বন্দরের বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত যথাযত আইনি প্রক্রিয়ায় চলবে

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর , ২০১৪ সময় ১১:৪২ অপরাহ্ণ

বন্দরের বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত যথাযত আইনি প্রক্রিয়ায় চলবে জানিয়ে নৌ-মন্ত্রী শাহজাহান খান বলেছেন, এতে মন্ত্রণায় কোন ধরণের হস্তক্ষেপ করবে না।

শাহজাহান খানচট্টগ্রাম বন্দরের প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের একথা জানান নৌ-মন্ত্রী।

নৌ-মন্ত্রীর সভাপতিত্বে মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রাম বন্দর উপদেষ্টা কমিটির নবম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বন্দরের বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরেন মহিউদ্দিন চৌধুরী।

তার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিকরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানতে চাইলে নৌ-মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি শ্রদ্ধেয় মহিউদ্দিন চৌধুরী বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। এরমধ্যে অনেকগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যৌক্তিক অভিযোগগুলো গ্রহণ করেছি।

সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে তেলবাহী জাহাজ দুর্ঘটনায় চট্টগ্রাম বন্দরের বর্জ্য অপসারণকারী দুটি অত্যাধুনিক জাহাজ না পাঠানোর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বে-ক্লিনার জাহাজের ধারণ ক্ষমতা মাত্র পাঁচ টন। কিন্তু সেখানে সাড়ে তিন লাখ লিটার তেল ছড়িয়ে পড়েছে। এই পরিমাণ তেল জাহাজ দুটির পক্ষে পরিস্কার করা সম্ভব হতো না। এছাড়া বে ক্রসিং অতিক্রম করাটাও ঝুঁকিপূর্ণ ছিল।

চট্টগ্রাম বন্দরের বহুল আলোচিত এনসিটি টার্মিনাল নিয়ে মন্ত্রী বলেন, এনসিটি এখনো সচল রয়েছে। তবে কারা কিভাবে পরিচালনা করবে সে বিষয়টি ঠিক হয়নি।

এনসিটি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কারা পরিচালনা করবে সে বিষয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সেজন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কোন পদ্ধতিতে চালালে দেশ লাভবান হবে সে বিষয়ে কমিটি প্রতিবেদন দিবে। এরআগে দুই ভাগে পরিচালনা হবে।

তবে কতদিনের মধ্যে কমিটি প্রতিবেদন জমা দিবেন সে বিষয়ে মন্ত্রী স্পষ্ট কিছু বলতে পারেননি। সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন দিতে বলেছি।

বন্দরের ক্যাপিটাল ড্রেজিং এর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়ার একটি কোম্পানী প্রকল্পের কাজ নিয়েছিল। কিন্তু তারা কাজ শেষ না করেই পালিয়ে গেছে।

ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের জামানত আটকে রাখা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে উপদেষ্টা কমিটির সদস্য সাংসদ মাইনুদ্দিন খান বাদল, শামসুল হক, এম এ লতিফ, চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল নিজাম উদ্দিন আহমেদ, চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম, বিজিএমএর সাবেক প্রথম সহসভাপতি নাছির উদ্দিন চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। –