বন্দরের সক্ষমতা ২৫ শতাংশের বেশি বাড়ানো সম্ভব নয়

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর , ২০১৫ সময় ০৯:৪৫ অপরাহ্ণ

হগড়সমৃদ্ধির স্বর্ণদ্বার খ্যাত চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রাম চেম্বার মিলনায়তনে বন্দর ব্যবহারকারীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক সভায় ব্যবসায়ীরা এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

পোর্ট ইউজার্স ফোরাম এ বৈঠকের আয়োজন করে। ফোরামের সভাপতি মাহবুবুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য এম এ লতিফ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

সভায় দেশের আমদানি-রফতানি প্রবৃদ্ধি মোকাবেলায় দ্রুত বে-টার্মিনাল ও বাল্ক টার্মিনাল নির্মাণ কাজ শুরু করার দাবি উঠে।

সভায় ব্যবহারকারীরা চট্টগ্রাম বন্দর, কাস্টমস ও বেসরকারী কন্টেইনার ডিপোর বিভিন্ন অপারেশনাল কার্যক্রমের সমন্বয়হীনতা, যন্ত্রপাতি সংকট, কন্টেইনার জট এবং শিপিং এজেন্ট ও ফ্রেইট ফরোয়ার্ডারদের অতিরিক্ত মাশুল আদায়ের সমালোচনা করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এম এ লতিফ বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা ২৫ শতাংশের বেশি বাড়ানো সম্ভব নয় এবং বর্তমান প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আগামী ৫ বছরে বন্দর আর লোড নিতে পারবে না।

‘তাই দেশের চলমান অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বে ও বাল্ক টার্মিনাল নির্মাণ এখনই শুরু করতে হবে। নীতি-নির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করে ফ্যাসিলিটেটরের ভূমিকা পালন করতে হবে।’

প্রাইভেটাইজেশনের মাধ্যমে সরকার দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করছে উল্লেখ করে তিনি বন্দর ব্যবহারকারীদের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার আহবান জানান।
চার্জ সংক্রান্ত সমস্যা নিরসনে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের ২ জন প্রতিনিধির সমন্বয়ে চেম্বারের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠনের পরামর্শ দেন।

এম এ লতিফ বলেন, ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠা চট্টগ্রাম বন্দর যন্ত্রপাতি সংকটের কারণে কার্যক্রম বিঘ্ন ঘটতে পারে না। তাই অতি জরুরি যন্ত্রপাতিগুলো দ্রুত কিনে বন্দরের গতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে। অনেক গেইটে স্ক্যানিং মেশিন না থাকায় বন্দর থেকে পণ্য সরবরাহ ব্যাঘাত ঘটছে, এজন্য চারটি স্ক্যানিং মেশিন কিনতে হবে।

সভায় পার্ট ইউজার্স ফোরামের সভাপতি ও এফবিসিসিআই সহ-সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে বন্দরের কেনাকাটা ও অপারেশনাল কার্যক্রম দ্রুততার সঙ্গে শেষ করতে কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো ইনডেমনিটি দেওয়া যেতে পারে। একইসঙ্গে বন্দরের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়িয়ে কার্যকর করারও দাবি জানান তিনি।

বিভিন্ন অভিযোগ ও সমালোচনার জবাবে চট্টগ্রাম বন্দর সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) জাফর আলম বলেন, বিগত ২০০৫-০৬ সালের তুলনায় কন্টেইনারে ৪৫ শতাংশ এবং সাধারন খাতে ৯৪ শতাংশ যন্ত্রপাতি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এর বাইরে আরো ১৩৮টি যন্ত্রপাতি কেনা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনার হোসেন আহমদ বলেন, বিশ্ববাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে চট্টগ্রাম কাস্টমসেও পণ্যমূল্য শুল্কায়ন করা হচ্ছে। তারপরও সঠিক সুফল পেতে আমার কর্মকর্তাদেরকেও এবিষয়ে কাউন্সেলিং করবো।

এসাইকুডা প্লাস প্লাস সিস্টেম নিরবচ্ছিন্ন করতে বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ এসেছে জানিয়ে তিনি বেলন, আশা করছি বিষয়টি দ্রুত সমাধান হবে।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) জাফর আলম, কাস্টম কমিশনার হোসেন আহমেদ, চেম্বার পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ, বিজিএমইএ’র পরিচালক অঞ্জন শেখর দাশ, সিএন্ডএফ সভাপতি এ কে এম আক্তার হোসেন, বিকডা সভাপতি নুরুল কাইয়ুম খান, বাফা’র আমিরুল চৌধুরী মিজান, অমিয় শংকর বর্মন, শিপিং এজেন্ট এসোসিয়েশন’র এন এস গুহ রায় প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক(পরিবহন) মো. মশিউর রহমান বেগ, চেম্বার সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. নুরুন নেওয়াজ সেলিম, সহ-সভাপতি সৈয়দ জামাল আহমেদ, পরিচালক মাহবুবুল হক চৌধুরী (বাবর), মোহাম্মদ হাবিবুল হক, সরওয়ার হাসান জামিল, মো. রকিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।


আরোও সংবাদ