‘বনের রাজার’ জুয়ার আসর পন্ড, উত্তেজনা

প্রকাশ:| সোমবার, ১৪ এপ্রিল , ২০১৪ সময় ০৬:২০ অপরাহ্ণ

মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, পেকুয়া থেকে
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার কথিত বনের রাজা জাহাঙ্গীর আলমের জুয়ার আসরে দুই দফায় দফায় সংঘর্ষ পন্ড হয়েছে। এতে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। তবে আহতদের নাম ও পরিচয় পাওয়া যায়নি। প্রশাসনে ঝামেলা এড়াতে আহতদের স্থানীয় সরকারী হাসপাতালে ও ভর্তি করা হয়নি। এসময় স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আজ সোমবার প্রশাসনের কাছ থেকে কোন প্রকার অনুমতি গ্রহণ না করেই স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ধান্ধাবাজ আওয়ামী লীগের নেতাতের ম্যানেজ করে পেকুয়ার শীর্ষ সন্ত্রাসী চুরি, ডাকাতি, অস্ত্রসহ ১০/১২টি মামলার পলাথক আসামী জাহাঙ্গীর আলম ওরফে ডাকাত জাহাঙ্গীর নিজেকে কথিত ‘বনের রাজা’ পরিচয়ে বারবাকিয়ার পাহাড়িয়াখালী গ্রামে বলি খেলার নামে জুয়ার আসরের আয়োজন করেন। আর দিুপুর ১২টার দিকে জুয়ার আসরে টাকা ভাগাভাগি নিয়ে জাহাঙ্গীর আলমের লোকজনের সাথে জুয়াড়ির সাথে কথাকাটি হয়। এক পর্যায়ে সংঘর্ষ হয়। জুয়া আসরে আসা শত শত লোকজন এসময় প্রাণের ভয়ে পালিয়ে যায়। এদিকে স্থানীয় থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে ওই সন্ত্রাসী জাহাঙ্গীর আলম প্রকাশ্যে জুয়ার আসর আয়োজন করায় গত কয়েকদিন ধরে এলাকায় উত্তেজনা চলে আসছিল। স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, ওই জাহাঙ্গীর আলম। পেকুয়ার পাহাড়ে অব্যাহতভাবে সরকারী বনাঞ্চলের বৃক্ষ নিধন করায় খ্যাতি লাভ করেন কথিত ‘বনের রাজা’ হিসেবে।

জানা গেছে, আজ সোমবার ১৩ এপ্রিল পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম পাহাড়ীয়াখালী গ্রামের মাঠে কথিত ‘বনের রাজা’ পরিচয়ধারী জাহাঙ্গীর আলম বলি খেলার আড়ালে অবৈধ জুয়ার আসরের আয়োজন করেছেন। এ নিয়ে ঘটা করে গত কয়েক দিন ধরে পেকুয়ার অলি-গলিতে মাইকে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। জাহাঙ্গীর আলম উপজেলার বারবাকিয়া পাহাড়িয়া খালী গ্রামের জাফর আলম প্রকাশ ডাকাত জাফর আলমের পুত্র বলে জানা গেছে।

এদিকে শীর্ষ সন্ত্রাসী কর্তৃক প্রকাশ্যে জুয়ার আসর ও বলী খেলা আয়োজনের খবর গত কয়েক দিন ধরে মাইকে প্রচার করায় এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে নতুন করে আতংক। কয়েকটি ডাকাতি মামলায় ৫বছর জেলে থাকার পর গত ১বৎসর পূর্বে জামিন নিয়ে এসে ফের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করে পেকুয়ার বি¯তৃত পাহাড়ী অঞ্চলে চুরি, ডাকাতি, হত্যাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ড লাগামহীনভাবে চালিয়ে যাচ্ছে। পাহাড়ে ৮/১০ জনের দেহরক্ষী নিয়ে প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে ঘুরাফেরা করে ওই সন্ত্রাসী জাহাঙ্গীর আলম। তার অপকর্মের বিরুদ্ধে নির্যাতনের ভয়ে স্থানীয়রা কেউ মুখ খোলার সাহস পায়না।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, প্রশাসনের কাছ থেকে কোন প্রকার অনুমতি না নিয়েই স্থানীয় কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতাদের আস্কারায় ওই শীর্ষ সন্ত্রাসী জুয়ার আসরের আয়োজন করেছেন। আর তা মাইকে প্রচার করেছেন। এতে আইন শৃঙ্খলার অবনতির আশংকা ও ঘটেছে।

পেকুয়া থানা সূত্র জানায়, পেকুয়া থানাসহ বিভিন্ন থানায় ওই জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ বহু মামলা রয়েছে। কয়েকটি মামলায় বর্তমানে ওয়ারেন্ট ও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয়রা অবিলম্বে পেকুয়ার সন্ত্রাসী কথিত বনের রাজা নামধারী ডাকাত জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেফতারের জন্য কক্সবাজার
পুলিশ সুপারের নিকট হন্থক্ষেপ কামনা করেছেন।