হাজার কার্টন সিগারেট পাওয়া গেছে। যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা।

মিথ্যা ঘোষণায় আনা চালানটিতে আমদানিকারক ৫ কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করেছে বলে জানান তিনি।

খালাস প্রক্রিয়া স্থগিতের পর আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা না পাওয়ার কারণে পণ্য চালানটি কায়িক পরীক্ষা করতে দেরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিলঅফ এন্ট্রি দাখিলের পর থেকেই চালানটি নজরদারিতে রেখেছিলাম। ফলে শুল্ককর পরিশোধে কোন বাধা দেওয়া হয়নি। কিন্তু শুল্ক পরিশোধের দুই ঘন্টার মধ্যেই খালাস প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়।

মিথ্যা ঘোষণা পণ্য আমদানির দায়ে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কাস্টমস আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান আমীমুল ইহসান।