বন্দরের ওসিকে আদালতের শোকজ, পরে ক্ষমা

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ৩০ জুন , ২০১৫ সময় ০৭:৫২ অপরাহ্ণ

তেলের নামে কোকেন আমদানির ঘটনায় মামলা না নিয়ে ৫৪ ধারায় আসামিকে ‍চালান দেয়ায় আদালতের হাজির হয়ে ক্ষমা চেয়েছেন বন্দর থানার ওসি একেএম মহিউদ্দিন সেলিম। আদালত ওসি’র জবাবে সন্তুষ্ট হয়ে তার নি:শর্ত ক্ষমা মঞ্জুর করেছেন।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম মোহাম্মদ ফরিদ আলমের আদালতে হাজির হন বন্দর থানার ওসি।

সানফ্লাওয়ার তেলের নামে বলিভিয়া থেকে কোকেন আমদানির ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল খাতুনগঞ্জের খান জাহান আলী লিমিটেডের কর্মচারি গোলাম মোস্তফা সোহেলকে। কিন্তু বন্দর থানা পুলিশ এ ঘটনায় কোন মামলা দায়ের না করে ৫৪ ধারায় জিডিমূলে তাকে আদালতে প্রেরণ করে।

আমলযোগ্য অপরাধ সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্য পাবার পরও সোহেলকে ৫৪ ধারায় চালান দেয়ায় গত ২৪ জুন মহানগর হাকিম মোহাম্মদ ফরিদ আলম বন্দর থানার ওসি একেএম মহিউদ্দিন সেলিমকে শোকজ করেন। তাকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে শোকজের জবাব দেয়ারও নির্দেশ দেন।

মঙ্গলবার ওসি আদালতে হাজির হয়ে লিখিত জবাব দেন এবং বিচারক সন্তুষ্ট হয়ে তাকে অব্যাহতি দেন।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (প্রসিকিউশন) কাজী মুত্তাকী ইবনু মিনান বাংলানিউজকে বলেন, ওসি নিজেই আদালতে হাজির হয়ে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। আদালত তার বক্তব্যে সন্তোষ প্রকাশ করে বিষয়টির সুরাহা করেছেন।

আটকের পর ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হলেও সোমবার সোহেলকে কোকেন আমদানির ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় আদালতের নির্দেশে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে। মঙ্গলবার ওই মামলায় গোলাম মোস্তফা সোহেলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

রোববার (২৮ জুন) নগরীর বন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওসমান গনি বাদি হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯ এর ১(খ) ধারায় মামলাটি দায়ের করেন। সিএমপি কমিশনার মোহা.আব্দুল জলিল মন্ডলের নির্দেশে মামলাটি বর্তমানে তদন্ত করছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ।

মামলায় খান জাহান আলী লিমিটেডের চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদকে আসামি করা হয়। সোহেল তাদের প্রতিষ্ঠান প্রাইম হ্যাচারির ব্যবস্থাপক।

কোকেন সন্দেহে গত ৬ জুন রাতে একটি কনটেইনার বন্দরে সিলগালা করে শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। ৮ জুন এটি খুলে ১০৭টি ড্রামের প্রতিটিতে ১৮৫ কেজি করে সান ফ্লাওয়ার তেল পাওয়া যায়। তেলের নমুনা প্রাথমিক পরীক্ষা করে কোকেনের অস্তিত্ব পাওয়া না গেলে উন্নত ল্যাবে কেমিক্যাল পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।

শনিবার (২৭ জুন) শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর জানায়, কেমিক্যাল পরীক্ষায় একটি ড্রামে তরল কোকেনের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

চালানটি নগরীর খাতুনগঞ্জের খান জাহান আলী লিমিটেডের নামে বন্দরে আনা হয়। তবে এ ধরণের চালান আমদানির বিষয়ে অবগত নয় বলে দাবি করে আসছেন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ।

তবে কনটেইনারটি সিলগালা করার আগে নগর গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালিয়ে গোলাম মোস্তফা সোহেলকে গ্রেপ্তার করেছিল। পরে তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।


আরোও সংবাদ