বন্দরনগরী বহুমুখি সমবায় ২৩ বছরেও দোকান দেয়নি

প্রকাশ:| সোমবার, ৭ ডিসেম্বর , ২০১৫ সময় ০৮:০৭ অপরাহ্ণ

দোকান বরাদ্দের নামে ৮০০ সদস্য থেকে ৪০ কোটি টাকা নিয়ে ২৩ বছর পরও ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ করতে পারেনি বন্দরনগরী বহুমুখি সমবায় সমিতি লিমিটেড। সদস্যদের কাছ থেকে নেওয়া টাকা সমিতির নেতারা আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বন্দরনগরী বহুমুখি সমবায়দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছর ধরে অবৈধভাবে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখা সমিতির কয়েকজন নেতা সদস্যদের টাকায় সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। টাকা ফেরত চাইলে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন সমিতির সদস্যরা।

সোমবার দুপুরে নগরীর একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগী সদস্যরা। তারা জানান, পুরনো কমিটি বাতিল করে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের আদেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। কিন্তু তারা আদালতের আদেশ অমান্য করে আগামী বুধবার(৯ডিসেম্বর) বার্ষিক সাধারণ সভা করে কমিটি গঠনের চক্রান্ত শুরু করেছে। বার্ষিক সাধারণ সভায় উপস্থিত হতে সদস্যদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ১০৮৮ সালে হাউজিং এস্টেট থেকে ২২ লাখ টাকা মূল্যে নরগীর হালিশহর পোর্ট কানেক্টিং সড়ক সংলগ্ন স্থানে সমিতির নামে ৬০ কাঠা জায়গা লিজ নেওয়া হয়। সেখানে বহুতল বিশিষ্ট সুপার মার্কেট নির্মাণের কথা বলে ৫১০ জন সদস্যের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা করে আদায় করেন।

১৯৯৬ সালে ১১তলা বিশিষ্ট সুপার মার্কেটের কাজ শুরু হয়। ৯ তলা পর্যন্ত কাজ শেষ হওয়ার পর নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এরই মধ্যে কমিটির সদস্যদের না জানিয়ে আরো ২৯০ জনকে নতুন সদস্য করা হয়। এসব টাকা নির্মাণ কাজে ব্যয় না করে নিজেরা ভাগভাটোয়ারা করে নেন।

লিখিত বক্তব্যে সমিতির সদস্য আহমেদ হোসেন মিলন বলেন, একজন সচেতন সদস্য হিসেবে আমরা কয়জন খরচের হিসেবে চানতে চাইলে সমিতির নেতারা জানান সব টাকা খরচ হয়ে গেছে তাই কাজ বন্ধ।

তিনি বলেন, এরপর আমরা বিষয়টি সমবায় অধিদফতর এবং মন্ত্রণালয়ে অবহিত করি।

মন্ত্রণালয় তদন্ত করে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটির সুপারিশে কমিটি বাতিল করে দেয়। এরপর তারা আদালতে রিট মামলা করে স্থগিতাদেশ নেন। কিন্তু চূড়ান্ত শুনানিতে স্থগিতাদেশ বাতিল করে ৭ দিনের মধ্যে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের নির্দেশ দেন আদালত।

আদালতের এ আদেশ এখনো কার্যকর হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ডিস্ট্রিক্ট কো-অপারেটিভ কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়ার যোগশাজশে আদালতের আদেশ অমান্য করে ৯ ডিসেম্বর বার্ষিক সাধারণ সভা আহ্বান করেছে।’

আহমেদ হোসেন মিলন বলেন, সমবায় সমিতির নিয়ম অনুযায়ী ৩ বছর অন্তর নির্বাচন হওয়ার কথা। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোন নির্বাচন হয়নি। অথচ এজিএম’র ডাক দিয়েছেন।

‘মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়ার পরামর্শে এ সভা আহ্বান করা হয়েছে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, একটি প্যানেল নিয়ে আসলে সেটি অনুমোদন করে দেবেন।’ যোগ করেন মিলন।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের কালাম আহমেদ, দিদারুল আলম, হোসেন আহমদসহ বেশ কয়েকজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।